মধ্যবিত্তের মানচিত্রে আসুক সুন্দরবন

এই রাজ্যের পর্যটনে একটি উজ্জ্বল মুকুট হল সুন্দরবন। দুপাশে বিশাল জঙ্গল। তার মাঝে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। জঙ্গলের বুক চিরে নদীর বুকে জলযান নিয়ে এগিয়ে চলা। ভাবতেই অদ্ভুত একটা রোমাঞ্চ কাজ করে।

এই সুন্দরবনকে আকর্ষণীয় করার জন্য রাজ্য সরকার নাকি নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি পর্যটকেরা যেন আরও নিশ্চিন্তে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারেন, সেই ব্যাপারে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এসব করতে গিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ যেন আরও ব্যয়বহুল না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।

সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের দুটি লঞ্চ চলছে। দু’‌বছর আগেও মাথা পিছু খরচ ছিল ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। গত বছর হঠাৎ করে রেট বাড়িয়ে দেওয়া হল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খরচ বাড়বে, সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু একলাফে যদি দ্বিগুন বেড়ে যায়, সেটা বেশ দুশ্চিন্তার। ছিল ছয় হাজার। এক লাফে সেটা হয়ে গেল বারো হাজার। দুই রাত্রি, তিনদিনের ট্যুর। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মাথাপিছু বারো হাজার সত্যিই ব্যয়বহুল।

যেখানে বেসরকারি ট্যুর অপারেটররা এই দুই রাত্রি, তিনদিনের ট্যুর করাচ্ছেন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। মানছি, সরকারি লঞ্চ ও অন্যান্য পরিষেবা তুলনায় অনেকটাই উন্নত। তার জন্য খরচ কিছুটা বেশি হতেই পারে। বড়জোর দ্বিগুন হোক। তাই বলে বেসরকারি অপারেটররা যা নিচ্ছেন, তার চার গুন খরচ নেওয়া হচ্ছে!‌ সরকারি লঞ্চ পরিমাণেও অত্যন্ত কম। যে সময়ে মানুষ বেশি করে ঘুরতে যান, সেই সময়ে খুব একটা পাওয়াই যায় না। বরং, যখন গরম পড়ে যায়, সেই মার্চ–‌এপ্রিলে তিন–‌চার বার করে লঞ্চ ছাড়ছে।


সরকার বদল হয়েছে। উদ্যমী পর্যটনমন্ত্রীর কাছে আবেদন, সুন্দরবনের বিষয়টি নতুন করে চিন্তাভাবনা করুন। বেসরকারি ট্যুর অপারেটররা যদি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারে ভ্রমণ করাতে পারেন, তাহলে সরকার কেন পাঁচ–‌ছয় হাজারে পারবে না?‌ বিদেশি পর্যটকদের জন্য অত্যাধুনিক ক্রুজ থাকুক। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালি যেন আরও কম খরচে, নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারেন, তার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

Previous post এমন ভ্রমণপ্রিয় জাতি আর কটা আছে?‌
Next post ‌আর কবে ঘুম ভাঙবে সুপ্রিম কোর্টের!‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *