এমন ভ্রমণপ্রিয় জাতি আর কটা আছে!‌

কিন্তু মুশকিলটা হল ট্রেনের টিকিট। চার মাস আগে থেকে টিকিট কাটা যায়। কিন্তু এত এত ট্রেন থাকার পরেও থিম সং সেই ‘‌ঠাঁই নাই, ঠাঁই নেই।’ টিকিটের আশায়‌ ভোর থেকে লাইন দেওয়া। কিন্তু কাউন্টার খুলতে না খুলতেই শেষ। চার মাস আগে টিকিট কাটবেন, তাও কনফার্ম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ষষ্ঠীর দিনে পাওয়া যায়নি!‌ বেশ, না হয় সপ্তমীর দিনই বেরোনো যাক। নাহ, তাও ঠাঁই নেই। রাতের ট্রেনে না হয় নেই। দিনের ট্রেনেই না হয় যাওয়া যাবে। সারাদিনটা না হয় ট্রেনেই কাটবে। সে গুড়েও বালি।

‌তোমার বাড়ি আমার বাড়ি মকাইবাড়ি, মকাইবাড়ি

আপনার কাছেই তো সেই ঐতিহাসিক নকশালবাড়ি। সেখানে গণ অভ্যুত্থানের সময় একটা স্লোগান উঠেছিল, ‘তোমার নাম, আমার নাম/ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম।’ তখন আমার জন্মও হয়নি। কিন্তু স্লোগানটার কথা কতবার যে শুনেছি! ওই ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করত, ‘তোমার বাড়ি, আমার বাড়ি/মকাইবাড়ি মকাইবাড়ি।’

চটকপুর এত দুর্গম থাকবে কেন?‌

চটকপুরের মতো এত সুন্দর জায়গা বঞ্চিত থাকবে কেন?‌ জিটিএ নাকি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, পূর্ত দপ্তর নাকি পর্যটন দপ্তর, কারা এই দায়িত্ব নেবে জানি না। তবে পর্যটনের স্বার্থে এবং সেই সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের স্বার্থে দ্রুত এই রাস্তা মেরামত করা দরকার। বিষয়টি যেহেতু পর্যটনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাই পর্যটন দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে নিশ্চয় তাঁরা একটা উপায় ঠিক খুঁজে বের করবেন, এই আশা রাখি।

উপন্যাস:‌ নেতারহাটে নিশির ডাক

একটু বেড়ানো, একটু সাংবাদিকতার ফ্ল্যাশব্যাক, একটু রহস্য, একটু গা ছমছমে অনুভূতি। সবমিলিয়েই স্বরূপ গোস্বামীর ‘‌নেতারহাটে নিশির ডাক’‌। একটু অন্যরকম উপন্যাস। এমনিতেই লোকের পড়ার ধৈর্য কম। তবু দুশো পাতার এই বই...

পাহাড় যেন দু’‌হাত উজাড় করে সবকিছু ফিরিয়ে দিল

একটা দুশ্চিন্তাকে সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলাম পাহাড়ে। পৌঁছনোর পরেও সেই দুশ্চিন্তাই যেন তাড়া করছিল। সকালের ঝলমলে কাঞ্চনজঙ্ঘাই যেন সবকিছু বদলে দিল। ভরা বর্ষায় সে এমনভাবে দেখা দেবে, ভাবনারও অতীত ছিল। ওই হেম স্টেতে বসেই কিনা হয়ে গেল বহুজাতিক কোম্পানির দু’‌খানা ইন্টারভিউ। সবই কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগছে। পাহাড় সফরের অন্য এক উপাখ্যান। উঠে এল শান্তনু পাঁজার লেখায়।

ছোট্ট ছুটিতে, মেঘের দেশে

প্রখর দারুণ অতি দীর্ঘ দগ্ধ দিন। এই গরমে কোথায় একটু প্রাণ জুড়োই। অথচ, খুব দূরেও যাওয়া যাবে না। লম্বা ছুটিও পাওয়া যাবে না। তাই পড়শি রাজ্য সিকিম থেকেই ঘুরে আসা যাক। মেঘ ভেসে বেড়ায়, এমন এক রাজ্য। লিখেছেন সুমিত চক্রবর্তী।।

যেখানে মেঘ গাভীর মতো চরে

পাহাড়ের আনাচে কানাচে কত অচেনা জনপদ। দার্জিলিং–‌গ্যাংটক চিৎকারের আড়ালে সেগুলি চাপা পড়ে যায়। কার্শিয়াংয়ের কাছে তেমনই একটি মন ভালো করে দেওয়া জায়গা বাগোড়া। সেখান থেকে ঘুরে এসে লিখলেন অন্তরা চৌধুরী।।

জঙ্গলে নৌকাবিহার, ধরা দিল অন্য এক ডুয়ার্স

মুশকিল আসান সেই বাবু। ভাল নামটা কী, জানা হয়নি। জানার দরকারও নেই। বাবু নামেই গোটা রাজাভাতখাওয়ায় পরিচিত। ছোটখাটো একটি ছেলে। অটো নিয়ে সারাদিন এদিক–‌সেদিক ঘুরে বেড়ায়। সকালে হাঁটতে হাঁটতে চেকপোস্টের কাছে দেখা হয়ে গেল বাবুর সঙ্গে। জানতে চাইল, আজ কোথাও যাবে না। কী মনে হল, জানি না। হঠাৎ ওকে বলে বসলাম, চলো, তুমি যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই যাব। তবে দূরে কোথাও নয়। মোটামুটি আধঘণ্টার মধ্যে। দুপুরের মধ্যে যেন ফিরে আসতে পারি।

পাহাড়ি গ্রামে কে ওই বিদেশিনী!

কিছুদূর যাওয়ার পরই রাস্তার পাশে একটা ছবির মতো সুন্দর বাড়ি চোখে পড়ল। সামনে অজস্র ফুলে ঘেরা লন। সেখানে বসে এক বিদেশিনী আলতো রোদ গায়ে মেখে একমনে বই পড়ছেন। দৃশ্যটা মনে গেঁথে যাওয়ার মতোই। জায়গাটা একঝলক দেখেই বেশ ভাল লেগে গেল। জানা গেল, সেটা এক নেপালী পরিচালিত হোমস্টে। বাড়ির সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা। নানারকম পাহাড়ি ফুল বাগান আলো করে রেখেছে। অদ্ভুত প্রজাতির পাতাবাহার ও অর্কিডও রয়েছে। পাশেই রয়েছে বহু পুরনো বিশাল এক চার্চ।সিটং থেকে ফিরে লিখলেন অন্তরা চৌধুরি।

ওখড়ে সুন্দরীর কোলে দু’‌রাত

কাছাকাছি পায়ে হেঁটে গ্রাম ঘুরতে বেশ ভালো লাগল। সঙ্গে এবার বাপানও যোগ দিয়েছে। শান্ত, নিরিবিলি। মাঝে মাঝে ফেয়ারি টেলসের বাড়ির মতো রঙিন ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি। শরতের মতো নীল আকাশ মাঝে মাঝে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। নানা রঙের প্রেয়ার ফ্ল্যাগ উড়ছে। রাস্তার দু’‌পাশে আপন খেয়ালে রংবেরংয়ের ফুল ফুটে আছে। কোনও যত্ন ছাড়াই বড় হচ্ছে তারা।