পুজো আর দু’মাসও বাকি নেই। কোথায় যাবেন, নিশ্চয় এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি। এদিকে, ট্রেনের টিকিট কিন্তু এর মধ্যেই শেষ। আগে চার মাস আগে ট্রেনের টিকিট কাটা যেত। চার মাস থেকে কমিয়ে এখন দু’মাসে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, দু’মাস আগে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে।
এবারের পুজো অক্টোবরের শেষ দিকে। টিকিটের উইন্ডো খুলে গেছে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ট্রেনের টিকিট শেষ। আপনি উত্তর ভারতেই যান বা দক্ষিণ ভারত, লম্বা ওয়েটিং লিস্ট। এমনকী, ঘরের কাছে উত্তরবঙ্গে যাবেন, তারও উপায় নেই। সেখানেও ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই। এবার কোথায় যাবেন? পুরী? সে গুড়েও বালি। রাতের ট্রেনে তো টিকিট পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। এমনকী ভোরের দিকে বন্দে ভারতে যাবেন, তারও উপায় নেই। রাতের টিকিট না পেয়ে অনেকে ভোরের টিকিটও কেটে ফেলেছেন।
এমন ভ্রমণপ্রিয় জাতি আর কটা আছে, যথেষ্ট সন্দেহ আছে। অথচ, এই বাঙালিকেই কিনা ঘরকুনো অপবাদ নিয়ে বাঁচতে হয়। সে নাকি ঘর ছেড়ে কোথাও বেরোতে চায় না। কাজের সূত্রে সে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে, সে কথা না হয় বাদই দিলাম। শুধুমাত্র পুজোর সময় কত বাঙালি বেড়াতে যান, তার সঠিক কোনও হিসেব পাওয়া যায় না। তাই রেলেরও একটা বাড়তি দায়িত্ব থাকে। দু’মাস আগেও যদি টিকিট না পাওয়া যায়, সেটা নিশ্চয় রেলের কাছে খুব গর্বের বিজ্ঞাপন নয়। ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কনফার্ম হবে কিনা, কোনও গ্যারান্টি নেই। ওদিকে, হোটেল বুকিং, গাড়ি বুকিং করে রাখতে হবে। সেই টাকা আবার রিটার্ন পাওয়া যাবে না। এই সময় প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে কয়েকটি বাড়তি ট্রেন তো দেওয়াই যায়। তাহলে অন্তত পর্যটকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় না।
