বরকতিরাই বিজেপির আদর্শ বন্ধু

ধীমান সাহা

মাসখানেক আগেকার ঘটনা। টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম বরকতিকে নিয়ে উঠেছিল নানা বিতর্কের ঝড়। তিনি একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করে গেলেন। তিনি জেদ ধরলেন কিছুতেই গাড়ি থেকে নীল বাতি খুলবেন না। তাঁকে পাকিস্তানে পাঠানোর হুঙ্কার তুলল বিজেপি–‌ও।
সময় কত দ্রুত বদলে যায়। বরকতির বাতি খুলল। আর তিনি ইমামও রইলেন না। এবার তাহলে কী করবেন?‌ শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি বিজেপি শিবিরে নাম লেখাবেন। গতিপ্রকৃতি সেই দিকেই এগোচ্ছে। হ্যাঁ, এই বরকতিরাই বিজেপির আসল বন্ধু। এই বরকতিরা আছে বলেই বিজেপি–‌র রমরমা হয়। তাঁরা একের পর এক লাগামছাড়া মন্তব্য করেন। মুসলিমদের ক্ষেপিয়ে তোলেন। হিদুদের পাল্টা ক্ষেপিয়ে তুলতে বিজেপির–‌ও বেশ সুবিধাই হয়। বিজেপি–‌র এত এত কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এতদিন ধরে সংগঠন করে যা করতে পারেন না, বরকতির মতো লোকেরা দু–‌চারটে ভারত বিরোধী মন্তব্যে তা অনায়াসে করে ফেলতে পারেন।

barkati3
এই বরকতি কয়েক মাস আগেই মোদির মাথার ফতোয়া জারি করেছিলেন। তখন রাজ্য সরকার তাঁকে তোল্লাই দিয়েছিল। কিন্তু এভাবে তোল্লাই দিয়ে কতদিন?‌
যে মুসলিমরা বরকতির কথায় উঠতেন–‌বসতেন, এবার তাঁরা বুঝুন। এই বরকতিরা মুসলিমদের বন্ধুও হতে পারেন না, ভারতীয়ও হতে পারেন না। টাকার জন্য, ক্ষমতার জন্য এঁরা যে কোনও দিকেই যেতে পারেন। যে বিজেপি কয়েকদিন আগেও তাঁকে দেশদ্রোহী বলে গাল পাড়ছিল, তাঁরাও গলায় ফুলের মালা দিয়ে হয়ত বরণ করে নেবেন বরকতিদের। হিন্দুত্বের হাওয়ায় যাঁরা ভেসেছিলেন, তারাও বুঝুন। মুসলিমরা বুঝুন বরকতি কেমন মানুষ, হিন্দুরাও বুঝুন বিজেপি কেমন দল।

Previous post উত্তরবঙ্গের দুই জেলায় দুই নতুন সম্পাদক
Next post ওয়েব সিরিজে ফের ফেলুদা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *