রজত সেনগুপ্ত
ধরা যাক, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ইচ্ছে হল, তিনি এবার কোনও একটা রাজ্যের রাজ্যপাল হবেন। বা ইচ্ছে হল, কোথাও রাষ্ট্রদূত হবেন। ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে?
টুটু বসুর হয়েছে সেই অবস্থা। ছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি। ক্লাবের গঠনতন্ত্রে সর্বাধিক ক্ষমতাশালী হলেন সভাপতি। অথচ, তিনি এবার চাইলেন সচিব হতে। ভোটেও দাঁড়িয়ে গেলেন। কার বিরুদ্ধে? বাল্যবন্ধু অঞ্জন মিত্রর বিরুদ্ধে। শেষমেষ অঞ্জন নাম তুলে নিলেন ঠিকই, কিন্তু অঞ্জনের বিরুদ্ধে টুটু বসু দাঁড়িয়েছিলেন, এই ইতিহাস তো মিথ্যে হয়ে যাবে না।
সব পদেই নির্বাচন হল, শুধু সচিব পদ ছাড়া। টুটু বাবু বিনা লড়াইয়েই জিতলেন। ভাল কথা। তিনি এবার ক্লাবের সচিব। ছিলেন সভাপতি, হলেন সচিব। সম্মান বাড়ল নাকি কমল ? এটাকে কি আদৌ জয় বলা যায়? প্রণববাবু যদি রাষ্ট্রপতি থেকে রাজ্যপাল হতেন, তাহলে কি বলা যেত প্রণববাবুর প্রমোশন হল?
আসলে, ক্ষমতা এমন একটা জিনিস, কেউ সহজে হাতছাড়া করতে চায় না। কেউ ক্ষমতা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কেউ ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সভাপতি পদটা অনেকটাই আলঙ্কারিক। অনেকটা সম্মানজনক। কিন্তু সচিব হলে দায়িত্ব অনেক। সেখানে প্রায় রোজ ক্লাবে হাজিরা দিতে হয়। নানা বিষয়ে জড়িয়ে থাকতে হয়। টুটুবাবুর সেই সময় আছে তো? তিনি তো বছরে মেরেকেটে পাঁচ–ছদিন ক্লাবে আসেন। বোঝাই যাচ্ছে, টুটুবাবুর বকলমে ছেলে সৃঞ্জয়ই কাজ চালাবেন। কিন্তু সৃঞ্জয়কে ভোটের আগে প্রোমোট করলে হয়ত অনেকেই মেনে নিতেন না। তাই আপাতত টুটুবাবুর নাম সামনে থাকবে, কাজ চালাবেন সৃঞ্জয়।
কী জানি, পরে আবার দুম করে সভাপতি হয়ে যেতে পারেন টুটু বাবু। সভাপতি থেকে যদি সচিব হতে পারেন, সচিব থেকে আবার সভাপতি হতে বাধা কোথায়?

