স্নেহা সেন
বেশ প্রত্যাশা জাগিয়েই শুরু করেছিলেন। দারুণ সাফল্যও এসেছিল। সাফল্য অনেকেরই মাথা ঘুরিয়ে দেয়। বাংলার পরিচালক জুটি এই স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম নয়।
যে পরিচালকদের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। নন্দিতা মূলত চিত্রনাট্যের দিকটা দেখেন। প্রচার বা প্রোমোশন থেকে দূরেই থাকেন। তুলনায় শিবপ্রসাদ অনেক বেশি পরিচিত।
শুরু সেই মুক্তধারা দিয়ে। ইচ্ছে, রংধনু হয়ে চাপ ফেলে দেওয়া ‘বেলাশেষে’। বাঙালির মনে স্থায়ী আসন করে নেওয়া বলতে যা বোঝায়, অনেকটাই তাই। সেই সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’র পর আবার একসঙ্গে সৌমিত্র–স্বাতীলেখা। অনবদ্য ভাবনা, চমৎকার রূপায়ণ। এল ব্লকব্লাস্টার হিট ‘প্রাক্তন’। দীর্ঘদিন পর জুটি বাঁধলেন প্রসেনজিৎ–ঋতুপর্ণা। কখনও হামি, কখনও পোস্ত। কখনও গোত্র, কখনও কণ্ঠ। বেশ চালিয়েই খেলছিলেন।
হঠাৎ কী যে হল! বানাতে গেলেন থ্রিলার। রক্তবীজ, বহুরূপী, রক্তবীজ ২। পথভ্রষ্ট বলতে যা বোঝায়, তাই। সবার দ্বারা যে সবটা হয় না, এই সহজ সত্যিটা কেন যে বুঝলেন না! এবার এনেছেন ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড। অন্য ঘরানার। কিছুটা গোয়েন্দা কাহিনির গন্ধ আছে। নারীদের প্রাধান্য আছে। কিন্তু গল্পটা একেবারেই দানা বাঁধল না।
শুধুতেই দেখা যাচ্ছে এক জমিদারের মৃত্যু। স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি খুন! এই নিয়েই চিত্রনাট্য এগিয়ে চলল। কখনও চেনা কক্ষপথে, কখনও আজগুবি গোলকধাঁধায়। আর এই গোলকধাঁধাতেই পথ হারাল ছবিটা। পরে জট ছাড়াতে হবে বলেই যেন ইচ্ছাকৃত জট লাগানো হল। ফুলপিসি হিসেবে সোহিনীর অভিনয় কিছুটা উতরে দিয়েছে। কমিক রিলিপ হিসেবে থানার দারোগা রজতাভর উপস্থিতি কিছু বাড়তি বিনোদন আনে। গ্রামের লম্পট জমিদার ও সেই জমিদারবাড়ির কেচ্ছা নিয়ে কম সাহিত্য বা কম সিনেমা নেই। কিন্তু এই ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে এমন পটভূমি কিছুটা যেন বিরক্তি এনে দেয়। বিশেষ করে যাঁরা বেলাশেষে বা প্রাক্তনের মতো ছবি বানান, তাঁদের কাছে এই জাতীয় ছবি প্রত্যাশিত নয়। এমনকী গতবছর এই সময় যে ‘আমার বস’ বানিয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও নয়।
তবু ভাল, থ্রিলার থেকে অন্তত বেরিয়ে এসেছেন।
সবার একটা নিজস্ব ঘরানা আছে। যে শট বৈভব সূর্যবংশীকে মানায়, তা কখনই চেতেশ্বর পুজারাকে মানায় না। যে শট বীরেন্দ্র শেহবাগ খেলতেন, সেটা কি রাহুল দ্রাবিড়কে মানাত? শিবু–নন্দিতা জুটি বাংলা ছবির সম্পদ। কিন্তু বৈচিত্র আনতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের খাটোই করেছেন। আবার নিজের ঘরানায় ফিরে আসুন।
