‌গরিবের পোস্ত উপেক্ষিত খসলা

এই ধরণের দেশজ খাবারগুলো কি শুধু মাত্র আমাদের রসনাই পরিতৃপ্ত করে? আমরা যখন খাই, তখন খাওয়াতেই মন দিই। কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যাবে এই খাবারগুলোর প্রতিটি কনায় জড়িয়ে আছে উৎপাদনকারীর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম, আশা, আকাঙ্ক্ষা, এক বুক স্বপ্ন, যা তাকে ঘুমোতে দেয় না। আর যাঁরা প্রতিদিন আগুনের কাছে থেকে আমাদের হাসিমুখে খেতে দেন, তাঁদের স্নেহ, ভালোবাসা, মমতা আন্তরিকতাও তো জড়িয়ে থাকে সেই খাবারগুলোর পরতে পরতে। এইভাবেই তো একটা সাধারণ খাবার ভালোবাসার টানে হয়ে ওঠে অসাধারণ…।

নামেই অরন্ধন, আসলে মহারন্ধন

সরস্বতী মানে কি শুধুই মেয়েদের শাড়ি পরা আর ছেলেদের মেয়ে দেখা?‌ তার বাইরেও আরও অনেককিছু। পরের দিন অরন্ধন। যৌথ পরিবারে সে যেন এক মহারন্ধনের কর্মযজ্ঞ। ফেলে আসা সময়ে উকি দিয়ে টুকরো টুকরো মুহূর্তগুলো ফিরে দেখা। লিখলেন অন্তরা চৌধুরি।

ছোট্ট স্টেশন, হারিয়ে যাওয়ার হাতছানি

হয়ত সেখানে যাওয়ার কথাই ছিল না। ফাঁকা এক রেলস্টেশনে হঠাৎ করে নেমে পড়া। পাশ দিয়ে হয়ত বয়ে গেছে নদী। ছোট্ট চালা ঘরে হয়ত চপ–‌ঘুগনির দোকান। নাম না জানা ঠিকানায় আশ্চর্য এক ভ্রমণ। শরতের আলতো রোদে একটা দিন হারিয়ে যাওয়া। এমনই হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছের কথা উঠে এল অন্তরা চৌধুরির লেখায়।

ভোটাদা,  অযোধ্যার বিস্ময়মানব

বেড়াতে গিয়ে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা মনের মধ্যে একটা ছাপ ফেলে যান। তেমনই একজন মানুষ ভোটাদা। ঘুরতে যাওয়া অযোধ্যায়। নিছক ঘুরতে নয়, একটা অভিযানই বলা ভাল। ভাগ্যিস ভোটাদা ছিলেন, নইলে কত যে ভোগান্তি হত। এই ভোটাদার মতো মানুষেরা আছেন বলেই এখনও পৃথিবীটা এত সুন্দর। লিখেছেন শান্তনু পাঁজা।

জয়পুরের জঙ্গলে লুকিয়ে আছে আস্ত বিমানবন্দর!‌

অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল, একবার জয়পুরের জঙ্গলে যাব। নানা কারণে যাওয়া হয়ে উঠছিল না। হয়ত এত কাছে বলেই গড়িমসি করছিলাম। শেষপর্যন্ত বেরিয়েই পড়লাম। এমনিতে মোটেই খুব দূরে নয়। বাঁকুড়া থেকে ঘণ্টা দেড়েক। ওন্দা, রামসাগর পেরিয়ে, বিষ্ণুপুর ছুঁয়ে সোজা রাস্তা ধরে গেলেই হবে। বিষ্ণুপুর পেরিয়েই পাবেন মস্ত এক জঙ্গল। দিনের বেলায় তেমন আহামরি মনে হবে না। কিন্তু রাতের বেলায় গা ছমছম করতেই পারে।

পলাশের খোঁজে বড়ন্তি

বন্ধুদের মন ভরল না পলাশে। আশ্বাস দিয়ে বললাম বাঁকুড়ায় বেশ কিছু ফুটেছে আমি জানি। চল, তোদের দেখিয়ে দেব। হ্যাঁ কথা রাখতে পেরেছিলাম। সকাল দশটায় রওনা হয়ে যখন বাড়ি ফিরছি, বাড়ির সামনের পলাশ গাছ গুলো তখন পলাশ ফুলে রাঙা। যেগুলো বড়ন্তি যাওয়ার সময় ফোটেনি না আমাদের চোখে পড়েনি, সেটা এখনও বিস্ময়!
‌‌‌‌

‌এই অঙ্কের উত্তর আগেও মেলে নাই

একদিন ক্লাস নাইনের এই ছেলেটিই বলেছিল, ‘‌স্যার, এই অঙ্কের উত্তর আগেও মেলে নাই।’ বিদায়বেলায়‌ সেই ছেলেটির হাতেই কঠিন অঙ্কের উত্তর মেলানোর দায়িত্ব সঁপে দিয়েছিলাম। ইংরাজির শিক্ষক হয়েও সব অঙ্কের উত্তর ঠিকঠাক মিলিয়ে দিয়েছিল। একটা বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ হয়েছিল।

‌‌‌

‌তাঁর প্রশ্রয় না পেলে আমি হয়ত শিল্পী হতাম না

প্রদীপ সিংহবাবু মানুষের বেড়ে ওঠার পেছনে তার পরিবারের বড় একটা অবদান থাকে। ছোট থেকে যে পরিবেশে সে বড় হয়, সেই পরিবেশের একটা স্থায়ী ছাপ থেকেই যায়। ডাক্তারের ছেলে হয়ত সবসময়...

‌আমার আকাশের ধ্রুবতারা

তোমার জীবনের লক্ষ্য কী?‌ মামা অনেকের কাছেই জানতে চাইতেন। অনেক সময় ক্লাসেও জানতে চাইতেন। কখনও আবার একান্তেও জানতে চাইতেন। অর্থাৎ, সেই ছাত্রর কোন বিষয়ে আগ্রহ, সেটা বুঝতে চাইতেন। ছাত্রের সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানাতেন। উৎসাহিত করতেন।

জন্মের আগে থেকেই স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক!‌

তখন এসডিও সাহেব স্যারকে প্রণাম করে বললেন, ‘‌আমাদের অনেক জায়গায় যেতে হয়। অনেক স্কুলেই স্ট্রং রুম নিতে হয়। আজ আপনি আমার চোখ খুলে দিলেন। আমরা এতদিন স্কুলকে স্ট্রং রুম হিসেবেই দেখে এসেছি। এটা যে স্কুল, এই জিনিসটা মাথাতেও আনি না। আজ আপনি আমাকে একটা শিক্ষা দিলেন। নিজের স্কুলকে কীভাবে ভালবাসতে হয়, আপনার কাছ থেকে শিখলাম। সব স্কুলে যদি আপনার মতো একজন শিক্ষক থাকেন, শিক্ষার চেহারা বদলে যাবে। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনার স্কুলের কোনও ক্ষতি আমি হতে দেব না। গণনার পর আমি নিজে আবার আসব। দেখে যাব। যদি কোথাও কোনও ক্ষতি হয়, সব দায়িত্ব আমি নিলাম।’‌