সোনাদা থেকে চটকপুরের রাস্তাটা খুব খারাপ। কিন্তু আমাদের বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস লাগছিল। একটা ঝকঝকে দিনে আমরা চটকপুর এসে পৌছলাম। আমাদের ড্রাইভার দাদাও বলছিলেন ‘আপলোগ ধূপ লে করকে আয়ে হো’৷ মাত্র আগের দিনই মেঘলা আকাশ ছিল। যেমনটা ভেবেছিলাম চটকপুর থেকে যে রূপে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখলাম সেটা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্যি নেই। এমনকী কোনও ছবিতেও বোঝানো যাবে না। ক্যামেরার লেন্সেরও সেই সাধ্য নেই। চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করলাম বিশাল শায়িত বুদ্ধ৷
এই যে হাতি, চিতাবাঘের মাঝে শুয়ে থাকেন, ভয় লাগে না? সাধুবাবা বলতেন, ওদের ভয় পেতে যাব কেন? ওরাও তো আমাকে ভয় পায় না। ওরাও দেখে আমি একা একা এখানে পড়ে থাকি। আমাক মেরে ওদের লাভ কী? ওরাও জানে, কারা ওদের ভালবাসে।
গত দু’আড়াই বছর ধরে বিজেপির এলাকাভিত্তিক সাংগঠনিক চেহারা মোটেই আশাপ্রদ নয়। অ্যান্টি এস্টাব্লিশমেন্ট ভোট পাওয়া এক জিনিস। আর সেই লোককে রাস্তায় নামানো আরেক জিনিস। এই ভোটটাকে কেউ কেউ সাংগঠনিক ভোট ধরে নিলেন। যেটা বাস্তবে নয়।
গত কয়েক বছরে পর্যটনে একটা নতুন দিক খুলে গেছে। সেটা হল, হোম স্টে। বেড়াতে যাওয়া মানে এখন আর শুধু হোটেল বা রিসর্টে থাকা নয়। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে হোম স্টেতেও থাকতে পারেন।...
সন্ধ্যে নামার ঠিক আগে পৌঁছে গেলাম কোলাখাম গ্রামে। এদিক ওদিক ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন হোমস্টে। তার মধ্যে ক্যাসিরো ইন, দ্য নেস্ট, স্টার হলিডেজ, দ্য ট্রেল্স এই হোমস্টে গুলো উল্লেখযোগ্য। হোমস্টে হিমালয়ান ওডেসির ব্যালকনি থেকে সামনের উপত্যকা চমৎকার দেখা যায়। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে সামনের কাঞ্চনজঙ্ঘা কাল দেখা যাবে। এখানে বসে থাকলে মনে হয়, অলসভাবে সময় বয়ে যাক। মনে হয়, আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই।
আমাদের ঘরটা বেশ সুন্দর। ঘর লাগোয়া বারান্দা থেকে খুব ভাল ভিউ পাওয়া যায়। দূরের পাহাড়ে পেলিং শহর দেখা যায়। আর যেটা দেখা যায় সেটা হল সন্ধ্যেবেলা আকাশের তারাগুলো কীভাবে আলোর বিন্দুর সঙ্গে মিশে যায়। ১৮০ ডিগ্রি ভিউতে দেখা যাচ্ছে বিন্দু বিন্দু আলোয় ভর্তি পাহাড়ের সারি, এক কথায় অসামান্য। মনে হচ্ছিল, একঝাঁক তারা যেন কোন এক অমোঘ আকর্ষণে মাটিতে নেমে এসেছে।
দুই বন্ধু একমত হলাম, কার্শিয়াংয়ের কাছে ডাউহিলে গেলে কেমন হয়! জায়গাটা দারুণ, কিন্তু থাকার জায়গার অভাব। একটা ফরেস্টের বাংলো আছে। কিন্তু বুকিংয়ের হাজার ঝামেলা। ডিএফও–কে ফ্যাক্স করতে হবে। তারপর কবে তার রিপ্লাই আসবে, কে জানে! উত্তর ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাও কম। পাহাড়ি জনপদে ঘুরে আসার অনুভূতি। মেলে ধরলেন অভীক মজুমদার।
চারপাশে নাম না জানা গাছের সারি। কোথাও ফিকে। কোথাও ঘন। সন্ধে নামলেই গা ছমছমে একটা ব্যাপার। বনের মধ্যে নির্জন কাঠের বাংলো, ঝুপড়ি হোটেল, শুনশান স্টেশন, হাতির ডাক। ডুয়ার্সের টুকরো টুকরো ছবি। উঠে এল অন্তরা চৌধুরির লেখায়।
আগে যখন গানটা শুনতাম, মনে হত গাঁজাখুরি। খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই। ‘মেঘের উপর দিয়ে হাঁটি’! কিন্তু এখন সত্যি সত্যি আমারও হেঁটে বেড়াতে ইচ্ছে করছে। মেঘের কি আর ঠিকানা আছে! কোথায় উড়ে যাবে, কে জানে! তোমার ঠিকানাও তো জানি না। তবু চিঠি লিখতে বাধা কোথায়! যেমনভাবে লিখি, পৌঁছয় না, তবু লিখি।
কিছু ভুলভাল ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুকের কিছু পোস্টে গুঞ্জন ছড়াতেই পারে। তাই বলে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় এই নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রচারিত হবে? ফেসবুকের দু’চারজন অর্বাচিনের সঙ্গে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও নিজেদের এক করে ফেলছে! সত্যিই, অনুপ্রেরণা বড়ই ভয়ঙ্কর জিনিস।