দেরিতে হলেও বুঝেছেন অঞ্জন

রজত সেনগুপ্ত

একেবারে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন অঞ্জন মিত্র। সব দ্বিধা–‌দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে দেবাশিস দত্তর পদত্যাগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। দারুণ একটি সিদ্ধান্ত।
যদিও নির্বাচন হতে আর বেশি দেরি নেই। তবু সারা বছর ধরে দেবাশিস দত্ত এই সস্তা নাটক দেখে দেখে আমরা সত্যিই ক্লান্ত। গত কয়েক বছরে এই একটি কর্তার জন্য বারবার হাসির খোরাক হয়েছে মোহনবাগান। তবু এমন কর্তাদের কেন যে তোল্লাই দেওয়া হয়, সেটাই মাথায় ঢুকত না।

mohun-bagan3
সারাক্ষণ সস্তা নাটক। কী করে মিডিয়ায় ভেসে থাকা যায়। কতবার যে তিনি পদত্যাগ করেছেন, আর কতবার যে ফিরে এসেছেন, তিনি নিজেও বোধ হয় মনে করতে পারবেন না। টুটু–‌অঞ্জনের বলেই বলীয়ান। অথচ, নিজেকে বিরাট কেউকেটা ভাবতেন। প্রাক্তন ফুটবলারদের অসম্মান করতেন। দলের ফুটবলারদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন। ক্লাবের সদস্য–‌সমর্থকদের আবেগকে মর্যাদা দেওয়ার শিক্ষাটুকুও ছিল না। অহেতুক গায়ে গা পেড়ে আইএফএ, ফেডারেশনের সঙ্গে ঝগড়া। মিডিয়ায় আসার জন্য একের পর এক অহেতুক বিতর্ক তৈরি। পরে ঢোক গিলে ক্লাবের মর্যাদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।
এবারও আবার সেই পদত্যাগের সস্তা নাটক শুরু করেছিলেন। নিজের কাঁধ থেকে সব দায় ঝেড়ে ফেলে অঞ্জন মিত্রের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা শুরু করেছিলেন। নানা বিষয়ে অঞ্জন মিত্রের সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে দেবাশিস দত্তর মতো হ্যাংলা কর্মকর্তার পাশে থাকার কোনও মানেই হয় না। মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে তাঁর আচরণে বারবার লজ্জিত হয়েছি। তাই এই মানুষটা যখন সরে দাঁড়ানো কথা বলেছিলেন, তখন আনন্দই পেয়েছিলাম। তবু একটা আশঙ্কা ছিল, কী জানি, যদি পদত্যাগপত্র গৃহীত না হয়। যাক, সেই সংশয়টা অঞ্জন মিত্র দূর করে দিয়েছেন। ক্লাব প্রশাসন থেকে দেবাশিস দত্তর মতো মানুষদের ব্রাত্য রাখা উচিত, এটা দেরিতে হলেও অঞ্জন মিত্র বুঝেছেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

 

(‌এটি ওপেন ফোরামের লেখা। মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে বেঙ্গল টাইমসের কোনও সম্পর্ক নেই। আপনিও চাইলে আপনার মতামত তুলে ধরতে পারেন। ই মেল মারফত লেখা পাঠাতে পারেন। যে কোনও পক্ষ নিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com) ‌

Previous post তসলিমাকে দেখে ইদ্রিশরা কিছুই শিখবেন না
Next post রাহুল বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখন যথেষ্টই পরিণত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *