রক্তিম মিত্র
অদ্ভুত এক উন্মাদের পাঠক্রম। যে কোনও অসভ্যতাই এখন দেশপ্রেমের তকমা পেয়ে যাচ্ছে। কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকেও কী অবলীলায় রাষ্ট্রবাদ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একটি–দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দিকে দিকে এই প্রবণতাই যেন ছড়িয়ে পড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব দর্শক। আর মন্ত্রীরা সেই অসভ্যতার নিন্দা করা তো দূরের কথা, উল্টে সাফাই গাইতে শুরু করেছেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামটা শুনলেই এঁদের কেন যে এত গাত্রদাহ হয়, কে জানে! যাদবপুর মানেই নাকি জিহাদি। যাদবপুর মানে দেশ বিরোধী কার্যকলাপ। কী অবলীলায় বলে যাচ্ছেন। পান দোকানের পানুদা, বা চায়ের দোকানের চাঁদুদা বললে তবু না হয় কথা ছিল। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তাঁরাও কী অবলীলায় এইসবপ আবোল তাবোল বকে যাচ্ছেন। তাও আবার গলা ফুলিয়ে, ক্যামেরার সামনে!
অনেক সংযম দেখিয়েও বলতে হচ্ছে, এইসব অর্বাচীন ও মূর্খ লোকেরা মন্ত্রিসভায় কী করছেন? হ্যাঁ, মূর্খদের এবার মূর্খ বলার সময় এসেছে।
গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিধায়কের নেতৃত্বে একদল এসে বিশ্ব বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে গেল, ভাঙচুর করে গেল। যেহেতু গেরুয়া পোশাক পরে এসেছে, অতএব এঁদের ‘রাষ্ট্রবাদী’ বলতে হবে! কী অদ্ভুত আবদার! এরপরেও শাসক দলের মধ্যে এই ঘটনার নিন্দা করার লোক তেমন পাওয়া গেল না। উল্টে সেই বিধায়ক এখনও হুঙ্কার দিয়ে বেড়াচ্ছেন। টিভি চ্যানেলে লম্বা ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীও এসে হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভুলেই যান যে তিনি প্রশাসনের মাথায় বসে আছেন। তিনি নাকি ড্রোন উড়িয়ে দেখবেন। কোথায় কী হয়, সেইসব ছবি বের করবেন। ড্রোন উড়িয়ে এত কষ্ট করে ছবি তুলে আনার কী দরকার। আপনার দলের বিধায়ক প্রকাশ্যে, ক্যামেরার সামনে তাণ্ডব চালালেন। যদি সৎসাহস থাকে, আগে তাঁকে সবক শেখান। ছাত্রদের পরে হুঙ্কার দেবেন। যদি প্রশাসনিক প্রধান হয়ে থাকেন, তাহলে ওই গেরুয়া পতাকা নিয়ে যে দুর্বৃত্তরা তাণ্ডব চালিয়ে গেল, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। সেই সাহসটুকু যদি না থাকে, খামোখা ছাত্রদের আর বিরোধীদের হুঙ্কার দিচ্ছেন কেন?
একটি কাগজে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ লিখল বলে নাকি ভাবাবেগে বিরাট আঘাত লেগে গেল। গেরুয়াকে যদি সত্যিই ভালবেসে থাকেন, তাহলে গেরুয়া রঙের সুবাদে যারা অবাধে গুন্ডামি চালিয়ে যাচ্ছে, আগে তাদের ধরুন। গেরুয়ার আসল অসম্মান তো তারাই করেছে। বাম জমানায় যখন কোনও অপ্রিয় ঘটনা ঘটত, তখন কি ‘লাল সন্ত্রাস’ বলা হত না? ‘লাল হঠাও’ যখন বলা হয়, তখনও তো কোনও রঙকে, কোনও আবেগকে আঘাত করা হয়। এমনকী যখন তৃণমূলের গুন্ডামি বলা হয়, তখনও সব তৃণমূলকে বলা হয় না।
এই অশিক্ষিত, অর্বাচীনদের কাছে গেরুয়ার কোনও গুরুত্বই নেই। গেরুয়াকে ঘিরে কোনও আবেগও নেই। যদি বিজেপি ক্ষমতায় না আসত, গেরুয়ার ত্রিসীমানাতেও এদের অধিকাংশকে খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ কেন লেখা হল, তা নিয়ে হুঙ্কার না দিয়ে, গেরুয়ার সম্মান নিয়ে কারা এই গুন্ডামি করার সাহস পাচ্ছে, আগে তাদের হুঙ্কার দিন। শিক্ষাঙ্গনে এই দুর্বৃত্তদের প্রবেশ বন্ধ করুন। দোহাই, এই অসভ্যতাকে, এই গুন্ডামিকে রাষ্ট্রবাদ বলে চালাবেন না।
