নির্বাচন এলেই প্রধানমন্ত্রী ঘনঘন বাংলায় আসেন। নিজের দলের হয়ে প্রচারে আসতেই পারেন। কিন্তু মাঝে মাঝে তিনি ভুলে যান তিনি এই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই রাজ্যের উন্নয়নে তাঁরও কিছু দায় আছে। সব দায় ঝেড়ে ফেলে অন্যদের ওপর চাপানোতেই তিনি বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্যের নানা অনাচারের কথা তুলে ধরেন। তারপরই বলেন, সবকিছুর হিসেব হবে। বছরের পর বছর পেরিয়ে যায়। তাঁর সিবিআই, তাঁর ইডি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে থাকে। গরু, কয়লা থেকে শুরু করে শিক্ষা দুর্নীতি, আর জি কর— কত প্রসঙ্গই না তাঁর ভাষণে উঠে আসে। সবগুলিরই তদন্তের দায়িত্বে সিবিআই। কোনওটারই কিনারা করা তো দূরের কথা। একের পর এক অভিযুক্তরা দিব্যি ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার ভোটেও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ইডির কাছ থেকে মুখ্যমন্তী ফাইল ছিনতাই করে নিয়ে চলে গেলেন। ইডি দন্ত বিগলিত করে দেখল। প্রধানমন্ত্রী অনেক হুঙ্কার দিয়েছেন। বেশ কয়েক মাস পেরিয়েও গেছে। ইডি শুধু আদালতে তারিখের পর তারিখ চেয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এমন অকর্মণ্য সিবিআই, এমন অকর্মন্য ইডির মাথায় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যখন হুঙ্কার দেন, আসলে নিজের গালেই কষে থাপ্পড় মারেন।
কথায় কথায় তিনি বলেন, ‘ইয়ে মোদি সরকার কী গ্যারান্টি হ্যায়।’ এই বাক্যটা শুনলেই কেমন যেন লাগে। নিজের মুখে নিজেই বলছেন ‘মোদি সরকার’। এনডিএ সরকার নয়, বিজেপি সরকার নয়, একেবারে ‘মোদি সরকার’। এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রীকে এমন নির্লজ্জভাবে নিজের নামে প্রচার করতে শোনা যায়নি।
এত গ্যারান্টি তো দিচ্ছেন। কোন গ্যারান্টি তিনি পালন করেছেন? বছরে দু’কোটি চাকরি তো তাঁরই গ্যারান্টি ছিল। সেই গ্যারান্টির কী হল? বারো বছরে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। ২৪ লাখ হলেও বলা যেত এক শতাংশ হয়েছে। কিন্তু সেটুকুও হয়নি। বলেছিলেন, সব কালো টাকা দেশে ফেরত আনবেন। শুধু বলেই থেমে যাননি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সিট গঠন করেছিলেন। এক টাকাও ফেরত এসেছে? একশো স্মার্ট সিটির ঘোষণাও কার্যত প্রহসনের শামিল। এরপর তিনি কোন মুখে গ্যারান্টির কথা বলেন?
আচ্ছা, এই রাজ্যে একটা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় করতে তাঁকে কেউ বারণ করেছিল? জেলায় জেলায় উন্নতমানের মডেল স্কুল খোলাই যেত। কটা স্কুলের উদ্যোগ নিয়েছেন? কয়েকটা উন্নতমানের হাসপাতাল করতে কেউ বাধা দিয়েছিল? রুগ্ন কলকারখানা খুলতে কেউ বারণ করেছিল? বন্ধ চা–বাগান অধিগ্রহণ করতে কেউ বারণ করেছিল? এর জন্য কোনও জমিও লাগত না? কেন্দ্রের বিভিন্ন দপ্তরের হাতে যে সব অব্যবহৃত জমি পড়ে আছে, তাতেই অন্তত পাঁচশোটি প্রকল্প হয়ে যেত। সেইসব করে তারপর না হয় গ্যারান্টি দিতেন।
