গাভাসকার যেন সেই তেনজিং

দিব্যেন্দু দে

ইজাজ ফাকি বলে কোনও বোলারকে আপনি চেনেন?‌ এই সময়ের জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা প্রজন্ম নাও চিনতে পারে। না চেনাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁদের বেড়ে ওঠার আটের দশকে, তাঁরা চিনলেও চিনতে পারেন। ক্রিকেট মাঠে তাঁর তেমন কোনও মনে রাখার মতো কীর্তি নেই। ক্রিক ইনফো ঘেঁটে দেখলাম, ৫ টি টেস্টে মাত্র ৪ টি উইকেট পেয়েছেন পাকিস্তানের এই অফব্রেক বোলার। তাহলে হঠাৎ এত বছর পর তাঁর কথা টেনে আনতে হচ্ছে কেন?‌

দেখতে দেখতে তিরিশ বছর কেটে গেল। আজকের দিনে, অর্থাৎ ৭ মার্চ (‌১৯৮৭)‌ একটি মহাকাব্য লেখা হয়েছিল ক্রিকেটের দুনিয়ায়। তার সঙ্গে কোথাও একটা জড়িয়ে ছিলেন এই ইজাজ ফাকি। অমরত্ব পাওয়া একটা ছবিতে তিনিও একটি চরিত্র। ইজাজ ফাকির বলে লেট কাট মেরেই দৌড় দিচ্ছেন সুনীল গাভাসকার। পেছনের দিকে তাকিয়ে উইকেট কিপার সেলিম ইউসুফ। ইজাজ ফাকি তখন কোনদিকে তাকাবেন?‌ বলের দিকে?‌ নাকি ক্রিকেটের এক মাইলস্টোনের দিকে। কারণ, ওই লেট কাট মেরেই দশ হাজার রানের মাইলস্টোনে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুনীল গাভাসকার।
sunil gavaskar

২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে বোঝানো যাবে না দশ হাজার রানের মাহাত্ম্য কী। কারণ, উইকিপিডিয়ায় একটু চোখ বোলালেই এই প্রজন্মের ছোকরা বলবে, মোট বারো জন ১০ হাজারের উপর রান করেছেন। শচীনের রান তো প্রায় ষোল হাজার (‌১৫৯২১)‌। রাহুল দ্রাবিড়ের রান ১৩২৮৮। এঁরা সবাই গাভাসকারের থেকে অনেক এগিয়ে। যে বারোজন এই মাইলস্টোন পেরিয়েছেন, তাঁদের সবার নিচে গাভাসকারের নাম। হ্যাঁ, পরিসংখ্যান হয়ত তাই বলবে। আচ্ছা বলুন তো, এভারেস্ট জয়ী বলতে কার কথা সবার আগে মনে পড়ে?‌ তেনজিং নোরগে। ঠিক তেমনি। দশ হাজার রানের মাইলস্টোন যদি এভারেস্ট হয়, তবে সুনীল গাভাসকার হলেন ক্রিকেটের তেনজিং। তেনজিংয়ের সঙ্গে তবু না হয় হিলারি ছিলেন (‌বা উল্টোটা)‌, কিন্তু গাভাসকার ওই শৃঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন সম্পূর্ণ একা।

সেদিনই গাভাসকার বলেছিলেন, রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙার জন্যই। আমার এই রানের রেকর্ড নিশ্চয় একদিন ভেঙে যাবে। তবে আমি খুশি হব, কোনও ভারতীয়র ব্যাটে যদি এই রেকর্ড ভাঙে। গাভাসকারের ১০১২২ কে প্রথম টপকে ছিলেন অ্যালান বর্ডার। কিন্তু সর্বোচ্চ রানের শৃঙ্গে কিন্তু শচীন। এই রেকর্ড কি কোনওদিন ভাঙবে?‌ টানা এতদিন আর কেউ এভাবে খেলে যেতে পারবেন?‌ ভবিষ্যতই উত্তর দেবে। তবে আজকের দিনে এসব প্রশ্ন থাক। আজকের দিনটা সেই হিমালয়ের শৃঙ্গে ওঠার দিন। তিরিশটা বছর কেটে গেল। গাভাসকার আপাতত ধারাভাষ্যে ব্যস্ত। কেউ কি দিনটার কথা তাঁকে মনে করাবেন?‌ করালেও করাতে পারেন। ইজাজ ফাকি?‌ তিনি কোথায়, কে জানে!‌ এই দিনটা তাঁরও কি মনে পড়বে?‌

Previous post স্মার্টফোন না থাকলে আপনি বুঝি আনস্মার্ট!‌
Next post শান্তি চান?‌ সিরিয়াল থেকে দূরে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *