টিলার উপর বেশ অনেকটা উঠতে হয়েছিল। সামনে বিশাল বারান্দা। খোলা ছাদের মতো। মাথায় বিবর্ণ লাল টালি। গ্রিল ভেঙে পড়েছিল। পিছন দিকে ছাদ ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়া কালো ইঁটের চিমনি। এক্কেবারে সাহেব বাংলো। বুদ্ধদেব গুহর বাড়ি যাওয়ার সেই স্মৃতি উঠে এল অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায়।
আফগানিস্তানে চাকরি জীবন কাটিয়ে আসার অন্তত কুড়ি বছর পর লেখা হয়েছিল দেশে বিদেশে। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। অথচ, কোথাও কোনও ডায়েরির সাহায্য নেননি। পুরোটাই লিখেছিলেন স্মৃতি থেকে। সৈয়দ মুজতাবা আলির জন্মদিনে এমন কথা উঠে এল হেমন্ত রায়ের লেখায়।
একা সুচিত্রা, একা তিনি। একঘরে ঠিক একঘণ্টা পাঁচ মিনিট। সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি রোমন্থন করলেন তুষার প্রধান।
স্মৃতির জোয়ারে ভাসতে ভাসতে ডুবে গিয়েছিলেন অনেকটাই গভীরে। হঠাৎ হাসপাতালের ভিতরে এক কোলাহলের শব্দে ডুবে থাকা অতীত জীবনের স্মৃতি থেকে সম্বিত ফিরে পেয়ে রুদ্রশেখর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন, বেলা অনেকটাই গড়িয়ে গেছে। ধীর পদক্ষেপে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি ভেজা রাস্তা ধরে ঘরের দিকে এগোতে লাগলেন। একটা কথাই বারে বারে ঘুরে ফিরে মনে হচ্ছিল, তাঁর জীবনটাই ঝড়–জল বৃষ্টিতে ভেজা এক দিকভ্রান্ত ক্লান্ত পথিকের মতো, রৌদ্রের পরশ এ জীবনে আর হয়ত পাওয়া হল না। বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্তর গল্প— দিকভ্রান্ত পথিক।
অনুজ কবি, সাহিত্যিকদের বলতেন, রোজ একটা সময় বেছে নাও। কিছুক্ষণের জন্য হলেও সাদা পাতার সামনে বোসো। হয়ত কোনও লেখাই এল না। বা যেটা লিখলে, সেটা একেবারেই পছন্দ হল না। হয়ত নিজে লিখে নিজেই ছিঁড়ে ফেলে দিলে। তবু, দিনের একটা সময় অন্তত সাদা পাতার সামনে বোসো। কিছু একটা লেখার চেষ্টা করো। মনে রাখবে, লেখাও একটা সাধনা। লিখতে বসলেই মাথায় ভাবনা ঠিক এসে যাবে। কলম বেয়ে ঠিক নেমে আসবে।
আসলে, কোনটা গর্বের, কোনটা লজ্জার–এই সাধারণ বোধটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে। যেটা লজ্জার বিজ্ঞাপন হতে পারে, সেটাকে গর্বের বিজ্ঞাপন হিসেবে তুলে ধরার কী হাস্যকর চেষ্টা।
যাঁরা তৃণমূলে ফিরলেন বা ফিরবেন, তাঁদের কারা ভোট দিয়েছেন? যাঁরা তৃণমূলকে পছন্দ করেন না, তাঁরা। কিন্তু তাঁদের রায়ের কী চমৎকার প্রতিদানই না দিলেন এই সদ্য নির্বাচিত বিধায়করা। এক স্ত্রী থাকতে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তাকে চরিত্র হীন বলা হয়। এক দলের টিকিটে জিতে তিন মাসের মধ্যে অন্য দলে নাম লেখালে কেন তাঁদেরও চরিত্রহীন বলা হবে না?
‘সেই সাতজন নেই, আজও টেবিলটা তবু আছে।’কিন্তু শেষ তিনটি লাইন তিনি লিখেছিলেন চেন্নাইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে বসে, একটি সিগারেটের প্যাকেটের উল্টো পিঠে। এক চেনা লোকের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দেন সুপর্ণকান্তির কাছে। তারপর সুপর্ণকান্তির সুরে মুম্বইয়ে গানটি রেকর্ড করেন মান্না দে। তৈরি হয়ে যায় একটা ইতিহাস।
শ্যামবাবু যদি তৃণমূলেই থাকতেন, তাহলে কি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আদৌ সক্রিয় হত? তাহলে কি তাঁকে গ্রেপ্তার করার হিম্মৎ দেখাতো? যেই তিনি বিজেপিতে গেলেন, অমনি তিনি খারাপ লোক হয়ে গেলেন। অমনি, তাঁর কেলেঙ্কারি খোঁজা শুরু হয়ে গেল! কই, যাঁরা তৃণমূলের বর্তমান চেয়ারম্যান, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে তো এমন তদন্ত হচ্ছে না।
মনস্তাত্ত্বিকরা বলেন, যাঁরা অত্যন্ত ছবিপ্রিয় হয়ে থাকেন, যাঁরা নিজেদের ছবিতে বারবার জাহির করতে চান, তাঁদের অন্য কতগুলো বৈশিষ্ট আছে। ১) তাঁরা ভয়ঙ্কর আত্মকেন্দ্রিক। নিজেকে ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। ২) অন্যের সম্পর্কে তাঁরা একেবারেই শ্রদ্ধাশীল হন না। অন্যরা কেউ কিছুই জানে না। তিনি আছেন বলেই সবকিছু চলছে, এমনটা জাহির করেন। ৩) যোগ্য লোকেদের ধারেকাছে তেমন ঘেঁসতে দেন না। যদি কেউ তাঁকে ছাপিয়ে যায়। ৪) এঁরা স্তাবক পরিবৃত হয়েই থাকতে ভালবাসেন।