সোশ্যাল মিডিয়ায় আচ্ছন্ন প্রজন্মের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, জ্যোতি বসু ঠিক কেমন ছিলেন। সিলেবাসেও নিজেকে ঢোকানোর চেষ্টা করেননি। ইউটিউব বা সবজান্তা গুগল ঘাঁটলেও বিরাট কিছু পাবেন না। ঢালাও বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারের আনুকূল্যে জ্যোতি বাবুদের ভেসে থাকতে হয় না। তাঁরা থেকে যান কাজে। তাঁরা থেকে যান চেতনায়। ‘জ্যোতি বসু, ছোট্ট নাম, কী বিরাট ব্যক্তিত্ব’। লিখেছেন স্বরূপ গোস্বামী।
উনি বললেন, এটা হাজার টাকা কেজি, এটা দু হাজার টাকা কেজি। আমাকে এসব বুঝিয়ে কাজ নেই। আমিও নানা জায়গায় যাই। শুনেছি, দামী চা দেওয়া হয়। কিন্তু হাজার টাকার চায়ের সঙ্গে দু হাজার টাকার চায়ের কী তফাত, আমি বুঝি না। ওনার স্ত্রী নিশ্চয় বোঝেন। কিন্তু আমার তো মনে হয়, সব চা গুলোই একই, শুধু প্যাকেট গুলো আলাদা।
কয়েক বছর আগে, জ্যোতি বসুর জন্মদিনে ইজেডসিসি-তে একটি অনুষ্ঠান। সেখানে জ্যোতি বাবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন বর্ষীয়াণ সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। একেবারে ভিন্নধর্মী একটি ভাষণ। বেঙ্গল টাইমসে সেই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। এখনও মাঝে মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপন খেয়ালে লেখাটি ঘুরে বেড়ায়। সেই লেখাটি তুলে ধরা হল।
‘এমন তো কতই হয়।’ দিব্যি এই কথাটা জ্যোতি বসুর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। অথচ, এই কথাটা জ্যোতি বসু কোনওদিন উচ্চারণও করলেন না। তা সত্ত্বেও কী অবলীলায় তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হল। টিভির তর্ক বিতর্কে মাঝে মাঝেই তৃণমূল বা বিজেপির প্রতিনিধি এই কথাটা জ্যোতি বাবুর নামে চালিয়ে দেন। আর সেই চ্যানেলে হাজির বাম নেতা তখন মাথা নামিয়ে কার্যত স্বীকার করেই নেন। এখনও পর্যন্ত কাউকেই বলতে শুনলাম না, ওটা জ্যোতিবাবু বলেনননি। অথচ, সত্যিই জ্যোতিবাবুর মুখ থেকে ওই বাক্যটা বেরোয়নি।