যেন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলেন

সরল বিশ্বাস

‌একটি আত্মহত্যা যেন অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। রাজনীতিতে শিক্ষিত ও ভদ্রলোকের বড়ই আকাল। সব দলেই এমন মানুষের সংখ্যা বেশি, যাঁদের দেখলে তেমন শ্রদ্ধা আসে না। সেই আবহেই কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের উপস্থিতি হয়তো সেভাবে বোঝা যায় না। হয়তো তাঁরা নিতান্তই কম সংখ্যায় থাকেন। তাই ঢাকা পড়ে যান।

এমনই এক মানুষ ছিলেন আশিস ব্যানার্জি। রাজনীতির বাইরেও তাঁর অন্য একটা পরিচিতি ছিল। বাংলার অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন শ্রদ্ধার মানুষ। তিনি কিন্তু তৃণমূলের হাওয়ার তোড়ে জিতে আসেননি। ২০০১ বা ২০০৬ সালেও জিতেছিলেন। অন্যন্ত সজ্জন মানুষ। মন্ত্রী হয়েছেন, ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন, কিন্তু জীবনযাপন একইরকম ছিল। তাঁর দিকে দুর্নীতি বা ঔদ্ধত্যের কোনও অভিযোগ ছিল না।

চারপাশের এই আবহে হয়তো মনে মনে কষ্টই পাচ্ছিলেন। নিজে দুর্নীতি থেকে যথাসাধ্য দূরেই থেকেছেন। কিন্তু সবসময় হয়তো প্রতিবাদী বা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর অন্তিম ইচ্ছাপত্রে অনেক আক্ষেপের কথা যেমন আছে, তেমনই আছে কঠোর আত্মসমালোচনাও। অন্যের দিকে আঙুল তোলা নয়, কার্যত নিজের দিকেই আঙুল তুলেছেন। এর থেকেই বোঝা যায়, তিনি কতটা ব্যতিক্রমী মানুষ ছিলেন।

শেষবেলাতেও নিজের শিক্ষক পরিচয়টিকেই গর্বের সঙ্গে সামনে এনেছেন। সেই পরিচয়েই বাঁচতে চেয়েছেন। অকপটে লিখেছেন, রাজনীতিতে আসা তাঁর ভুল হয়েছিল। তাঁর পরিবারের লোকেরা যেন এই পথে না আসেন, সেই ব্যাপারেও বারবার সতর্ক করেছেন। সবাই যখন নিজের সন্তান বা আত্মীয়দের নেতা বানাতে ব্যস্ত, তখন তিনি একেবারেই অন্য পথে হেঁটেছেন। এরকম মানুষের চলে যাওয়া সত্যিই বড় এক শূন্যতা। কিন্তু তিনি যেন আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেলেন। তিনি যেন আমাদের সমাজকে এক আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলেন।

Previous post সরকারকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে গেলেন আশিস ব্যানার্জি
Next post ‌রাজা সেনের সেই ক্যামেরা এখনও চলছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *