কোনও তদন্ত নয়, নির্লজ্জ ছ্যাবলামিই আমাদের প্রাপ্য

অতএব, অভিষেকের বাড়িতে পৌরসভা নোটিশ পাঠাবে। আপনার বাড়ির পাঁচিলটা একটু বেরিয়ে আছে, এই মর্মে জবাবদিহি চাওয়া হবে। কখনও মাঝরাতে সিআইডি হানা দেবে। এই ছ্যাবলামি টুকুই আমরা দেখব। তাই নিয়ে ধেই ধেই করে নাচবো। কোন তদন্ত নয়, কোন সুবিচারও নয়, দিনের শেষে এই ছ্যাবলামি টুকুই আমাদের প্রাপ্য।

এই অলীক কুনাট্যের কোনও দরকার ছিল!

এদের হাতে আর যাই হোক, বিধানসভার সুরক্ষিত থাকতে পারে না। এখনও অধিবেশন শুরুই হল না। তার আগেই একরাশ কলঙ্ক নিয়ে পথ চলা শুরু করল নতুন বিধানসভা। এ কত বড় লজ্জা, এটুকু বোঝার ক্ষমতা স্পীকার সাহেবের নিশ্চিতভাবেই এখনও হয়নি।

এমন সাজানো বিরোধী দল! তৃণমূলের নয়, সরকারেরই লজ্জা বাড়ল

যাঁরা তৃণমূল বিরোধী, তাঁরা তৃণমূলের এই ভাঙনে উল্লসিত হতেই পারেন। কিন্তু বাংলার গণতন্ত্রের পক্ষে এটা খুব উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন নয়। দল ভাঙানোর সংস্কৃতি এই রাজ্যে আগেও ছিল। তৃণমূলের বিরুদ্ধেও বারবার এই অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বিরোধী দলে এমন ভাঙন শুধু বাংলা নয়, দেশের রাজনীতিতেই বিরল।

‌দোহাই, এই দলবদলু ‘‌চরিত্রহীন’‌দের বিদ্রোহী বলবেন না

করবেন। তাঁরা আসলে কার বিরোধী?‌ শাসকের নাকি মমতার?‌ শাসকের বিরোধিতা করার মুরোদ এঁদের অন্তত নেই। এঁরা ততটুকুই বলবেন, যতটুকু শাসক বলতে বলবে। এঁদের ঘড়িতে ততটুকুই দম দেওয়া আছে। এমন তাঁবেদার বিরোধী দল কোনও রাজ্যেই সম্ভবত নেই। দোহাই, এই অর্বাচীনদের আর যাই বলুন, বিদ্রোহী বলবেন না।

জনতার ক্ষোভেও লাগাম আসুক

আইন নিশ্চয়ই আইনের কাজ করবে। কিন্তু বিরোধীরাও যেন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্ভয়ে চালিয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।