অভিজিৎ গাঙ্গুলি নামটাকে বাঙালি বড্ড ভাল বেসে ফেলেছে। বড্ড বিশ্বাস করে ফেলেছে। সেই ভালবাসা ও বিশ্বাসের সিংহাসন থেকে তাঁকে সরানোর ক্ষমতা ওই কীর্তিমানদের নেই, এমনকী সুপ্রিম কোর্টেরও নেই। লিখেছেন স্বরূপ গোস্বামী।
দ্যুতিমান মুখার্জি ৯৬ এর এক শীতের সকাল। রবিবারের আলসেমি আঁকড়ে, গিরীশ মঞ্চের সিংহভাগ চেয়ার সেদিন ফাঁকা। অনুষ্ঠান শুরু করতে করতে ডাক দিলেন কবিয়াল ‘দিন কাল ভালো নয় বন্ধুরা, আসুন সবাই...
সবকিছুর প্রমাণ লাগে না। সাদা চোখেই অনেক কিছু বোঝা যায়। যে মানুষটি পাঁচ বছর আগে গোটা রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত ভোট হতে দিলেন না। রাজ্যের প্রতিটি ব্লক অফিস গুন্ডা দিয়ে ঘিরে দেওয়া হল। পুলিশ আর আস্ত একটা সরকার নির্লজ্জের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। সেই মানুষটি কিনা বলছে, এবার শান্তিতে ভোট করাতে হবে। ভণ্ডামির তো একটা সীমা থাকে। এই মানুষটি সব সীমাই লঙ্ঘন করেছেন।
এইসব ত্যাগের কথা রেকর্ড বইয়ে থাকে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি দৌড়ে কোথাও একটা সেই মানুষটাকে এগিয়ে দেয়। তাই যাঁদের নামের পাশে একশো টেস্ট বা দশ হাজার রান আছে, দিনের শেষে সেই মানুষগুলোকেও কোথাও একটা ছোট মনে হয় এই মহামানবের কাছে।
গত কয়েক বছরে পর্যটনে একটা নতুন দিক খুলে গেছে। সেটা হল, হোম স্টে। বেড়াতে যাওয়া মানে এখন আর শুধু হোটেল বা রিসর্টে থাকা নয়। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে হোম স্টেতেও থাকতে পারেন।...
শোভন–বৈশাখির শতাধিক ফুটেজ পাওয়া যায়। মদন মিত্রদের ফুটেজ পাওয়া যায়। কিন্তু সমরেশ মজুমদারদের ফুটেজ আর্কাইভ ঘেঁটে পাওয়া যায় না। অথচ, বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে কিন্তু তাঁর ইন্টারভিউ পাওয়া যাবে। যখনই সেই দেশে গেছেন, সেই দেশের প্রথমসারির চ্যানেলগুলো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে রেখেছে। সেগুলো যত্ন করে পরিবেশন করেছে। আর আমাদের এই বাংলার চ্যানেলে তাঁকে পাওয়া যায় না।
বলতে পারেন কলকাতা দূরদর্শনের প্রথম বাংলা সিরিয়াল কী ? কুইজের চমৎকার একটি প্রশ্ন হতে পারে। যাঁরা সারাক্ষণ সিরিয়ালে ডুবে থাকেন, ইচ্ছেনদী থেকে পটলকুমার গোগ্রাসে গিলতে থাকেন, তাঁদের অনেকেই হয়ত তেরো পার্বনের নাম শোনেননি। কীভাবে তৈরি হল সেই সিরিয়াল? কারা ছিলেন ?
রবি ঠাকুর কোন দলের সমর্থক ছিলেন ? তাঁর কোন লেখায়, কোন ক্লাবের কথা কীভাবে উঠে এসেছে ? গোষ্ঠ পালকে দেখে কী বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? এমন নানা অজানা বিষয় উঠে এল ময়ূখ নস্করের লেখায়।
একদিন–দুদিন নয়। প্রায় দু’বছর এরকম একটা অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এপার বাংলার এই জনপ্রিয় লেখককে। আমরা কোনও খোঁজও রাখিনি! এত এত লোক লেখকের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন। তাঁদের কজন জানতেন? কজন খোঁজ রেখেছিলেন?
ইদানীং অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেল হয়েছে। তাঁরা অন্তত এইসব কৃতী মানুষদের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করে রাখছেন। তাই কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের সম্পর্কে আমরা সত্যিই বড় উদাসীন। ফলে, একের পর এক ইতিহাস ও অজানা গল্প ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সেইসব পুরনো দিনের কথা বলার লোকগুলোও হারিয়ে যাচ্ছেন। এখনও সময় আছে, এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা খুব জরুরি। যে যার মতো করে সেই কাজ শুরু করুন।