মেঘ পাহাড়ের দেশে হারিয়ে যাওয়ার দিনলিপি

রাস্তাটায় কিন্তু একেবারেই চড়াই উতরাই নেই।দিব্যি হেঁটে যাওয়া যায়। ফিরেও আসা যায়। ফেরার সময় হয়ে এল। আবার নিশ্চয় আসব। এই পথে যদি ভোরের বেলা তোর সঙ্গে হেঁটে যাই! কোন গানটা গাওয়া যায়? রবি ঠাকুর, ক্ষমা করবেন। এমন সময়ে সপ্তপদীর সেই গানটাই সবার আগে মনে পড়ে যাবে।‌‌‌

দীনেশ না গেলে যশবন্ত আসতেন!

কিন্তু রাজ্যসভার শূন্য আসনে তো এখনই ভোট হচ্ছে না। বিধানসভা ভোটের আগে কোনও সম্ভাবনাই নেই। যদি তৃণমূল আবার ক্ষমতায় আসে, যশবন্তের জন্য একটি আসন তোলা থাকতেই পারে। কিন্তু যদি সরকার উল্টে যায়, তৃণমূলের আসন অনেক কমে যাবে। তখন যশবন্তের জায়গা হওয়া কঠিন। তখন তিনি কদিন এই শিবিরে থাকেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতার হাত কতখানি শক্ত করেন, দেখার ইচ্ছে রইল।

‌একজনের মিথ্যে ঢাকতে কতজনকে মিথ্যে বলতে হয়!‌

যেটা হয়েছে, সেটা একটা সামান্য দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। চোটটাও মিথ্যে নয়। কিন্তু মুশকিলটা হল তিনি নিজেই আগাম নিদান হেঁকে দেন। তিনি যদি বলেন, এখানে চোট, ওখানে চোট, কোন ডাক্তারের সাধ্যি আছে সত্যিটা বলবেন?‌ তিনি যদি বলে হাড় ভেঙেছে, ডাক্তারকেও তাই বলতে হবে। তিনি যদি বলেন, হামলা হয়েছে, পুলিশকেও তাই বলতে হবে। বাংলার অধিকাংশ মিডিয়াকেও তাই বলতে হবে। সমস্যা অনেক গভীরে। একজনের একটা ছোট্ট মিথ্যে ঢাকতে কত লোককে মিথ্যে বলতে হয়।
‌‌‌

‌এই দীনেশ বাজাজরাই তৃণমূলের সম্পদ

দলবদলের এমন ব্যাখ্যা সত্যিই কখনও শোনা যায়নি। তবে একটা ব্যাপারে সাধুবাদ দিতেই হবে। তিনি অন্তত ন্যাকা ন্যাকা আদর্শের বুলি আওড়াননি। মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই মার্কা সস্তা কথা বলেননি। যেটা মনে করেন, সেটাই বলেছিলেন। দীনেশ বাজাজের হন্তদন্ত হয়ে মুকুল রায়ের বাড়ি ছুটে যাওয়ায় কুড়ি বছর আগের সেই ঘটনা মনে পড়ে গেল। দেখা যাক, দলবদলের পর দীনেশজি কোন অমৃতবাণী বর্ষণ করেন।

‌সিপিএমকে দেখে শরিকরা যদি কিছু শিখতেন!‌

সিপিআই নিজেই কি কানহাইয়াকে আনতে আগ্রহী ছিল না?‌ ফরওয়ার্ড ব্লক নরেন চ্যাটার্জির বদলে ভিটরকে বক্তা করতে পারত না?‌ নিশ্চিতভাবেই ভিক্টরের বক্তৃতা ঝড় তুলত। দল হিসেবে ফরওয়ার্ড ব্লকের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল হত। যে সাহসটা সিপিএম দেখাতে পারল, সেই সাহসটা যদি শরিকরা দেখাতে পারতেন!‌