শোনা যায়, কিশোর কুমারকে কলকাতায় প্রথমবার মঞ্চে আনার নেপথ্যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বড় অবদান ছিল। কিশোর এত এত দর্শকের সামনে গান গাইতে রাজি হচ্ছিলেন না। হেমন্তই তাঁকে ভরসা দেন, ‘তুমি চলো। কোনও চিন্তা নেই। আমি তোমার পেছনেই থাকব। কোথাও কোনও সমস্যা হলে আমি সামলে দেব।’ সামলাতে অবশ্য হয়নি। রবীন্দ্র সরোবরে টানা দেড় ঘণ্টা মাতিয়ে রেখেছিলেন কিশোর কুমার। মঞ্চে গাওয়ার এমন এক আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলেন, যা দিয়ে মঞ্চ মাতিয়ে গেছেন সারা জীবন।
এভাবেই কত কালজয়ী গান তৈরি হয়েছে। কত ইতিহাস লুকিয়ে আছে সেইসব গানের পেছনে! এত বছর পরেও পুজো প্যান্ডেল থেকে বিয়েবাড়ি, রিয়েলিটি শো থেকে সিরিয়াল, মাঝে মাঝেই বেজে ওঠে সেইসব গান। ভাবতে গর্ব হয়, এইসব কালজয়ী গান আমার বাবা লিখেছেন! স্মৃতিচারণে গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র পিয়াল বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন বম্বেতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। খুব কাছ থেকে দেখেছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তিকে। তাঁর সুরে বেশি কিছু গানও গেয়েছেন হেমন্ত। সুরকার অমিত দাশগুপ্তর স্মৃতিচারণে উঠে এল অনেক অজানা দিক। চিনতে পারবেন অন্য এক হেমন্তকে।
সরল বিশ্বাস ইদানীং থ্রিলারের খুব ধুম পড়েছে। কী সিনেমায়, কী সাহিত্যে। এমনকী ওয়েব সিরিজ বা সিরিয়ালেও। সবসময় একটা চমক দেওয়ার চেষ্টা। অহেতুক সাসপেন্স আনা। বিকট মিউজিক। কাহিনির মোচড় দিতে গিয়ে...
রবীন্দ্র চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার বদলে রবীন্দ্রনাথকে বন্দী রাখার কাজটাই করেছে বিশ্বভারতী। তাই রবি ঠাকুর বিশ্বকবি তো দূরের কথা, জাতীয় কবিও হতে পারেননি। বাঙালি হয়েই থেকে গিয়েছেন।
সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে বেঙ্গল টাইমসের শ্রদ্ধার্ঘ। নানা আঙ্গিক থেকে কিংবদন্তি পরিচালককে ফিরে দেখা। থাকছে নানা আকর্ষণীয় লেখায় সমৃদ্ধ বিশেষ ই–ম্যাগাজিন। দেওয়া হল ওয়েব লিঙ্ক।
কিংবদন্তি পরিচালককে কীভাবেই বা স্মরণ করতে পারি! বেশি কিছু করার দরকার নেই। তাঁর ছবি তো আর খুব দুষ্প্রাপ্য নয়। অন্তত ইউটিউব থেকে একটা ছবি দেখা যায়। হয়তো আগে দেখা, তবু না হয় আবার দেখলেন। তাঁর অনেক ছোট গল্প, উপন্যাস অডিও বুক হয়ে ঘুরে বেড়ায়। বই পড়ায় যদি সত্যিই অ্যালার্জি থেকে থাকে, না হয় একটা বা দুটো অডিও বুক শুনলেন। ফোনের দিকে তাকিয়ে কত সময়ই তো নষ্ট হয়। না হয় একদিন সেটা সত্যজিৎ চর্চায় লাগালেন।
সোনার কেল্লার মুকুল নাকি জাতিস্মর ছিল। আগের জন্মের কথা তার মনে পড়ে যেত। আমার পূর্বজন্ম আমি জানি না। কিন্তু বারবার সোনার কেল্লার কথা মনে পড়ে যায়। এত বছর আগের কথা। আমার বয়স তখন মাত্র ছয়। ভুলে যাওয়ারই কথা। হয়ত ভুলেও যেতাম। কিন্তু নানা জায়গায় এতবার আমাকে ‘সোনার কেল্লা’র গল্প বলতে হয়েছে, মনে হয়, এই তো কালকের ঘটনা। যতদিন বাঁচব, আরও কতবার যে বলতে হবে! বিশ্বাস করুন, একটুও বিরক্তি আসে না। মনে মনে আমিও যে ফিরে যাই ওই সোনার কেল্লায়।
কোনও স্ক্রিপ্ট বা গল্প লিখলে সবার আগে পড়ে শোনাতেন স্ত্রী বিজয়া রায়কে। পথের পাঁচালি-র আগে নিজের হাতের গয়না তুলে দিয়েছিলেন সত্যজিতের হাতে বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে গিয়ে এমন অনেক অজানা কথা জেনে এলেন সংহিতা বারুই।
আগে দেখা। পরে পড়া। ফলে, পড়তে গিয়ে দেখা ছবিটাই ভিড় করে। যেমন জটায়ুর কথা পড়তে গিয়ে মনে পড়ে সন্তোষ দত্তর কথা, সমাপ্তি পড়তে গিয়ে ভেসে ওঠে অপর্ণা সেনের মুখ। অস্তিত্ব আর অভ্যাসের সঙ্গে এভাবেই জড়িয়ে আছেন সত্যজিৎ রায়। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে মুগ্ধতা মাখানো খোলা চিঠি। লিখলেন অন্তরা চৌধুরি।