ধীমান সাহা
সুপ্রিম কোর্ট নাকি কড়া ভাষায় তিরষ্কার করেছে সিবিআই–কে। চিট ফান্ড তদন্তে কেন এতদিন সময় লাগছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
কোনও সন্দেহ নেই, চিটফান্ড তদন্তে সিবিআই যে ঢিলেমি দেখিয়েছে, তা চূড়ান্ত অপদার্থতার প্রমাণ। কিন্তু ওপর তলার নির্দেশ ছাড়াই এমন ‘ধীরে চলো’ হয়েছে, এটা বিশ্বাস করতে রাজি নই। আগেও শুনতাম, সিবিআই–কে নাকি রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করা হয়। বিজেপি–ও বারবার এই জাতীয় আওয়াজ তুলত। কিন্তু তারা নিজেরা যেভাবে সিবিআই–কে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা অতীতের সব লজ্জাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

সিবিআই কর্তাদের যোগ্যতা বা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। এখনও বিশ্বাস করি, তাঁরা চাইলে সাতদিনের মধ্যেই তদন্তের সত্তর থেকে আশিভাগ কাজ সেরে ফেলতে পারতেন। তা যখন পারেননি, তখন উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। অনন্তকাল ঝুলিয়ে রাখো। এই ঝুলিয়ে রাখাটাই হল ব্ল্যাকমেলিংয়ের অস্ত্র। যখন দরকার পড়বে, তখন একটু একটু করে ঝুলি থেকে বেড়াল বের করো।
আসলে, রাজ্য সরকার ভাল করেই জানে, সিবিআই কিছু করতে পারবে না। ঠিক তেমনি সিবিআই–ও জানে, সুপ্রিম কোর্ট তেমন কিছুই করতে পারবে না। তাদেরও আঠারো মাসে বছর। যে কারণে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই–কে দোষারোপ করছে, একই দোষে যে তাঁরাও দুষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে সিবিআই তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। এই তদারকির নমুনা? চার বছর পেরিয়ে গেল। তদন্তের নামে কার্যত প্রহসন চলছে। সাদা চোখেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, কারা কাদের আড়াল করতে চাইছে। এরপরেও বিচারপতিদের কিছুই করার নেই? ছ’মাস পরে একবার করে বিরক্তি প্রকাশ বা তিরষ্কার। ব্যাস, এখানেই কোর্টের দৌড় শেষ।
তাছাড়া, আজ যে বিচারপতি তদন্তে ঢিলেমির জন্য সিবিআই–কে দোষারোপ করছেন, যতদূর মনে পড়ে, সেই বিচারপতিই যখন কলকাতা হাইকোর্টে ছিলেন, তখন রাজ্য পুলিসের তদন্তে আস্থা রেখেছিলেন। সিবিআই তদন্তের দাবি খারিজ করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছিল বিকাশ ভট্টাচার্য–আব্দুল মান্নানদের। অর্থাৎ, শুরু থেকে তদন্তের ব্যাপারে কড়া মনোভাব এই বিচারপতিরাও দেখাননি।
সিবিআই যদি অনন্তকাল তদন্ত ঝুলিয়ে রাখে, তার দায় সর্বোচ্চ আদালতও এড়াতে পারে না। কেন তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি? নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কেন রিপোর্ট চাওয়া হয়নি? চূড়ান্ত গাফিলতির জন্য কেন আধিকারিকদের কড়া ভাষায় তিরষ্কার বা শাস্তি হয়নি? যেটা সাদা চোখে দেখা যাচ্ছে, যেটা সবাই বুঝতে পারছে, সেটার তদন্ত করতেও এত সময় লেগে যাচ্ছে?
জনতার কিছুই করার নেই, ধিক্কার দেওয়া ছাড়া। সিবিআই যদি ধিক্কারের যোগ্য হয়ে থাকে, তবে গড়িমসির জন্য কিছুটা ধিক্কার বিচারবিভাগেরও প্রাপ্য।
