মারাদোনা সরল মনে সেই নামাবলি পরেও নিলেন। ছবি উঠল। সেই ছবি থেকে গেল ইতিহাস হয়ে। ছবিটা যেমন থেকে গেল, তেমনই অমরত্ব পেয়ে গেলেন অমিয় তরফদারও। আজ বিশ্বকাপের আঙিনায় এত রিপোর্টার, এত ফটোগ্রাফার। কিন্তু এমন এক্সক্লুসিভ ছবি আর হল কই!
এমনিতেই কাগজ পড়ার রেওয়াজ কমছে। তার মধ্যেও যাঁরা সকালে কাগজটা হাতে নিচ্ছেন, তাঁরা কি একবারও ভেবে দেখেছএন এই বিশাল কর্মকাণ্ড মাত্র এক দেড় ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে! নেপথ্যে থাকা সেই সংবাদ–সৈনিকদের কথা আড়ালেই থেকে যায়।
ঠিক চার বছর আগে। বিশ্বকাপ ফাইনালের কয়েকদিন পরেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। এবারও ছিল বিশ্বকাপের আবহ। সারা পৃথিবী মেতেছিল বিশ্বকাপে। ফাইনালের ঠিক আগেই চিরঘুমের দেশে স্যর গ্যারি। দুই খেলার দুই কিংবদন্তির কী অদ্ভুত মিল! দুজনকেই অদ্ভুতভাবে মিলিয়ে দিয়ে গেল বিশ্বকাপ।
একে একে সেমিফাইনালের আগেই সবাই দেশে ফেরার বিমান ধরল। নটি দেশ উঠে এল। শেষপর্যন্ত একটি দলও সেমিফাইনালের আঙিনায় এল না! শুরুর দুরন্ত চমক শেষের দিকে ধরে রাখা গেল না কেন?
আইপিএল জমানায় বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মকে বোঝানো যাবে না, সুনীল গাভাসকার ঠিক কোন জাতের ক্রিকেটার ছিলেন। তাঁরা হয়ত উইকিপিডিয়া খুলবে। দেখবে ১২৫ টেস্ট, ১০১২২ রান, ৩৪ শতরান। তারপর বলবে, দশ হাজার রান তো অনেকেরই আছে। ১২৫ টেস্ট তো অনেকেই খেলেছেন। বলেই থামবে না, দশ হাজার কতজনের আছে, সেই তালিকাও গড়গড় করে বলে যাবে। এই জন্যই নেভিল কার্ডাস নামক লোকটা স্কোরবোর্ডকে আস্ত একটা গাধা বলেছিলেন।
বিশ্বকাপের টেনশন? হ্যাঁ, পুরোমাত্রায় ছিল। না হলে যে মারাদোনা গোটা টুর্নামেন্টে মাথা বরফের মতো ঠান্ডা রেখেছিল, সে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে এই প্রথম হলুদ কার্ড দেখত না।
স্বরূপ গোস্বামী তিনি একজন বেঁটে মানুষ। একেবারেই খামখেয়ালি। কখনও শিশুর মতো সরল, কখনও চূড়ান্ত বদমেজাজি। থাকেন সুদূর লাতিন আমেরিকায়। কিন্তু এই চরম বেআক্কেলে লোকটাই বদলে দিলেন বাঙালির ভাবনার ভুবন। এমনিতে...
মোদ্দা কথা, না আছে পরিশ্রম। না আছে পড়াশোনা। না আছে মেধা। না আছে লেখার মুন্সিয়ানা। না আছে সেই পর্যায়ের যোগাযোগ। না আছে ন্যূনতম সংযম। তাহলে, রইলটা কী?
ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে কি আয়নার সামনে দাঁড়াবেন এই প্রজন্মের ক্রীড়া সাংবাদিকরা?
দুজনেরই হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। কাউকে হয়তো মাঝপথেই থেমে যেতে হবে। কিন্তু ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও দুই মহাতারকা যেভাবে ফর্মের শিখরে আছেন, তাঁরা দুজনেই যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। সারাজীবন যেমন উজ্জ্বল হয়ে থেকেছেন, তাঁদের বিদায়বেলাও তেমনই উজ্জ্বল হয়ে উঠুক। অস্তরাগের আলোয় দুজনেই রাঙিয়ে দিয়ে যান বিশ্বকাপের আকাশ।
বাইচুং, ওকোরোদের ছাপিয়ে নায়ক কিনা জুনিয়র! সত্যিই যেন রূপকথার মতো। কিন্তু এই জুনিয়রকে ধরে রাখা যায়নি। নিঃশব্দে তাঁকে তুলে নিয়েছিল ডেম্পো। কী করে ভুলব ফেডারেশন কাপ ফাইনালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা! মাঠেই প্রাণ হারিয়েছিলেন আমাদের প্রিয় জুনিয়র। তাঁর শেষ টাচটাও গোলের ঠিকানা চিনে নিতে ভুল করেনি।