বাঙালি রামকে চিনত, এই হিংস্রতাকে চিনত না

কৃতিষ্ণু সান্যাল

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা মানে অন্যায় সমর্থন। সেই নীরব সমর্থন না করে প্রতিবাদ করুন। কীসের মিছিলে অস্ত্র হাতে কারা যায় তা নিয়ে প্যাচাল না পাকিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের বর্বর হিংস্র রাজনীতির প্রতিবাদ করুন। আপনার সংস্কৃতিতে এটা ছিল না। বাংলার সংস্কৃতিতে কৃত্তিবাসের বাঙালি রাম আছে, উপেন্দ্রকিশোরের “ছেলেদের রামায়ণ” আছে, লীলা মজুমদারের বা সুকুমার রায়ের দুর্দান্ত নাটিকা আছে – উত্তরভারতীয় হিংস্রতা নেই। সাহিত্য হিসেবে বাল্মীকি, তুলসীদাস ভালবাসুন। সাহিত্যপ্রেম মানুষকে সমাজ দেখতে শেখায়। দেখতে শিখে রামায়নের সামাজিকতা বুঝুন। সাহিত্যের চরিত্রের সমালোচনা করুন। তাকে ভালবাসুন, তাকে বিশ্লেষণ করুন। তার দোহাই দিয়ে আপনার প্রতিবেশীকে ঘৃণা করতে শিখলে জানবেন আপনি নিশ্চিত করেই অমানুষ।

ram-navmi-759
যত লোক আজ পথে নেমে বা ঘরের আড়াল থেকে এই নতুন পেজোমিকে সমর্থন দিচ্ছেন তাদের অনেকেই মাধ্যমিকে মধুসূদন দত্ত পড়েছিলেন। রাবণ রামের যে তুলনামূলক চরিত্রালোচনা নোটবই থেকে গাঁত মেরেছিলেন আরেকবার স্মৃতিতে আনুন। ওই কচি বয়সে আপনার মধ্যে যে স্বাভাবিক মানবিকতা, মনুষ্যত্বের প্রতি মর্যাদাবোধ ছিল আজ তা এতটা কমিয়ে ফেললেন কী করে? ভাবুন। ভাবা প্র্যাকটিস করুন। সেটা খুব দরকার।
বড় বিপদ একদিনে গায়ে এসে পড়েনা। অনেকদিন ধরে একটু একটু করে তা জমা হয়। আমাদের আমল পায় না বলেই সে নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠে। যারা আপনার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান থেকে আরম্ভ করে ফুটপাথ বা নিঃশ্বাসের পরিষ্কার হাওয়ার স্বাভাবিক চাহিদাটুকুকেও অস্বীকার করে আপনি আশা করতে পারেন না সেই নেতানেত্রীরা আপনাকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাবে। আমাদের নিজেদেরকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই হাতে। সিয়াচেনের তাপমাত্রা, নোট বাতিলের সুফল, পাকিস্তানের শয়তানি বা চিনের মতলব এসব নিয়ে গরম বাতেলা মেরে সস্তা দেশপ্রেম না দেখিয়ে একটু কঠিন গোছের দেশপ্রেম দেখান। দেশের সংকটের সময়ে, আপনার জাতির প্রয়োজনের সময়ে উচিত প্রতিবাদটা করুন।

1

Previous post এই বাংলায়, অন্য অযোধ্যায়
Next post মোহনবাগান যদি এমন শর্ত দিত!‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *