সোশ্যাল মিডিয়ায় আচ্ছন্ন প্রজন্মের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, জ্যোতি বসু ঠিক কেমন ছিলেন। সিলেবাসেও নিজেকে ঢোকানোর চেষ্টা করেননি। নিজের কাজের ভিডিও করেও রাখেননি। ছবি তুলিয়েও রাখেননি। তাই ইউটিউব বা সবজান্তা গুগল ঘাঁটলেও বিরাট কিছু পাবেন না। ঢালাও বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারের আনুকূল্যে জ্যোতি বাবুদের ভেসে থাকতে হয় না। তাঁরা থেকে যান কাজে। তাঁরা থেকে যান চেতনায়। ‘জ্যোতি বসু, ছোট্ট নাম, কী বিরাট ব্যক্তিত্ব’।
গত দুটি বিশ্বকাপে যাঁরা খেলেছেন, এমন তিরিশের বেশি ক্রিকেটারকে জাতীয় দলের আঙিনায় দেখা গেল না কেন? আইপিএলের অর্থ ও নানা হাতছানিতে তাঁরা কি হারিয়ে গেলেন? ক্রিকেট থেকে তাঁদের ফোকাসটাই কি সরে গেল? বিষয়টা সত্যিই ভাবার মতো। শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী করে লাভ হবে না। সিস্টেমেও কোথাও একটা গলদ আছে। এত এত প্রতিভাকে আগলে রাখার ক্ষেত্রে বোর্ড বা নির্বাচকদের কি কোনও দায় ছিল না?
ফেসবুকে সারাক্ষণ মগ্ন থেকে, নিজেদের কর্মসূচির ছবি পোস্ট করে, পা পছন্দের পোস্টে লাইক দিয়ে একটা আত্মশ্লাঘা হতে পারে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। যদি সত্যিই জ্যোতিবাবুর প্রতি শ্রদ্ধা থাকে, তবে মানুষের কাছে যান। কেন মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছিল, সেই কারণগুলো খুঁজে বের করুন। সম্ভব হলে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করুন। দেখবেন, তখন আর তৃণমূলকে গালাগাল দেওয়ার দরকার পড়ছে না।
স্বরূপ গোস্বামী মনে পড়ে যাচ্ছে মৃদুল দাশগুপ্তর একটি বিখ্যাত ছড়া। ফুটবল আর ক্রিকেটের তুলনা টানতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘পৃথিবীর চারভাগে/তিনভাগ জল/ক্রিকেট তুচ্ছ খেলা,/খেলা ফুটবল।’ বিশ্বকাপ ফুটবলে যখন মাসের পর মাস...
জ্যোতিবাবুর কথা বলতে গিয়ে তাঁর চেলাদের কথা এত বলছি কেন? কারণ, একটা মানুষ কেমন, সেটা তাঁর সঙ্গীসাথীদের দেখেই বোঝা যায়। এই যে এতজনের কথা বললাম, এঁদের কাউকে আপনি অসৎ বলতে পারবেন না। এঁরা কেউ কিন্তু গাড়ি, বাড়ি বা টাকার জন্য রাজনীতি করতে আসেননি। অন্য পেশায় অনেক সফল হতে পারতেন। সব হাতছানি ছেড়ে এসেছেন। জ্যোতিবাবু ছিলেন এঁদের নেতা। এঁদের দেখেই বোঝা যায়, জ্যোতিবাবু কেমন ছিলেন।
ক্যামেরা বের করলাম। হাতের সামনে সুচিত্রা। ছবি না তুললে কেউ বিশ্বাস করবে? ক্লিক করতে গেলাম। উনি চিৎকার করে বললেন, ‘প্লিজ স্টপ। আই সে, স্টপ প্লিজ।’ বলেই ভেতরের ঘরে ঢুকে গেলেন।
ধর্ম আর রাজনীতির মাঝে সেই দেওয়ালটা যেন আর থাকছে না। কারও ইচ্ছে হল, তিনি এই বাংলায় বাবরি মসজিদ বানানোর হঙ্কার দিচ্ছেন। কেউ আবার ব্রিগেডের মাঠে ঘটা করে গীতা পাঠের আয়োজন করছেন। আর সেই গীতা পাঠকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বানিয়ে ফেলছেন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, ধর্মের নামে এইসব কর্মকাণ্ড ততই বাড়বে।
আপনাকে বলা হয়েছিল, ২ কেজি আলু আনতে। তার বদলে আপনি কত জায়গায় না চক্কর কাটলেন। তারপর রান্নার মাসিকে সেই আলু দেওয়ার বদলে আপনার বিস্তর গবেষণা ও কাগজপত্র জমা দিলেন। সেই রান্নার মাসি বেচারা কী করবেন, বুঝে উঠতেই পারছেন না।
আচ্ছা বলুন তো, সবসময় ক্যামেরার নজরদারিতে থাকা যায়! বিরাট কোহলি চার মারছে, অমনি আমার দিকে ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছে। আমি হাসছি না গম্ভীর আছি, সেসব টিভি স্ক্রিনে ভেসে উঠছে। হাসলে সেই হাসি আন্তরিক না মেকি, তা নিয়ে যে যা পারছে মত দিয়ে যাচ্ছে। যদি হাততালি দিই, তাহলে কবার দিলাম, আওয়াজ উঠল কিনা, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। লোকে বলে, ক্রিকেটারদের ওপর নাকি চাপ থাকে। আচ্ছা বলুন তো, সাজঘরে বসে থাকাও কি কম চাপের!
মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়, আবার রাগও হয়। বাংলা ছবি আপনাকে সেভাবে ব্যবহারই করতে পারল না। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবির কথা মনে পড়ছে। আপনার কণ্ঠে অসাধারণ একটা গান দিয়েছিলেন সুমন—‘সূর্য তাকেই দেখতে চায়, আকাশ তাকেই ডাক পাঠায়।’ গানটি যেন আপনার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যবহার করা হল না কেন? কারা সঙ্গীত পরিচালনা করেন, তাঁরা কী চান, জানতে খুব ইচ্ছে করে।