রাহুল সেনাপতি
আসানসোল যেতে চেয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি কোনও একটি জায়গায় যেতেই পারেন। শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নিতেই পারেন। কিন্তু কেন যেতে হচ্ছে রাজ্যপালকে?
তিনি যদি শুধু প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে যেতেন, আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু তিনি যাচ্ছেন একটি বিশেষ শিবিরকে খুশি করতে। আসানসোল–রানিগঞ্জ কেন উত্তপ্ত হয়ে উঠল, সেই কারণটা তাঁর অজানা নয়। একটি দল চাইছে রাজ্যে দাঙ্গা হোক। সেই দাঙ্গার জন্য যা যা প্ররোচনা দেওয়া দরকার, দিয়ে চলেছে। টিভিতে প্ররোচনা, সোশাল মিডিয়ায় প্ররোচনা, পথে–ঘাটে প্ররোচনা।

রামের প্রতি এতই ভক্তি! এতদিন এই ভক্তি কোথায় ছিল? ভক্তি যত না আছে, হুঙ্কার ও ঘৃণা তার থেকে ঢের বেশি। এই রামনবমীর পরিণতি কী হতে পারে, সবাই বুঝতে পারছিলেন। রাজ্য শাসক দলের দিক থেকেও ত্রুটি আছে। তারাও বিজেপির সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। তাঁরাও হনুমানের মতো রাম ভজনায় মেতে উঠেছিলেন। নেতা–মন্ত্রীরাও রামনবমীর মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন। চারিদিকে এত রামভক্তির ছড়াছড়ি। এত ভক্তি মোটেই সুলক্ষণ নয়।
দাঙ্গা কখনও নিজে নিজে হয় না। স্বতস্ফূর্ত আবেগ থেকেও হয় না। দাঙ্গা সংগঠিত করা হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যারা প্রকাশ্যে দাঙ্গা করতে চাইছে, যারা ঘৃণার বীজ ছড়াতে চাইছে, রাজ্যপাল তাদের খুশি করতে আসানসোল যেতে চাইছেন, এটাই সবথেকে বড় আশঙ্কার কারণ। সেখানে গিয়ে কী করবেন? বলবেন শান্তি ফিরে আসুক। প্রশাসনকে নির্দেশ দেবেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
কিন্তু যাঁরা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলল, তাঁদের ধিক্কার দিতে পারবেন? তাঁদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলতে পারবেন? তাহলে যাওয়ার দরকার কী? প্রশাসনিক প্রধান হয়ে এই নোঙরামিতে আপনি নাইবা সামিল হলেন!
