এই রায় তৃণমূলের কাছে যেন অশনি সংকেত

রক্তিম মিত্র

পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন। যা প্রবণতা, তাতে অন্তত দুটিতে সরকার গড়ছে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশেও হয়ত শেষমেষ কংগ্রেসই এগিয়ে থাকবে। তেলেঙ্গানায় বিরাট জয়ের পথে টিআরএস। আর মিজোরামে একতরফা এগিয়ে এমএনএফ।

কোনও সন্দেহ নেই, জাতীয় রাজনীতিতে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে বিজেপি। বিরাট অক্সিজেন পেল কংগ্রেস। এই পাঁচ রাজ্যে তৃণমূল কোথাও লড়াইয়ে ছিল না। তাই আপাতভাবে মনে হতেই পারে, এর সঙ্গে তৃণমূলের কী সম্পর্ক?‌

কিন্তু এই ফল আসলে তৃণমূলের কাছেও বড় এক ধাক্কা। কেন, তার কয়েকটা কারণ তলিয়ে দেখা যাক।

১)‌ জাতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেস দুর্বল হলে তৃতীয় ফ্রন্টের শক্তি বাড়ে। অনেকেই ভাবছিলেন, কংগ্রেসকে বাইরে রেখে আলাদা করে জোট গঠনের কথা। কিন্তু এই ফলের পর এটা পরিষ্কার হয়ে গেল, বিজেপি বিরোধী লড়াই কংগ্রেসের নেতৃত্বেই হবে। যে সব আঞ্চলিক দলগুলি আলাদা ফোরাম করছিলেন, তাঁরা অনেকেই এবার সরাসরি কংগ্রেসের দিকেই ভিড়বে। ফলে, তৃণমূলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল, সেই ছবিটা বদলে যাবে।

vote

২)‌ লোকসভায় কংগ্রেস অন্তত ১৬০–‌১৭০ আসন নিশ্চিত করেই ফেলল। ফলে, আঞ্চলিক দলগুলির আসন কংগ্রেসের থেকে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ছোট ছোট শরিকরা আসন সমঝোতার ব্যাপারে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গেই কথা বলবে। তারাও মাঝে তৃণমূলকে রাখতে চাইবে না।

৩)‌ রাজ্য রাজনীতির বিষয়ে আসা যাক। নিঃসন্দেহে বিজেপির পালে আর সেই হাওয়া থাকবে না। এতে লাভ কার?‌ তৃণমূল বিরোধী ভোট এতদিন বাম আর বিজেপিতে ভাগ হচ্ছিল। কোথাও কোথাও বিজেপি এগিয়েও যাচ্ছিল। তৃণমূল বিরোধী ভোটারের একটা বড় অংশ ভাবছিল, বামেরা নয়, বিজেপিই বোধ হয় তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পারবে। তাঁদের একটা বড় অংশ আবার বাম শিবিরে ফিরে এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যে বিজেপি হয়ত কুড়ি শতাংশ ছাপিয়ে যেতে পারত, তারা আবার দশের নিচে নেমে আসতেই পারে। এতে সবথেকে বড় ক্ষতি তৃণমূলেরই।

তাই এই ফল কেন্দ্রে যদি বিজেপির কাছে অশনি সংকেত হয়, তবে রাজ্যে তৃণমূলের কাছেও অশনি সংকেত।

Previous post প্রশাসনিক বৈঠকে এমন জোড়া গোল তিনি কবে খেয়েছেন!‌
Next post ‌ফব–‌র কেন্দ্রীয় কমিটিতে সৌম্যদীপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *