২ মাস আদালতে বন্‌ধ, সরকারের হেলদোল নেই!‌

রক্তিম মিত্র

সরকার নাকি বন্‌ধ চায় না। কোনও বিরোধী দল একদিনের বা বারো ঘণ্টার বন্‌ধ ডাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর কতই না হুঙ্কার। কখনও মাইনে কেটে নেওয়া, কখনও ছুটি কেটে নেওয়া, কখনও সার্ভিস ব্রেক করার হুমকি। বন্‌ধ ব্যর্থ করার কতই না আয়োজন!‌ অফিসেই রাত্রিযাপন থেকে শুরু করে পরে বাড়তি ছুটি পুষিয়ে দেওয়া, এমন কত কিছু।

কিন্তু দুমাস ধরে অচল হয়ে আছে কলকাতা হাইকোর্ট। বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আরও বিচারপতি চাই। দাবিটি নিঃসন্দেহে যুক্তিযুক্ত। তাই বলে এইভাবে লাগাতার বন্‌ধ?‌ দু মাস ধরে সাধারণ মানুষ বিচার পাচ্ছেন না। এমনিতেই মামলার পাহাড় জমেছিল। এমনিতেই বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতায় কত মামলা বিলম্বিত হয়ে যায়। তার ওপর যদি দু’‌মাসের কর্মবিরতি চলে, তাহলে সেই পাহাড় তো আর পাহাড় থাকে না। তখন তা হিমালয়ের চেহারা নেয়।

high court

দিনের পর দিন বার অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মবিরতির নামে বন্‌ধ চালিয়ে গেছে। রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে স্পিকটি নট। বরং, যারা এই বন্‌ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই শাসকদলের চিহ্নিত লোক। এমনকী বার অ্যাসোসিয়েশন কাদের দ্বারা প্রভাবিত, সেটাও কারও অজানা নয়। তবে, কি এটাও বিশেষ কোনও ‘‌অনুপ্রেরণা’‌?‌ একটা কথা খুব শোনা যাচ্ছিল, পঞ্চায়েত ভোট সংক্রান্ত নানা মামলা হতে পারে। তাই সেই মামলা আটকে দেওয়ার জন্যই নাকি এই কর্মবিরতি ক্রমাগত বাড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকী মামলার জট খোলেনি বলে আবার সাতদিন বাড়িয়ে দেওয়া হল সেই বন্‌ধ।

এবং কর্মবিরতির নামে চলছে জুলুমবাজিও। এক আইনজীবী পঞ্চায়েত সংক্রান্ত একটি মামলায় লড়তে চেয়েছিলেন। প্রকাশ্যে বার রুমেই তাঁর ওপর চড়াও হলেন অত্যুৎসাহী কিছু আইনজীবী। যে সরকার বন্‌ধ রুখতে এত তৎপরতা দেখায়, দু মাস ধরে আদালত বন্‌ধের পরেও তাদের টনক নড়ছে না কেন?‌

Previous post উন্নয়ন দিয়ে জেতা যায় না, সবথেকে ভাল জানেন অনুব্রত
Next post শুধু রায় নয়, চাই তীব্র ভর্ৎসনাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *