শোভন–বৈশাখির শতাধিক ফুটেজ পাওয়া যায়। মদন মিত্রদের ফুটেজ পাওয়া যায়। কিন্তু সমরেশ মজুমদারদের ফুটেজ আর্কাইভ ঘেঁটে পাওয়া যায় না। অথচ, বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে কিন্তু তাঁর ইন্টারভিউ পাওয়া যাবে। যখনই সেই দেশে গেছেন, সেই দেশের প্রথমসারির চ্যানেলগুলো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে রেখেছে। সেগুলো যত্ন করে পরিবেশন করেছে। আর আমাদের এই বাংলার চ্যানেলে তাঁকে পাওয়া যায় না।
বলতে পারেন কলকাতা দূরদর্শনের প্রথম বাংলা সিরিয়াল কী ? কুইজের চমৎকার একটি প্রশ্ন হতে পারে। যাঁরা সারাক্ষণ সিরিয়ালে ডুবে থাকেন, ইচ্ছেনদী থেকে পটলকুমার গোগ্রাসে গিলতে থাকেন, তাঁদের অনেকেই হয়ত তেরো পার্বনের নাম শোনেননি। কীভাবে তৈরি হল সেই সিরিয়াল? কারা ছিলেন ?
রবি ঠাকুর কোন দলের সমর্থক ছিলেন ? তাঁর কোন লেখায়, কোন ক্লাবের কথা কীভাবে উঠে এসেছে ? গোষ্ঠ পালকে দেখে কী বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? এমন নানা অজানা বিষয় উঠে এল ময়ূখ নস্করের লেখায়।
একদিন–দুদিন নয়। প্রায় দু’বছর এরকম একটা অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এপার বাংলার এই জনপ্রিয় লেখককে। আমরা কোনও খোঁজও রাখিনি! এত এত লোক লেখকের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন। তাঁদের কজন জানতেন? কজন খোঁজ রেখেছিলেন?
ইদানীং অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেল হয়েছে। তাঁরা অন্তত এইসব কৃতী মানুষদের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করে রাখছেন। তাই কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের সম্পর্কে আমরা সত্যিই বড় উদাসীন। ফলে, একের পর এক ইতিহাস ও অজানা গল্প ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সেইসব পুরনো দিনের কথা বলার লোকগুলোও হারিয়ে যাচ্ছেন। এখনও সময় আছে, এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা খুব জরুরি। যে যার মতো করে সেই কাজ শুরু করুন।
রবীন্দ্রনাথ এমন একটা বিষয়, যাকে ছাড়া চলে না। ঘর সাজাতে রবি ঠাকুর। নিজেকে বুদ্ধিজীবী জাহির করতেও ভরসা সেই রবি ঠাকুর। ট্রাফিক সিগনালেও তিনি, রেস্তোরাঁর মৃদু মন্দ আলোতেও তিনি। তাঁর নিস্তার নেই। লিখেছেন অন্তরা চৌধুরি।
কারা কারা রবীন্দ্রনাথকে দুশ্চরিত্র মনে করেন, হাত তুলুন। রবি ঠাকুরের লেখা পড়ি আর নাই পড়ি, তাঁর বিয়ে নিয়ে, বউ নিয়ে, চরিত্র নিয়ে আমাদের কৌতূহলের অন্ত নেই। রবীন্দ্র জয়ন্তীতেও সেই কৌতূহল থেমে নেই। লিখেছেন ময়ূখ নস্কর।