বৃষ্টি চৌধুরি
এই আকালেও তাহলে স্বপ্ন দেখা যায়। এমন স্বপ্নই তো দেখাল কলকাতার তিনটি সিনেমা হল। একে একে উঠে যাচ্ছে সিঙ্গল স্ক্রিন। জেলা শহর, মফস্বলে একরাশ স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত কিছু সিনেমা হল। এমনকী কলকাতার বুকেও এমন কত সিনেমা হল যে রাতারাতি শাড়ির দোকান বা শপিং মল হয়ে গেল! ধর্মতলার এলাকায় একের পর এক হলের দিকে তাকিয়ে দেখুন। অধিকাংশই বন্ধ। দু একটা খোলা থাকলেও টিমটিম করে জ্বলছে। সেখানে মিনার–বিজলি–ছবিঘর নতুন করে ঘুরে দাঁড়াল।
জুলাই মাসে একসঙ্গেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তিনটি হল। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সংস্কারের পর আবার খোলা হবে। বন্ধ করার সময় অনেকেই এমন আশ্বাস দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও এই আশ্বাসে বিশেষ ভরসা রাখেনি বাঙালি। কিন্তু সুরঞ্জল পাল দেখিয়ে দিলেন, ইচ্ছে থাকলে আবার ফিরে আসা যায়। হ্যাঁ, এভাবেও ফিরে আসা যায়। মিনার, বিজলি, ছবিঘর— একসঙ্গে তিনটি নাম উচ্চারিত হয়। একটি হাতিবাগানে, একটি ভবানীপুরে, একটি শিয়ালদায়। তিনটি হলে একই ছবি। একই শো টাইম। এটা দেখেই অভ্যস্থ বাঙালি। পয়লা বৈশাখে বাঙালির নতুন উপহার, বিজলি আর ছবিঘর খুলে গেল। মিনারও এই এপ্রিলের মধ্যেই খুলে যাবে।
একেবারে আধুনিক সাজে ফিরে এসেছে। সিঙ্গল স্ক্রিন, তবে মাল্টিপ্লেক্সের মতোই স্বাচ্ছন্দ্য। বাতানুকূল, গদি আঁটা চেয়ার, চমৎকার সাউন্ড সিস্টেম। টিকিটের খরচও তুলনামূলক বেশ কম, মাত্র সত্তর টাকা। বাংলা ছবিকে বারবারই প্রোমোট করে এসেছে এই তিনটি হল। আগামীদিনেও করবে। কৌশিক গাঙ্গুলির সিনেমাওয়ালা–র কথা মনে পড়ছে? মফসসল শহরে একটি বন্ধ সিনেমা হলকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধর নস্টালজিয়া। এমন কত মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে সিনেমা হলকে ঘিরে। কত ছবি মুক্তি পেয়েছে এই তিনটি হলে। কোনওটা সুপারহিট, কোনওটা হয়ত তেমন চলেনি। কিন্তু সুরঞ্জনবাবু বিশ্বাস করেন, বাংলা ছবি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ভাল ছবি হলে এখনও মানুষকে হলে টেনে আনা যায়। শুধু মাল্টিপ্লেক্স দিয়ে বাংলা ছবি বাঁচবে না। সিঙ্গল স্ক্রিনকে এগিয়ে আসতেই হবে। আমরা এগিয়ে এলাম। বাকিরা এগিয়ে আসুক।
