যেদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুংকার দিয়েছিলেন, সেদিনই বোঝা গিয়েছিল, এর পরিণতি কি হতে পারে। তিনি পূজা কমিটিগুলোকে বলেছিলেন, বামপন্থীরা যদি শারদোৎসব লেখে, তাহলে যেন তাঁদের স্টল করার অনুমতি না দেওয়া হয়। তিনি বলেছিলেন, বামেদের স্টলে কেন লেনিন, মার্কসের বই থাকবে? তিনি যখন প্রবল হুংকার সহযোগে এইসব কথা বলছিলেন, তখন বিধানসভার অন্দরে প্রবল হাততালি পড়ছিল। কোন এক মনীষী, কেন সংসদ কে শুয়োরের খোঁঁয়ার বলেছিলেন, সেদিন বেশ ভালোই বোঝা গিয়েছিল।
কর্তারা ধরে আনতে বললে, পরিষদরা সবসময়ই বেঁধে আনেন। তুমি এমন হুংকার দেওয়ার পরই রাজ্যের আইনমন্ত্রী বলে বসলেন, বামপন্থীদের স্টল হলে আমি নিজে সেই স্টল ভেঙে দিয়ে আসবো। এই সব অর্বাচীন লোকেরা এই রাজ্যের মন্ত্রী, ভাবতে গেলে এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই বরাদ্দ থাকে না। স্টল পরে ভাঙবেন। নিজের মন্ত্রীত্বের পদকে সেদিনই ধর্ষণ করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এই কথাটা বলতে পেরেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন স্পিকার বলে যে লোকটি চেয়ারে বসে আছেন, তার ঘাড়ে দুটো মাথা নেই এই কথাকে ধিক্কার জানাবেন।
ফল যা হওয়ার তাই হল। পুজোর আগে থেকেই তান্ডব শুরু হয়ে গেল। যে যেখানে পারলেন, টল ভাঙতে নেমে পড়লেন। এই স্বঘোষিত মহান বিপ্লবীরা কখনো ভারত মাতা কি জয় বললেন। কখনো রামের নাম নিলেন। কখনো আবার স্বামী বিবেকানন্দের নামও নিলেন। ভাগ্যিস বিবেকানন্দ বেঁচে নেই। থাকলে এমন মাকাল ফলদের মুখে নিজের নাম শুনলে নির্ঘাত আত্মহত্যা করতেন।
বীর পুঙ্গবরা একা এলে তবু না হয় বোঝা যেত সাহস আছে। তারা জানেন পুলিশ তাদের সঙ্গে আছে। এইসব সব হসপিটাল দেশপ্রেমীদের বচনগুলি বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে ভেসে উঠছে। আহা, আমার সোনার বাংলা।
আসলে এই মহান বিপ্লবীরা জানেন, তারা যতখানি মূর্খ, তাদের কর্তারাও ততটাই মূর্খ। যাদের নেতা মেট্রিক পোস্টটুকু করতে পারেনা, এই ভক্তরা এমনই তো হবেন। মূর্খরা মূর্খদের ঠিক চিনে নেয়। মামিদের স্টলে কি কি বই থাকে, তাদের জানার কথাও নয়। ওটা জানতে গেলে পেটে একটু বিদ্যে লাগে।
মুখ্যমন্ত্রী হয়তো ভেবে আপ্লুত হচ্ছেন, তিনি কত জনপ্রিয়। তিনি একবার ডাক দিলেন, বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর শুরু হয়ে গেল। আহা নব্যযুগের এক নেতাজি। নেতাজির ডাকে নেমে পড়েছিল আজাদ হিন্দ বাহিনী। তৃণমূলের পদতলে দুই দশক কাটিয়ে আসা নেতা হঠাৎ করে হিন্দু নেতা সেজে বসেছেন। এই ভাঙচুরে আসলে কার মুখ পুড়লো? বোঝার বুদ্ধিটাও হয়তো হারিয়ে ফেলেছেন। রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী কে? দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও একের পর এক স্টলে ভাঙচুর হচ্ছে। ভাঙতে পুরসভা থেকে বুলডোজার চলে আসছে। বই ফেলতে ময়লা ফেলার গাড়ি চলে আসছে। নিজেকে বিদ্যাসাগরের জেলার সন্তান বলে খুব বড়াই করেন। কেমন কৃতি সন্তান, বেশ বোঝা যাচ্ছে।
যারা রামের নাম নিয়ে, হিন্দুত্বের নাম নিয়ে এই গুন্ডামি করছেন, এদের শতকরা আশি শতাংশ হয়তো কৃত্তিবাস ওঝার নামটাও শোনেনি। তারা একের পর এক স্টল ভেঙ্গে আসলে কি প্রমাণ করলেন? এটাই প্রমাণ করলেন, রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিচ্ছু নেই। প্রমাণ করলেন স্বাধীনতার পর থেকে এমন ব্যর্থ এবং অপদার্থ পুলিশ মন্ত্রী এই বাংলায় আসেননি।
থাপ্পড়টা কার গালে পড়ল, ভাবুন।ভাবা প্র্যাকটিস করুন।
