হয়ত শিরোনাম দেখে অনেকে অবাকই হবেন। কিন্তু আমার মনে হয়, এইমুহূর্তে এটাই জরুরি। আমরা ছোট বেলা থেকেই গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেছি। কোনও কোনও স্যার থাকতেন, যাঁরা মারধর করতেন। আমরা ভয় পেতাম। কী জানি, সেই কারণেই হয়ত তেমন দুষ্টুমি করতাম না।
অরণ্য ঘেরা সুতানে ফেরা যাক। পৌঁছেই চোখে পড়বে এক বিশাল ওয়াচ টাওয়ার। সেখানে উঠে মাইলের পর মাইল এই আদিম অরণ্যের বিস্তৃতি দেখা যায়। যতদূর চোখ যাবে, শুধুই জঙ্গল। সেই ওয়াচ টাওয়ারের পাশেই রয়েছে এক সুবিশাল জলাশয়। একটা সরকারি কটেজও রয়েছে। তৈরি হয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে কিছু কাজ থমকে গিয়েছিল। তখনও উদ্বোধন হয়নি। এখানে যাঁরা আসেন, তাঁরা মূলত মুকুট মণিপুর বা ঝিলিমিলিতে ঠাঁই নেওয়া পর্যটক। সেখান থেকে আশপাশ ঘুরতে গিয়ে সুতানে ঢুঁ মেরে যান। কিন্তু একটু পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে সুতান নিজেই একটা দুরন্ত পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
আজ যাঁরা নানা বাধ্যবাধকতায় ব্রিগেডে, তাঁদের অনেকেই এখনও মনে মনে লাল পতাকা নিয়েই হাঁটছেন। আবার একদিন লাল পতাকার নিশ্চিত আশ্রয়েই ফিরে আসবেন। সেই গরিব গুর্বো মানুষগুলোর ডিম–ভাত খাওয়াকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তাঁদের আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন না তো? ডিম–ভাত নিয়ে হইচই করতে গিয়ে আসল সমালোচনার জায়গাগুলো আড়াল করে ফেলছেন না তো? লিখেছেন রক্তিম মিত্র।।
দিলীপ মাহাত পুরুলিয়াকে বলা হয় পিছিয়ে পড়া জেলা। আসলে, মূল শহর থেকে দূরে থাকলেই তাকে পিছিয়ে পড়া বলে চিহ্নিত করতে আমরা ভালবাসি। কিন্তু যারা পিছিয়ে পড়া, তাদের এগিয়ে আনার কতখানি...
এই ধরণের দেশজ খাবারগুলো কি শুধু মাত্র আমাদের রসনাই পরিতৃপ্ত করে? আমরা যখন খাই, তখন খাওয়াতেই মন দিই। কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যাবে এই খাবারগুলোর প্রতিটি কনায় জড়িয়ে আছে উৎপাদনকারীর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম, আশা, আকাঙ্ক্ষা, এক বুক স্বপ্ন, যা তাকে ঘুমোতে দেয় না। আর যাঁরা প্রতিদিন আগুনের কাছে থেকে আমাদের হাসিমুখে খেতে দেন, তাঁদের স্নেহ, ভালোবাসা, মমতা আন্তরিকতাও তো জড়িয়ে থাকে সেই খাবারগুলোর পরতে পরতে। এইভাবেই তো একটা সাধারণ খাবার ভালোবাসার টানে হয়ে ওঠে অসাধারণ…।
সরস্বতী মানে কি শুধুই মেয়েদের শাড়ি পরা আর ছেলেদের মেয়ে দেখা? তার বাইরেও আরও অনেককিছু। পরের দিন অরন্ধন। যৌথ পরিবারে সে যেন এক মহারন্ধনের কর্মযজ্ঞ। ফেলে আসা সময়ে উকি দিয়ে টুকরো টুকরো মুহূর্তগুলো ফিরে দেখা। লিখলেন অন্তরা চৌধুরি।
হয়ত সেখানে যাওয়ার কথাই ছিল না। ফাঁকা এক রেলস্টেশনে হঠাৎ করে নেমে পড়া। পাশ দিয়ে হয়ত বয়ে গেছে নদী। ছোট্ট চালা ঘরে হয়ত চপ–ঘুগনির দোকান। নাম না জানা ঠিকানায় আশ্চর্য এক ভ্রমণ। শরতের আলতো রোদে একটা দিন হারিয়ে যাওয়া। এমনই হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছের কথা উঠে এল অন্তরা চৌধুরির লেখায়।
বেড়াতে গিয়ে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা মনের মধ্যে একটা ছাপ ফেলে যান। তেমনই একজন মানুষ ভোটাদা। ঘুরতে যাওয়া অযোধ্যায়। নিছক ঘুরতে নয়, একটা অভিযানই বলা ভাল। ভাগ্যিস ভোটাদা ছিলেন, নইলে কত যে ভোগান্তি হত। এই ভোটাদার মতো মানুষেরা আছেন বলেই এখনও পৃথিবীটা এত সুন্দর। লিখেছেন শান্তনু পাঁজা।
অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল, একবার জয়পুরের জঙ্গলে যাব। নানা কারণে যাওয়া হয়ে উঠছিল না। হয়ত এত কাছে বলেই গড়িমসি করছিলাম। শেষপর্যন্ত বেরিয়েই পড়লাম। এমনিতে মোটেই খুব দূরে নয়। বাঁকুড়া থেকে ঘণ্টা দেড়েক। ওন্দা, রামসাগর পেরিয়ে, বিষ্ণুপুর ছুঁয়ে সোজা রাস্তা ধরে গেলেই হবে। বিষ্ণুপুর পেরিয়েই পাবেন মস্ত এক জঙ্গল। দিনের বেলায় তেমন আহামরি মনে হবে না। কিন্তু রাতের বেলায় গা ছমছম করতেই পারে।
বন্ধুদের মন ভরল না পলাশে। আশ্বাস দিয়ে বললাম বাঁকুড়ায় বেশ কিছু ফুটেছে আমি জানি। চল, তোদের দেখিয়ে দেব। হ্যাঁ কথা রাখতে পেরেছিলাম। সকাল দশটায় রওনা হয়ে যখন বাড়ি ফিরছি, বাড়ির সামনের পলাশ গাছ গুলো তখন পলাশ ফুলে রাঙা। যেগুলো বড়ন্তি যাওয়ার সময় ফোটেনি না আমাদের চোখে পড়েনি, সেটা এখনও বিস্ময়!