ডোমকলের জয়টা অবশ্যই বামেদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। এই জয় ফ্লুকে এসেছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আছে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য মুখে ভরসা রাখা। মুস্তাফিজুর রহমান রানা ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি করেননি। দৈনন্দিন সংযোগকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বামেরা ক্ষতায় আসবে না, এই সত্যিটা জানার পরেও মানুষ সেই তাঁকেই ভোট দিয়েছেন।
হিসেব না মিলতেই পারে। কিন্তু এমন তুমুল ডিগবাজি মারার কী আছে? খোদ বিজেপি সভাপতি যখন ভাবতে পারেননি, আপনিও না হয় পারেননি। এটা মেনে নিতে কুণ্ঠা কীসের? কিন্তু ওই যে, সবজান্তা সাজতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দলকে জিতিয়ে কিনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা জানানো! হ্যাঁ, গণতন্ত্র এমন আজব কাণ্ডও ঘটাতে পারে। সে সবাইকেই তার মতো করে আয়না দেখিয়ে দেয়।
আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়? কেন ৩৫ নয়? এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।
অতএব, শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তাঁদের কাছে ব্রেকিং নিউজ। গলা ফুলিয়ে বলতে হয়, আমাদের কথাই মিলে গেল। কোনদিন বলে বসবে, কাল সকালে পূ্র্বদিকে সূর্য উঠবে। তারপর সকাল হলেই তারস্বরে চিৎকার জুড়বে, আমরাই প্রথম বলেছিলাম, সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেল। হে মোর দুর্ভাগা বাংলা, এই গণৎকারদের থেকে সাবধান।
নেত্রীর আদর্শে যাঁরা এত বেশি ‘অনুপ্রাণিত’, নেত্রী একটু বিপাকে পড়তেই তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার কী হুড়োহুড়ি। মমতার প্রতি এঁদের আনুগত্য বা দলের প্রতি এঁদের আনুগত্য কতখানি, তা বেশ বোঝা গেল। এঁরা আসলে কেউই মমতা পন্থী ছিলেন না, ছিলেন ক্ষমতাপন্থী। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। তাই, এঁদের ডিগবাজি শুধু সময়ের অপেক্ষা।
দিনভর এত চ্যানেলের এত খবরের ভিড়েও গিল পারচেজড এর বিষয়টি উঠে এল না। কোনও ইউটিউব চ্যানেলেও এর কোনও উল্লেখ নেই। কোনও বিশেষজ্ঞের আলোচনাতেও নয়। কারণটা কী? যাঁরা এখন চ্যানেলের সঞ্চালক বা যাঁরা ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসেছেন, তাঁদের অধিকাংশই হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা বিশেষজ্ঞ। ২০০১ সালের ঘটনাক্রম সম্পর্কে তাঁরা পরিচিত নন। আসলে, তখন তাঁরা রাজনীতির খবরই সেভাবে রাখতেন না।
কার পাল্লা ভারী? তৃণমূলের প্রতি ঘৃণার নাকি বিজেপির প্রতি ভরসার? এখানেও সেই চাল আর কাঁকর মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আলাদা করা কঠিন। তবু যদি আলাদা করা যেত, হয়তো বোঝা যেত, ভরসার থেকে ঘৃণার পাল্লাটাই ভারী। বিজেপি যত না গ্রহণযোগ্য, তৃণমূল ঢের বেশি বর্জনযোগ্য।
ভোট পর্ব শেষ। এখন অপেক্ষা ফলাফলের।
কেমন ভোট হল? কারা এগিয়ে? সমীক্ষা কী বলছে? বাস্তবের ছবিটাই বা কেমন? বাঙালির কাছে এই নির্বাচন কেন উভয় সংকট? নানা আঙ্গিক থেকে আকর্ষণীয় কিছু লেখা।
এবারও এক্সিট পোল যাই বলুক, বাস্তবের মাটির গন্ধ চিনতে হয়তো কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। টিভি চ্যানেল বা ফেসবুক দেখে আমরা যতই উল্লাসিত হই, যারা তৃণমূলকে অক্সিজেন দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁরা এই ফেসবুকের বৃত্তের অনেক বাইরে। তাঁদের জীবনের স্পন্দন থেকে আমরাও অনেক দূরে।