না বুঝেই সেদিন হেয় করা হয়েছিল প্রণববাবুকে

প্রণববাবু রাষ্ট্রপতি ভবনকে বিদায় জানিয়েছিলেন। তার ওপর বয়সও হয়েছিল। তিনি যে আর কোনও দিনই সক্রিয় রাজনীতি করবেন না, এটুকুও সেদিন বোঝেননি সবজান্তা বিশেষজ্ঞরা।এই জ্ঞানগম্যি নিয়ে এঁরা কিনা টিভি চ্যানেলে বসেন! লিখেছেন ধীমান সাহা।

কেন প্রণববাবুকে রাষ্ট্রপতি করতে চাননি সোনিয়া?‌

সোনিয়া গান্ধী শুরুতেই বলেছিলেন, ‘‌রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার চেয়ে যোগ্য এইমুহূর্তে কেউ নেই। কিন্তু আপনি আমাকে বলে দিন, সরকারে এবং দলে আপনি যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, আপনি চলে গেলে সেটা কে করবে?‌ আপনার বিকল্প আপনিই খুঁজে দিন। আমি আজকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আপনার নাম ঘোষণা করে দিচ্ছি।’‌

প্রাইম টাইমে শুধু রিয়া আর যুদ্ধের দামামা

দেশপ্রেমের ধ্বজা ওড়ানো সবথেকে চিৎকার করা চ্যানেলটি সারাক্ষণ ব্যস্ত রইল রিয়া চক্রবর্তী আর তার ভাই শৌভিককে নিয়ে। এমন চিৎকার, এমন উত্তেজনা, যেন মন হচ্ছে দেশে যুদ্ধ লেগে গেল। রাত দশটা পর্যন্ত এইসব কীর্তনই চলল। একটি চ্যানেল তো সারাক্ষণ ভারত–‌চীন যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে গেল। চীন কী ষড়ষযন্ত্র করছে, ভারত কীভাবে পাল্টা জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে, এই কাসুন্দি কতদিন ধরে যে চলবে, কে জানে‌!‌

এই সংযম কজন দেখাতে পারেন!‌

বিরোধীতার নামে কী কদর্য আক্রমণ চলছে চারদিকে। কেন্দ্র, রাজ্য সব জায়গায় যেন একই সংস্কৃতি। বিরোধী আর শাসক যেন পাল্লা দিয়ে কুরুচিকর কথা বলে যাচ্ছে। সেই আবহে মূর্তিমান এক ব্যতিক্রম হলেন প্রণববাবু। শাসকের ভূমিকায় যেমন দেখা গেছে, তেমনি বিরোধীর ভূমিকাতেও কেটেছে লম্বা সময়। কখনও মুখ থেকে একটিও আপত্তিজনক মন্তব্য শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। যাঁরা টুইট করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন, তাঁরা যদি এই শিষ্টাচার, সহবৎ শিখতেন!‌

আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টকেই নিতে হবে

প্রধান বিচারপতি যদি অবসর নেওয়া একমাসের মধ্যেই রাজ্যসভায় মনোনীত হন, তাহলে এই প্রশ্ন তো উঠবেই। অবসর নেওয়ার একমাস যেতে না যেতেই তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাতে হল!‌ কীসের পুরস্কার?‌ কীসের প্রতিদান?‌ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পারলেন না এই সামান্য প্রলোভনটুকু জয় করতে?‌ এই বিষয়গুলোই অনাস্থা তৈরি করে। এই অনাস্থাকে কাটানোর দায়িত্ব বিচারপতিদেরই নিতে হবে।

মন্দির নির্মাণের আস্ফালন বুঝিয়ে দিল বিশ্বকবি কতখানি প্রাসঙ্গিক

রবি ঠাকুরের কবিতার শেষ পংক্তির সঙ্গেও কি আশ্চর্য মিল বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি বা সমর্থকদের। সেখানে সাধু নরোত্তমকে ক্রুদ্ধ রাজা বলছেন, ‘‌ভণ্ড পামর, মোর রাজ্য ত্যাগ করে এ মুহূর্তে চলি যাও।’‌ দেশের এই দারুণ দুর্দিনে ‘‌রামমন্দির’‌ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই জবাব আসছে, ‘‌দেশদ্রোহী। হিন্দুত্বের কলঙ্ক। ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাও পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশে!’‌ কী অসাধারণ দূরদর্শিতা বিশ্বকবির! ওপেন ফোরামে বিশেষ প্রতিবেদন।

ঠুকে দেওয়া ছাড়া যোগীর কিছুই করার নেই

কেন পুলিশ আইন হাতে তুলে নিলে মানুষ খুশি হচ্ছে, বিচার বিভাগ ভাবুক। এর পরেও দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে না?‌ পাশাপাশি, এই সরকারও যে দোষীর শাস্তি দিতে পারে না, সেটা সরকার নিজেই প্রমাণ করে দিচ্ছে। কিন্তু নিজের ব্যর্থতাকেও যে এভাবে সাফল্যের মোড়কে বিজ্ঞাপন করা যায়, সেটা বিজেপিকে দেখেই শিখতে হয়।

ফাঁদে পা না দিয়েই বাজিমাত

‌ সারা দেশের চোখ তখন ঝাড়খণ্ডের দিকে। চ্যানেলে চ্যানেলে চলছে বিশ্লেষণ। চ্যানেলওয়ালাদের অপেক্ষা, কখন তিনি বেরিয়ে আসবেন। কখন সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। অবশেষে মঞ্চে তাঁর আবির্ভাব। হেঁটে নয়। সাইকেলে। সামনের সিটে...

চায়ের দোকান আর সংসদ এক নয়, বিরোধীরা কবে বুঝবেন!

এভাবেই সংসদের বিতর্ক ক্রমশ লঘু হয়ে যাচ্ছে। কোন বিল নিয়ে কাকে বলানো উচিত, সেই সিদ্ধান্তটাই নিতে পারছে না বিরোধীরা।পাড়ার চায়ের দোকান আর সংসদ যে এক নয়, এই সহজ ব্যাপারটাই বিরোধীরা এখনও বুঝতে চাইছেন না। এমনিতেই অনেকে হেরে গেছেন। বিরোধীদের অনেক বড় বড় বক্তা লোকসভায় আসার ছাড়পত্রই পাননি। যে কয়েকজন আছেন, তাঁদেরকেও যদি ঠিকঠাক তুলে ধরা না যায়, আখেরে কার লাভ! লিখেছেন সৌম্যদীপ ঠাকুর।

বৈঠক রুদ্ধদ্বার হলে সংশয় তো হবেই

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক। অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তবু সংশয় তৈরি হয়, কারণ এই সংশয় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তৈরি করেছেন। এরপর যদি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়, যদি সিবিআই নামক যন্ত্রটি আবার শীতঘুমে চলে যায়, তখন সেই সংশয় বিশ্বাসে বদলে যাবে।