স্বরূপ গোস্বামী
গোপন কথাটি আর গোপন থাকছে না। সবকিছু কেমন যেন বেআব্রু হয়ে পড়ছে। চারদিকে এত বজ্রআঁটুনি। কিন্তু তাও কিছু গোপন থাকছে না।
আসলে, ক্যামেরাগুলোই হল যত নষ্টের গোড়া। সব জায়গায় একটা করে ক্যামেরা গুঁজে দিয়েছে। সাজঘরে ক্যামেরা। বারান্দায় ক্যামেরা। গ্যালারিতে ক্যামেরা। আরে বাবা, খেলা তো হচ্ছে মাঠে, সেখানকার ছবি যত খুশি দেখা। কেউ তো বারণ করেনি। সাজঘরে নজরদারির কী দরকার! কী জানি, বাথরুমেও হয়তো ক্যামেরা লুকিয়ে রেখেছে। কোনদিন সেসব ছবিও বাইরে চলে আসবে।
আচ্ছা বলুন তো, সবসময় ক্যামেরার নজরদারিতে থাকা যায়! বিরাট কোহলি চার মারছে, অমনি আমার দিকে ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছে। আমি হাসছি না গম্ভীর আছি, সেসব টিভি স্ক্রিনে ভেসে উঠছে। হাসলে সেই হাসি আন্তরিক না মেকি, তা নিয়ে যে যা পারছে মত দিয়ে যাচ্ছে। যদি হাততালি দিই, তাহলে কবার দিলাম, আওয়াজ উঠল কিনা, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। লোকে বলে, ক্রিকেটারদের ওপর নাকি চাপ থাকে। আচ্ছা বলুন তো, সাজঘরে বসে থাকাও কি কম চাপের!
সেঞ্চুরি করে বিরাট উঠে আসছে। আচ্ছা, আমি কী করতে পারতাম! এগিয়ে গেলাম। জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু বিরাট এমন ভান করল, যেন সে চরম এক অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের কোচ নয়, যেন আন্দামানের জারোয়া বা চিড়িয়াখানার কোনও শিম্পাঞ্জি তাকে জড়িয়ে ধরেছে। আমারও শিক্ষা হল। কে আর বারবার বেইজ্জত হতে চায়! এবার ম্যাচের পর সবাই মাঠ ছাড়ছে। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। বিরাট আমার পাশ দিয়েই পেরিয়ে গেল। আমার কাছে এসেই মোবাইলে মুখ গুঁজে দিল। যেন আমাকে দেখতেই পেল না। এমন ভান করল, যেন ওর মোবাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেসেজ পাঠিয়েছে।
সমস্যাটা কোথায় জানেন! এরপরেও লোকে বলবে না, বিরাট অসৌজন্য দেখিয়েছে। উল্টে চ্যানেলে চ্যানেলে বলা হল, বিরাট আমাকে মুখের ওপর জবাব দিয়েছে। বিরাট আমাকে পাত্তাই দিল না। পরের দিনের কাগজেও এগুলোই ফলাও করে ছাপা হল। শুধু তাই নয়, বিরাট সেঞ্চুরি করতেই রোহিতের সে কী উল্লাস। বাইরে গিয়ে হাততালি দিচ্ছে। ও হে বাবাজীবন, এতদিন এই হাততালি গুলো ছিল কোথায়! এতদিন বিরাট সেঞ্চুরি করলে তো গোমড়া মুখে বসে থাকতে। হঠাৎ করে বিরাট–প্রেম উথলে উঠেছে! হঠাৎ দুই বুড়ো মিলে শোলের ‘জয়–বীরু’ হয়ে গেলে! বুঝি, বুঝি। সব বুঝি। কিন্তু কী আর করা যাবে! এখন আমার হজম করার সময়।
এ দেশের মিডিয়াও ধন্য। ঘটে বোধ–বুদ্ধি বলে কিছু নেই। আমি প্রেস কনফারেন্সে এলেই সেই একটাই প্রশ্ন, ২০২৭ বিশ্বকাপে বিরাট–রোহিত কি খেলবেন? আচ্ছা বলুন তো, এটা কোনও প্রশ্ন হল। বিশ্বকাপ এখনও দু’বছর বাকি। এখন থেকে বলা যায়, দু বছর পর কে কী ফর্মে থাকবে! তবু এই বোকা বোকা প্রশ্নটা ওদের করতেই হবে। আমি বললাম, ‘বিশ্বকাপ এখনও অনেক দেরি। আপাতত বর্তমান নিয়েই ভাবতে চাই।’ নে, এবার যা বোঝার, বুঝে নে।
শুধু আমাকে নয়, শুভমান গিলের কাছেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে, বিশ্বকাপে বিরাট–রোহিতরা থাকবে কিনা। ও হয়তো বলল, ‘ওরা দুজনেই কিংবদন্তি। ওদের অনেক অবদান আছে। অভিজ্ঞতা আছে।’ ব্যস, অমনি ব্রেকিং নিউজ— ‘বিরাটদের দলে চাই, জোর সওয়াল শুভমানের।’ কেউ বলে শুরু করে দিল, ‘বিরাটদের পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন শুভমান।’ আরে বাবা, শুভমান কি বলবে আমি চাই ওরা যেন না থাকে!
আমি মাঝে মাঝে মজা করে সীতাংশু কোটাক, মর্নি মরকেল বা রায়ান দুসখাটেকে প্রেস কনফারেন্সে পাঠিয়ে দিই। জানি, ওদের কোনও নিউজ ভ্যালু নেই। কিন্তু সে বেচারাদেরও তো মিডিয়ার সামনে আসতে ইচ্ছে করে। ওদের কাছেও সেই একই প্রশ্ন। ওদের কী বিড়ম্বনা বলুন তো। ওরা নিজেরাই জানে না, দু’বছর পর থাকবে কিনা। ওদের বলতে হয়, বিরাট–রোহিতরা থাকবে কিনা। আসলে, মিডিয়াকেও বুঝিয়ে দিতে চাই, তোদের জন্য ওই সীতাংশু, দুসখাটেরাই ঠিক আছে। তারা বলবে, ‘কাল আমরা জিততে চাই।’ ওই বোকা বোকা কোট লিখেই কাগজ ভর্তি কর।
খেলা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। প্রশ্ন আসছে গত বছরের নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়ে। কেন সেই সিরিজে হেরেছিলাম? আমি তখন মনে করিয়ে দিলাম, ভুলে যাবেন না, তারপর আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বলা হল, আমি নাকি ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছি। বা রে, তোমরা এক বছর আগের হারের কথা মনে করাচ্ছো, আমি তিন মাস আগের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা মনে করাতে পারব না!
সবাই এমন করছে, যেন আমি উড়ে এসে জুড়ে বসে গেছি। আমি কোনওদিন দেশের হয়ে খেলিনি। আমি কোথাও কোনও কোচিং করিনি। হঠাৎ, আমার নামটা মনে পড়ল, আর আমাকে দেশের কোচ বানিয়ে দেওয়া হল।
অবশ্য যাঁরা এমনটা ভাবছেন, তাঁদের পুরোপুরি দোষ দিতেও পারি না। তাঁরা ভাবছেন জয় শাহর কথা। শুধু বাবার নাম অমিত শাহ, এই পরিচয়ে একসময় গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাথায়। সেখান থেকে বোর্ডের সচিব। সেখান থেকে একলাফে আইসিসি–র সভাপতি। শুধু আইসিসি–র সভাপতিই বা বলি কী করে! বোর্ডের অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোল তো তাঁর হাতেই।
জয় শাহর বাবা বিজেপির মন্ত্রী। আমিও ছিলাম বিজেপির এমপি। তাই দুইয়ে দুইয়ে চার করে ফেলেছে। লোকে ধরেই নিয়েছে, বিজেপি করলে যোগ্যতা না থাকলেও অনেককিছু পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আমাকেও জয় শাহর মতো করেই কোচ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনটা ভেবে নিয়েছেন। না বাপু, আমার নাম গৌতম গম্ভীর। দুটো বিশ্বকাপে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। দেশের হয়ে ৭৬ টেস্ট খেলেছি। পরপর তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডাবল সেঞ্চুরিও আছে। আইপিএলে ক্যাপ্টেন হিসেবে দু’বার কলকাতাকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। কোচ হিসেবেও কলকাতাকে ট্রফি দিয়েছি। এই দেশে আর কজনের এমন কৃতিত্ব আছে!
তবু আমিই এখন দেশের এক নম্বর ভিলেন। সব ব্যাটাকে ছেড়ে দিয়ে এই ব্যাটাকে ধর। কেউ রান পাচ্ছে না, আমি দায়ী। কেউ বল হাতে পিটুনি খাচ্ছে, তাও আমি দায়ী। এই পর্যন্ত না হয় মানা গেল। কিন্তু কেউ সেঞ্চুরি করছে, সেখানেও আমি দায়ী। যেন আমার বলে পিটিয়েই সেঞ্চুরি করল।
কাদের কথা বলছি, নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। এতদিন গোটা দেশ বলছিল, এদের এবার অবসর নেওয়ার সময় হয়ে গেছে। এরা এত ব্যর্থ, তার পরেও কেন দলে রাখা হচ্ছে? যেই ওরা অবসর নিল, অমনি আমি হয়ে গেলাম কালপ্রিট। আচ্ছা বলুন তো, কে ওদের অবসর নিতে বলেছিল? আমি বলেছিলাম? অস্ট্রেলিয়া সফরে তো ওই দুই মহাতারকাই ছিল। পাঁচ টেস্টের সিরিজ। এই দুই মহাতারকা কী এমন ব্যাটিং করেছে? পার্থে বিরাট একটা সেঞ্চুরি করেছে। আরে বাবা, সেটাকে ভাঙিয়ে তো পরের চারটে টেস্ট খেললে। সেখানে কী এমন হাতি–ঘোড়া রান করলে! পরের চার টেস্টের সাত ইনিংসে রান মাত্র ৮২। আর রোহিত। সে তো অধিনায়ক। প্রথম টেস্টে গেলই না। পরের তিন টেস্টে কার্যত অশ্বডিম্ব প্রসব করল। সেই তিন টেস্টের পাঁচ ইনিংসে রান মাত্র ৩১। আচ্ছা বলুন তো, টানা ৩ টেস্টের ৫ ইনিংসে যদি কোনও ব্যাটসম্যান ৩১ রান করে, তাকে কী করা উচিত? হ্যাঁ, বাদ দেওয়াই উচিত। ও নিজেও সেটা বুঝতে পেরেছিল। তাই সিডনিতে নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিল।
আচ্ছা, সেটা না হয় অস্ট্রেলিয়া সফর ছিল। তার আগে ছিল ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টেই আমরা হারলাম। যা যা গালমন্দ হজম করার, আমিই করলাম। হ্যাঁ, মানছি আমারও দায় ছিল। কিন্তু ওই তথাকথিত বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মার পারফরম্যান্স কেমন ছিল? ঘরের মাঠে ওই পাঁচ টেস্টে কোহলির রান ছিল ১৯২। আর শ্রীমান রোহিতের ১৩৩। হ্যাঁ, এই ট্র্যাকরেকর্ড নিয়েই ওরা অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠেছিল। অন্য কেউ হলে বিমান তো দূরের কথা, লোকাল ট্রেনে ওঠার ছাড়পত্রও পেত না। নেহাত ওদের নামের আগে ‘মহাতারকা’ তকমা বসে গেছে, তাই ওরা এই জামাই আদর পেয়ে এসেছে। বাবুরা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন না। টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হবেন। তারপরেও তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
আমি দায়িত্ব নিয়ে এই তারকাপ্রথাই ভাঙতে চেয়েছিলাম। বোর্ড যখন কোচিংয়ের প্রস্তাব দিল, আমি বলেছিলাম, শুধু অতীতে কী করেছি, সেটা ভাঙিয়ে দিনের পর দিন জায়গা আগলে থাকা যাবে না। অনেক নতুন প্রতিভা উঠে আসছে। তাদের সুযোগ দিতে হবে। যাঁরা আমাকে গালমন্দ করছেন, তাঁরা দয়া করে ওই দুই মহাতারকার শেষ দেড় বছরের ট্র্যাকরেকর্ডে চোখ বুলিয়ে নিন।
আচ্ছা, টি২০ তে তো আমি কাউকে বাদ দিইনি। ওরা দুজনেই অবসর নিয়েছিল সুদূর বোর্বাডোজে। আমি তো তখন কোচ ছিলাম না। কিন্তু কেউ কেউ টি২০–তে ওদের অবসরের পেছনেও আমাকে দায়ী করে বসছেন। আসলে, আমার কৃতিত্বকে বরাবরই খাটো করেই দেখা হয়েছে। ২০১১ বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। ফাইনালে শেহবাগ, শচীন, কোহলি— সব একে একে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা দিল। সেখানে আমি বুক চিতিয়ে ৯৭ রান করলাম। কিন্তু যেহেতু উইনিং স্ট্রোকটা আমিই নিইনি, তাই আমার ৯৭ রানের কথা কারও মনেই নেই। আরে বাবা, আমি যদি একদিকে ঢাল হয়ে রুখে না দাঁড়াতাম, ধোনি এসে ওই হেলিকপ্টার ছক্কা হাঁকানোর সুযোগ পেতে! কিন্তু লোকে ওই ছক্কাটাই মনে রাখল। ওই ছক্কাতেই নাকি ভারত বিশ্বকাপ জিতে গেল। এখানেই শেষ নয়। আমি সেবার সহ অধিনায়ক। খেলতে গেছি বিদেশের মাটিতে। আমরা শোচনীয়ভাবে হারলাম। অধিনায়কও সুপার ফ্লপ। দেশে ফিরে কী দেখা গেল? যে অধিনায়ক, সে বহাল তবিয়তে অধিনায়ক থেকে গেল। মাঝখান থেকে আমাকে সরিয়ে অন্য একজনকে সহ অধিনায়ক করে দেওয়া হল। কখনও শুনেছেন, দল হারলে সহ অধিনায়কের চাকরি যায়! কিন্তু কী আর করা যাবে! এমনটাই হয়েছে।
তবে আমিও হাল ছাড়ছি না। বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার জন্যই আমাকে আনা হয়েছে। সবাই গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে আমার তুলনা শুরু করে দিয়েছেন। আচ্ছা বলুন তো, গ্রেগ চ্যাপেলের একার ক্ষমতা ছিল সৌরভ গাঙ্গুলিকে বাদ দেওয়ার! নিশ্চয় নির্বাচকদের পাশে পেয়েছিলেন। নিশ্চয় বোর্ডকর্তাদেরও পাশে পেয়েছিলেন। আমার ক্ষেত্রেও আমাকে এত সর্বশক্তিমান ভাবার কারণ নেই। নির্বাচকরা যেটা করার সাহস দেখাচ্ছিল না, আমি সেটাই করে দেখাচ্ছি। বোর্ডের থেকে যেমন নির্দেশ, আমি সেটাই রূপায়ণ করছি। বোর্ড যদি সত্যিই বিরাট–রোহিতদের প্রতি এত সদয় হত, তাহলে এভাবে তাদের বিদায় নিতে হত না। বর্তমান যত ফ্যাকাসেই হোক, অন্তত অতীতের অবদানের জন্য আরও বর্ণময় বিদায় ওদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু কেউ যদি নিজে থেকে ব্যাট তুলে না রাখে, তাহলে বাইরের দরজাটা দেখিয়ে দিতে হয়। আমি সেই কাজটাই করেছি।
আচ্ছা, ধরা যাক, দু’বছর পরের বিশ্বকাপে এই দুই মহাতারকা খেলল। ভারতকে জিতিয়েও দিল। জেতার পর বলা হবে, এই দুজন কোচের মুখের ওপর যোগ্য জবাব দিল। সেদিনও বিরাট আমাকে না চেনার ভান করে পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে। সেটা নিশ্চয় কাম্য নয়। তবে কি আমি বিশ্বকাপ চাই না? হ্যাঁ, চাই। দেখিয়ে দিতে চাই, এই দুজনকে ছাড়াও জেতানো যায়। হ্যাঁ, আমি সেই চ্যালেঞ্জটাই নিতে চাই। আমি চাই না, আমার কৃতিত্বে অন্য কেউ এসে ভাগ বসাক।
বিরাট, রোহিত রান পেল বলে অনেকে আনন্দে লাফাচ্ছেন। আমার মুণ্ডপাত করছেন। এখন শীত ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন। এক মাঘে শীত যায় না। আজ ওদের ব্যাটে রান আছে, ওদের হয়ে চিৎকার করার লোকও আছে। কিন্তু এখনও লম্বা সময় বাকি। অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি ওদের ‘ব্যর্থ’ হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েছিল। চেয়েছিলাম, এই দুই সিরিজে ব্যর্থতার পর কেউ যেন ওদের নামও না উচ্চারণ করে। ওরা নিজেরাই যেন মানসম্মান বাঁচাতে কেটে পড়ে। কিন্তু সেটা এ যাত্রায় হল না। চিত্রনাট্য একটু অন্যদিকে বাঁক নিয়ে নিল।
এখনও দু’বছর বাকি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে হবে। দেখব, দু’বছর ধরে কেমন ফিটনেস আর ফর্ম ধরে রাখতে পারে। এত সোজা নয় বাপু। আজকে না হয় উতরে গেলে। বারবার এটা হবে না। ব্যর্থতা ঠিক আসবে। আমাকে বলতে হবে না, অন্যরাই আওয়াজ তুলবে, এরা এখনও কেন খেলছে? এদের বাদ দাও। আপাতত সেই অপেক্ষাতেই আছি। এটা তো আর প্রেস কনফারেন্সে বলতে পারি না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মতো আমারও তো মাঝে মাঝে ‘মন কী বাত’ বলতে ইচ্ছে করে। দেখুন, আমার মনের কথা আবার পাঁচকান করবেন না।
