প্রশাসনিক বৈঠকে এমন জোড়া গোল তিনি কবে খেয়েছেন!‌

রজত সেনগুপ্ত

প্রশাসনিক সভায় এ যেন উলট পুরাণ। এতদিন তিনি বিভিন্ন দপ্তরের ভুল ধরতেন। বিভিন্ন মন্ত্রী, আধিকারিকদের চমকাতেন। বিধায়ক, পুর চেয়ারম্যানদের তিরষ্কার করতেন। এবার প্রশাসনিক বৈঠকে অন্য ছবি। তাঁর দপ্তর নিয়েই প্রশ্ন তুলে বিড়ম্বনায় ফেলে দিলেন দুজন। একজন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যজন জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি আবু সুফিয়ান।
শুভেন্দু মঞ্চ থেকেই অভিযোগ করলেন, নন্দীগ্রামের তদন্তে গড়িমসি করছে সিআইডি। ২০০৭ এ পুলিসের গুলিচালনায় কজনের মৃত্যু হয়েছিল, এখনও সেই সংক্রান্ত তদন্ত হয়নি। সিআইডি যেন দ্রুত কাজ করে, এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি রেখেছেন।
এই কথাগুলো শুভেন্দু চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে একান্তে জানাতে পারতেন। কিন্তু প্রকাশ্যে প্রশাসনিক সভায় বলতে গেলেন কেন?‌ তার মানে, পুলিসের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে রাখলেন। পুলিস দপ্তরটা যেন কার হাতে!‌ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দপ্তরের ভুল ধরার আগে শুভেন্দুই পুলিস দপ্তরকে কাঠগড়ায় তুলে দিলেন। এ যেন ঘরের মাঠে গোল দিয়ে রাখলেন।

mamata
আরেকজন আবু সুফিয়ান। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় এই নামটি উঠে এসেছিল। মাঝে তাঁর বিশাল পেল্লাই বাড়ি দেখে নাকি মুখ্যমন্ত্রী ক্ষেপে গিয়েছিলেন। প্রকাশ্যে তাঁকে তিরস্কারও করেছিলেন। এবার সুযোগ বুঝে তিনিও ফিরিয়ে দিলেন। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ আনলেন। যথারীতি স্বাস্থ্যসচিব তোতাপাখির মতো বললেন, সব ঠিকঠাক চলছে। মুখ্যমন্ত্রীও দিলেন একধমক, ভাল করে জেনেশুনে অভিযোগ করবে।
অন্য যে কেউ হলে ওই ধমক শুনে বসে যেতেন। কিন্তু সুফিয়ান বুঝিয়ে দিলেন, তালে তাল দিয়ে যাওয়াদের দলে তিনি পুরোপুরি পড়েন না। তিনি পরিষ্কার জানালেন, আমি সব খোঁজখবর নিয়েই বলছি। সরকারি আধিকারিক ঠিক বলছেন না।
আবু সুফিয়ান তেমন বড় মাপের নেতা নন। মন্ত্রী বা সাংসদ নন। মন্ত্রী বা বিধায়ক নন। কিন্তু বাকিদের যে ন্যূনতম সৎসাহসটুকু নেই, তাঁর অন্তত সেটা আছে। মুখ্যমন্ত্রী যা বলবেন, সেটাই মেনে নেওয়া দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সুফিয়ান দেখিয়ে দিলেন, তিনি অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ওপর সত্যিটা বলতে পারেন।

খবর দুটো মিডিয়ায় সেভাবে উঠে আসেনি। একটি মিডিয়ায় কিছুটা উল্লেখ ছিল। অনেকের চোখেও পড়েনি। সব মিলিয়ে দেড়শোর বেশি প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। অনেক চমক–‌ধমক হয়েছে। অনেক লোক দেখানো সস্তা চিত্রনাট্যের নাটক হয়েছে। কিন্তু মনে করে দেখুন তো, কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে জোড়া গোল খেতে হয়েছে কিনা।

আবার সেই পূর্ব মেদিনীপুর। ইতিহাসের নানা ঘটনায় দেখা গেছে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ঝড়টা সেখান থেকেই শুরু হয়।

Previous post সম্পাদক বদল, লাইনও বদলের পথে যুগশঙ্খ
Next post এই রায় তৃণমূলের কাছে যেন অশনি সংকেত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *