ভারত কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল, সেটাই মাঝে মাঝে গুলিয়ে যাচ্ছে। মাঠের মধ্যে অবশ্যই নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু কোচ গৌতম গম্ভীরের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তিনি হয়তো বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের হারিয়েই বিশ্বকাপ জিতলেন।
বিরাট এবং রোহিত— দুজনই দু’বছর আগে ভারতকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার দিনেই টি২০ ঘরানা থেকে অবসর ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও তাঁদের ভূত যেন তাড়া করছে গুরু গম্ভীরকে। ভারত বিশ্বকাপ জিতল, এ তো আনন্দের খবর। খেলোয়াড়দের যেমন অভিনন্দন প্রাপ্য, কোচেরও অভিনন্দন প্রাপ্য। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিনেই এভাবে বিরাট–রোহিতদের খোঁচা দেওয়ার কোনও দরকার ছিল?
গম্ভীর মশাই বলতেই পারেন, ‘আমি তো কারও নাম করে কিছু বলিনি।’ কিন্তু তাঁর ইঙ্গিত কোনদিকে, এটা বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি এসে নাকি তারকা প্রথা শেষ করতে চাইছেন। এতদিন ভারতীয় ক্রিকেট নাকি তারকা প্রথায় আচ্ছন্ন ছিল। মিডিয়াও নাকি তারকাদের নিয়েই মাতামাতি করেছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন এগুলো বলার মানে কী?
আসলে, অপেক্ষায় ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন হতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। বিরাট–রোহিতদের চাই না, সরাসরি বলতে পারছেন না। ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তারকাদের জায়গা নেই। শেষ দুটো একদিনের সিরিজে বিরাটের কী অবদান, সেটা গম্ভীরবাবু এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন! বিরাট–রোহিতরা তো টেস্ট থেকেও অবসর নিয়েছেন। ভারতকে কেমন লেজে গোবরে হতে হচ্ছে, সে তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি।
নানা কারণে, ধোনি বা বিরাটের ওপর গম্ভীরের পুরনো কিছু রাগ আছে। সেগুলো কিছুতেই ভুলতে পারেন না। নানা সময়ে সেগুলো বেরিয়ে আসে। ২০১১ বিশ্বকাপে ধোনি শুধু ছক্কা মেরে জেতাননি, দলের কঠিন সময়ে দুরন্ত একটা ম্যাচজেতানো ইনিংস খেলেছিলেন। হ্যাঁ, ফাইনালে গম্ভীরের ইনিংসটাও মূল্যবান। কিন্তু জনতা যদি ধোনির কৃতিত্বকে বাড়তি গুরুত্ব দিতেই চায়, এত গোঁসা করার তো কিছু নেই। মুখে বলছেন, তারকা প্রথায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু তারকাদের ছেঁটে ফেলে নিজেই তো তারকা হতে চাইছেন।
