মহা ব্রিগেডের পরেও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকবেই

রাতুল পাত্র

কয়েকদিন ধরেই ব্রিগেড নিয়ে প্রচারের অভাব নেই। গোটা দেশের নজর নাকি থাকছে বাংলায়। এ নাকি এক ঐতিহাসিক সমাবেশ হতে চলেছে। বিজেপির উদ্দেশে এ নাকি বড় এক ধাক্কা।
কোনও সন্দেহ নেই, বড় আকারের জমায়েত হবে। এমনিতেই তৃণমূলের এখন যা সাংগঠনিক শক্তি, তাতে বড় মাপের সভা করা তাদের পক্ষে খুব একটা কঠিন কিছু নয়। বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন দল সামিল হবে, এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। নিঃসন্দেহে মোদি–‌বিরোধী অনেক হুঙ্কার শোনা যাবে।
কিন্তু তারপরেও এই সব দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। বিজেপি যদি একান্তই ধরাশায়ী হয়, তাহলে আলাদা কথা। তাহলে অনেকেই হয়ত ভিড় জমাবেন কংগ্রেস শিবিরে। কিন্তু যদি বিজেপি সরকার গঠনের কাছাকাছি থাকে, যদি আসন সংখ্যা ২০০ অতিক্রম করে, তাহলে এদের অনেকেই বিজেপি শিবিরেও লাইন দেবেন। ব্রিগেডে যাঁরা হাতে হাত ধরে ছবি তুলবেন, তাঁদের কজন বিজেপি বিরোধী অবস্থানে থাকবেন, তা নিয়েও জোর সংশয়। এমনকী যিনি এই সভার উদ্যোক্তা, যিনি নিজেকে বিজেপি বিরোধী অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন, সেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে তলে তলে বিজেপিকে মদত দেবেন না, একথা জোর দিয়ে বলা যাবে?‌

brigade2
কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে উত্তরপ্রদেশে জোট ঘোষণা করে দিলেন মায়াবতী–‌অখিলেশ। এই ঘোষণার পেছনে কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ইন্ধন ছিল না?‌ কংগ্রেসকে বাইরে রেখে বিজেপি বিরোধী সার্বিক জোট হতে পারে?‌ তাহলে লাভটা কার হচ্ছে?‌ সার্বিক জোট হলে বিজেপি উত্তর প্রদেশে হয়ত ২০–‌২৫ এ নেমে আসত, কিন্তু কংগ্রেসকে আলাদা লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিলে বিজেপি আবার ৪০ পেরিয়ে যাবে। এতে কার লাভ?‌ আঞ্চলিক দলকে একজোট করার নামে আসলে এটা কংগ্রেসকে আরও কোণঠাসা করার চেষ্টা।
এখনই বলে দেওয়া যায়, বিজেপি সরকার গড়ার কাছাকাছি থাকলে, এই দলগুলিই ছুটবে অনুগ্রহের জন্য। এরা আগেও বিজেপির সঙ্গে ঘর করেছেন। ভবিষ্যতেও করবে। তাই যতই বিজেপি বিরোধী হুঙ্কার শোনা যাক, কার কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই গেল।

Previous post বার্তা বলে কিছু হয় না, শক্তি প্রদর্শনই হল আসল কথা
Next post কাদের হাতে চাবি তুলে দিচ্ছে ওলা?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *