গত কয়েকমাস ধরে চর্চায় ঘুরে ফিরে এসেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কথা। ভোটের আগেই সংকল্পপত্রে বিজেপি জানিয়েছিল, মহিলাদের জন্য দেওয়া হবে মাসিক তিন হাজারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন, সবাই এই ভাতা পাবেন। মহিলাদের বড় একটা অংশ সমর্থন জানিয়েছিলেন বিজেপিকে।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আগে যত সংখ্যক মহিলা লক্ষ্মী ভাণ্ডার পেতেন, তাঁর অর্ধেক সংখ্যকও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছেন না। অনেকেরই নাম ওঠেনি। স্বাভাবিকভাবেই একটা হতাশা তৈরি হয়েছে। বিরূপ প্রতিক্রিয়াও তৈরি হচ্ছে।
কারা পাবেন আর কারা পাবেন না, এই ব্যাপারে সরকারের কিছু নির্দেশিকা থাকতেই পারে। কিন্তু ভোটের আগে এইসব নির্দেশিকার কথা শোনা যায়নি। বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে একেবারে নীচের দিকে ছোট্ট করে লেখা থাকে ‘শর্তাবলী প্রযোজ্য’। এই ফাঁদেই অনেকে পা দিয়ে ফেলেন। সেই ‘শর্তাবলী’ আসলে কী, তা খুঁটিয়েও দেখেন না। এক্ষেত্রেও তাই। এখন যেসব শর্তাবলীর কথা বলা হচ্ছে, আগে কিন্তু তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বরং এমন ভান করা হয়েছিল, সবাই পাবেন। মহিলারা ধরেও নিয়েছিলেন, সবাই এই ভাতা পাবেন। কিন্তু বিরাট অংশের মহিলাকে কার্যত হতাশ হতে হয়েছে।
শুধু তাই নয়, একই পরিবারে হয়তো বড় বউয়ের হয়নি, কিন্তু ছোট বউয়ের হয়েছে। এই বাড়িতে হয়নি, পাশের বাড়িতে হয়েছে। এর ফলে, একটা পারস্পরিক ঈর্ষাও তৈরি হচ্ছে। দুই গৃহবধূর মধ্যে একটা চাপা লড়াই তৈরি হয়ে যাচ্ছে। সরকার পক্ষ হয়তো যুক্তি দেখাবে, এত টাকা নেই। যুক্তি হিসেবে ভাল। কিন্তু প্রশ্ন উঠতেই পারে, টাকা যে নেই, সেটা ভোটের আগে জানা ছিল না?
