বারবার দেখার মতোই ছবি

সুমিত চক্রবর্তী

এবার পুজোয় যে কয়েকটি বাংলা ছবি বেরিয়েছে, তার মধ্যে তিনটি ছবি এর মধ্যেই দেখা হয়েছে। একটি পুজোর আগে, দুটি পুজোর পরে। ইচ্ছে থাকলেও মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি এখনও দেখা হয়নি। আশা করছি, দ্রুত সেটাও দেখে ফেলব।

কোনটা সবচেয়ে ভাল লাগল?‌ নিঃসন্দেহে কিশোর কুমার জুনিয়র। তিনটে ছবির মধ্যে এই ছবিটাই আবার দেখা যায়। এই ছবিটাই নিসঙ্কেচে অন্যদের দেখতে বলা যায়। কিশোর কুমার আমার প্রিয় শিল্পী। তাঁর গানকে ঘিরে, মানুষটাকে ঘিরে একটা আলাদা আবেগ সেই ছোট বেলা থেকেই। আর এই সময়ের পরিচালকদের মধ্যে কৌশিক গাঙ্গুলি আমার প্রিয় পরিচালক। তাই কিশোর আর কৌশিকের যুগলবন্দী। না দেখে পারা যায়!‌

kishore kumar junior2

একজন কপি সিঙ্গারের জীবনে কত ঘাত–‌প্রতিঘাত, কত চড়াই–‌উতরাই। লোকে ভিড় করে তাঁর গান শোনেন। কিন্তু শিল্পী হিসেবে সেই মর্যাদা পান না। কণ্ঠী হয়েই থেকে যান। এমনকী বাড়িতেও প্রাপ্য মর্যাদা পান না। কোথাও একটা যন্ত্রণা যেন তাড়া করে সেই কণ্ঠীদের। এই বাংলায় এমনই এক শিল্পী গৌতম ঘোষ। তাঁর জীবনেও এমন অনেক লুকোনো যন্ত্রণা আছে। মরমী মন নিয়ে সেগুলো তুলে এনেছেন কৌশিক। চিত্রনাট্য ও সংলাপ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। আর কিশোর কুমার হিসেবে প্রসেনজিৎ ছাড়া অন্য কাউকে মানাতো বলে মনেও হয় না। সেদিক থেকে একেবারেই সঠিক নির্বাচন।

অভিনয়ের দিক দিয়ে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। ঠিকভাবে তাঁকে ব্যবহার করলে তিনি কী কামাল দেখাতে পারেন, এই ছবিও তার বড় একটা প্রমাণ। রাজেশ শর্মার চরিত্রটিও বেশ চমৎকার। দারুণভাবে চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন রাজেশ। তবে ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ এই ছবির গান। যাঁরা কিশোর–‌ভক্ত, এই গানগুলোই তাঁদের কাছে যেন অক্সিজেন।

ছবির কাহিনি এখানে না বলাই ভাল। তাহলে চমকটা থাকবে না। হলে গিয়েই দেখুন। হলফ করে বলতে পারি, ভাল লাগবেই।

Previous post ছোট্ট টুকাই ও সেই টিয়া পাখি
Next post শুধু ব্রিজ নয়, সাঁতরাগাছিতে সমস্যার পাহাড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *