শান্তনু মাইতি
দিল্লিতে আবার জোট বৈঠক। পাঁচ রাজ্যের ফলাফল শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভোট পরবর্তী সমীক্ষা বিজেপিকে মোটেই স্বস্তিতে রাখছে না। যদি তিনটে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেও যায়, ঘাড়ের ওপর কংগ্রেসের নিশ্বাস। জাতীয় স্তরেও মূল বিরোধী হিসেবে কংগ্রেস যে উঠে আসছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
তাহলে, এই জোট বৈঠক কী বার্তা বয়ে আনতে পারে? কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি–বিরোধী জোট? নাকি আপাতত কংগ্রেসকে বাইরে রেখে বিরোধী জোট? যদি কংগ্রেসকে বাইরে রেখে জোটের কথা ভাবা হয়, তাহলে তা বিজেপি–র পালেই হাওয়া তুলবে। কারণ, কংগ্রেসকে বাইরে রেখে বাকি আঞ্চলিক দলগুলির জোট মানে বিজেপি–বিরোধী ভোট ভাগ করা। এতে কার উপকার হবে? মধ্যপ্রদেশে যদি বিজেপি ফের ক্ষমতায় থেকেও যায়, সেক্ষেত্রে তাঁদের কৃতজ্ঞ থাকতে হবে মায়াবতীর কাছেই। কারণ, মায়াবতীই ভোট কেটে বিজেপি–র রাস্তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। মায়াবতী যতই নিজেকে বিজেপি বিরোধী বলে তুলে ধরার চেষ্টা করুন, তাঁর ভূমিকা যে বিজেপিকে অক্সিজেন দিচ্ছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেডারেল ফ্রন্টের এই আঞ্চলিক দলগুলিও কি সেভাবেই বিজেপি–কে অক্সিজেন দিতে চায়?

সহজ কথা, যে দলগুলি সামিল হচ্ছে, তাদের কারও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আছে? অতীতেও এই দলগুলি বিজেপির সঙ্গে ঘর করেছে। ভবিষ্যতেও আবার বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়তে সময় লাগবে না। এখন বিজেপি কিছুটা কোণঠাসা, তাই তাঁরা বিজেপি বিরোধী ফ্রন্টে থাকতে চাইছেন। যদি বিজেপির পালে হাওয়া ওঠে, এরা ফের বিজেপির দিকেই ঝুঁকবেন। বাম শক্তি ছাড়া একমাত্র যাঁকে ভরসা করা যায়, তিনি লালুপ্রসাদ যাদব। লালু সম্পর্কে যতই নেতিবাচক প্রচার থাকুক, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে লালুপ্রসাদের ধারেকাছেও অন্যরা নেই।
তাই আজ যাঁরা জোট জোট করে লাফাচ্ছেন, এঁদের অনেকেই সময় এলেই সরে পড়বেন। কখন, কার সঙ্গে কোন সূত্রে রফা হয়ে যাবে, বলা মুশকিল। পাঁচ রাজ্যের ফল একটু অন্যরকম হোক, এদের আসল চেহারা গুলো বেরিয়ে পড়বে। যদি বিজেপি ভাল ফল করে, এঁরা বিজেপির দিকে যাবেন। যদি কংগ্রেস ভাল ফল করে, কংগ্রেসের দিকে যাবেন। আর যদি মাঝামাঝি কিছু হয়, এঁরা তৃতীয় শিবিরে ঝুঁকবেন। তাই এই জোট আরও একটা হাস্যকর প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।
