মুলায়মকে কখনও ইংরাজি বলতে শুনেছেন!
শোনা যায়, প্রথম জীবনে তিনি পেশায় অধ্যাপক ছিলেন। তাও আবার বিজ্ঞান বিভাগের। এমন একজন মানুষ কি চেষ্টা করলে দু–চার লাইন ইংরাজি বলতে পারতেন না? আলবাত পারতেন। কিন্তু কোনওদিন চেষ্টাই করলেন না।
শোনা যায়, প্রথম জীবনে তিনি পেশায় অধ্যাপক ছিলেন। তাও আবার বিজ্ঞান বিভাগের। এমন একজন মানুষ কি চেষ্টা করলে দু–চার লাইন ইংরাজি বলতে পারতেন না? আলবাত পারতেন। কিন্তু কোনওদিন চেষ্টাই করলেন না।
একবার যদি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আদবানির নাম ঘোষণা করে দিতেন, তাহলে সত্যিই চাপে পড়ে যেতেন মোদি অমিত শাহরা। তখন তাঁরা কী করবেন, সত্যিই ভেবে পেতেন না। বাধ্য হয়েই এই নামটা গিলতে হত। নৈতিক জয় হত মমতারই। কেন যে মমতা এই তাসটা ফেললেন না!
এবার এই রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হয়েও তিনি খুব খুশি, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। এই বয়সে এসে কে নিজের মান সম্মান খোয়াতে চান? হয়ত তাঁকে রাজ্যসভার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই এবারের মতো হয়ত রাজি হয়ে গেলেন। কয়েকমাস পর মিলিয়ে নেবেন। আর এরপরও যদি টিকিট না মেলে, লিখে রাখুন, তৃণমূলের ত্রিসীমানাতেও তাঁকে দেখা যাবে না।
জাতির উদ্দেশে ভাষণটা যে বিরোধীদের আক্রমণের মঞ্চ নয়, এই ন্যূনতম সহবৎ শিক্ষাটাই এখনও হল না। আগের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিরাও নানা সময়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেগুলো নিশ্চয় আর্কাইভে আছে। আগে সেগুলো মন দিয়ে শুনুন। জেনে নিন, জাতির উদ্দেশে ভাষণে কী বলতে হয় আর কী বলতে নেই। এত বড় একটা দেশের প্রধামন্ত্রী এমন মূর্খামি করে যাবেন, এটা দেশের পক্ষে সত্যিই লজ্জার।
সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীকে রোজ রোজ ভাষণ দিতে হয় না। নিজের ছবিতে রাজ্যকে মুড়ে দিতে হয় না। সরকারি মঞ্চ থেকে ভুলভাল বকতে হয় না। রাজনৈতিক তরজা করতে হয় না। সেখানকার কাগজে রোজ মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ছাপতে হয় না। ছবি না ছাপলেও বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায় না। এই ওড়িশাকে দেখে আমরা কি কিছুই শিখতে পারি না!
জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে কি বিধানচন্দ্র রায়ের কথা হত না? ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কি জ্যোতি বসুর কথা হত না? এমনকী আদবানি–বাজপেয়ীদের সঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যেরও কথা হয়েছে। সবসময় যে প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী একমত হয়েছে, এমনও নয়। কখনও কখনও চূড়ান্ত বিতর্কও হয়েছে। কিন্তু সেই কথোপকথন বেআব্রু হয়ে যায়নি। দৈনন্দিন কাগজের হেডলাইন হয়ে ওঠেনি। কারণ, দুপক্ষই ছিলেন শিক্ষিত, মার্জিত। তাঁরা জানতেন, প্রশাসন কীভাবে চালাতে হয়। তাঁরা জানতেন, প্রশাসন চালাতে গেলে একটা শিষ্টাচার মানতে হয়। সব কথা প্রকাশ্যে আনতে নেই। এই কথোপকথন নিয়ে সস্তা নাটক বা গ্যালারি শো করতে নেই।
লোকসভার কোনও এমপিকেই টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তবে রাজ্যসভার সদস্য মানস ভুঁইয়া ফের জিতে এসেছেন সবং থেকে। ফলে, রাজ্যসভায় একটি আসন ফাঁকা হচ্ছে। কে যাবেন। এখন থেকেই জল্পনা শুরু তৃণমূলে। জোরালো সম্ভাবনা যশবন্ত সিনহার।
এবার বোঝা গেল, কেন আমি বারবার আসছি? এবার বোঝা গেল, কেন আমি আবার তৃণমূলকেই চাই। চুপি চুপি মন কী বাত জানিয়ে রাখলাম। বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, আমার জায়গায় আপনারা থাকলে আপনারা কী করতেন? আমি যেটা করছি, সেটাই করতেন। মোদির আসল মন কী বাত। চুপি চুপি শুনে নিলেন স্বরূপ গোস্বামী।
বাংলার মূলস্রোত মিডিয়া সেই খাতেই বয়ে চলেছে। কেউ স্বেচ্ছায়। কেউ অসহায়ভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলবেন, আমি সেরা। বাকিদেরও তাই বলতে হবে। কীসের ভিত্তিতে সেরা, কে প্রশ্ন করল, কে খাতা দেখল, জিজ্ঞেস করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী রেগে যাবেন, এমন কোনওকিছুই করা চলবে না। আদবানির জন্মদিনে তাঁর কথাগুলো বড্ড মনে পড়ে যাচ্ছে। চুয়াল্লিশ বছর আগে কী খাঁটি কথাটাই না বলেছিলেন! লিখেছেন রক্তিম মিত্র।