সরল বিশ্বাস
সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তার সম্পর্কে মিডিয়া নীরব কেন, এই নিয়ে দেখছি অনেকের প্রবল গাত্রদাহ। এই তালিকায় কুণাল ঘোষ যেমন আছেন, তেমনি সোশ্যাল সাইটে অনেক বামপন্থীও রয়েছেন। ফেসবুকের ওয়ালে এমন এমন কিছু বার্তা ভেসে আসছে, যা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সুমন চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও ধারনা নেই। সমুনের লেখাও তাঁরা পড়েননি। তাঁর সাংবাদিকতার অতীত সম্পর্কেও বিশেষ কিছুই জানেন না।
প্রথমে কুণাল ঘোষের কথায় আসি। ফেসবুক লাইভে বলেই চলেছেন, কেন সুমনের গ্রেপ্তারির খবর কাগজে ছাপা হচ্ছে না, কেন চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে না। তাঁর বেলায় বড় করে কেন ছাপা হয়েছিল?
সহজ কথা, কুণাল ঘোষ যখন গ্রেপ্তার হন, তখন তিনি নিছক একজন সাংবাদিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। তার কয়েকদিন আগেও তিনি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সবছথেকে ঘনিষ্ঠদের একজন। কেউ কেউ বলতেন, তৃণমূলের নম্বর টু। সেই মানুষটা গ্রেপ্তার হলে খবর হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া, আরও একটা বড় কারণ, কুণাল চেয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে প্রচার হোক। তাই গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও ফেসবুক পোস্ট দিয়ে গেছেন। আদালতে যাওয়া–আসার সময় নিয়ম করে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে গেছেন। খবরে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, করেছিলেন। এমনকী জেলের মধ্যে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।
সুমন কিন্তু এসব কিছুই করেননি। সুমন চেয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে যেন হইচই না হয়। সেটাই খুব স্বাভাবিক। জেলে যাওয়ার কথা ফলাও করে প্রচার হোক, কে চায়! তাই তিনি হইচই করেননি। যেদিন গ্রেপ্তার হলেন, চুপচাপ ওড়িশায় চলে যান। যাওয়ার সময় কোনও বিস্ফোরক ভাষণ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। একে তাকে দোষারোপও করেননি। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে টানা কয়েকদিন জেরা হয়েছে। সেসব কথা ফলাও করে ফেসবুকে লিখতে যাননি। তাছাড়া, সুমন সাংসদ নন। ঘোষিতভাবে কোনও দলের লোক নন। তাঁকে নিয়ে হইচই না হওয়ারই কথা। কিংবদন্তী সাংবাদিকরা মারা যাওয়ার পরেও দু–চার লাইনের খবর হয়। তাও সব কাগজে হয় না। সেক্ষেত্রে সুমনের গ্রেপ্তারি নিয়ে বেশি হইচই না হওয়াটাই স্বাভাবিক। যাঁরা বিকৃত উল্লাসে এই খবর ফলাও করতে চান, তাঁরা করতেই পারেন। কিন্তু বাকিদেরও করতেই হবে, এই দাবিটা একটু বাড়াবাড়ি।
এবার আসি সোশ্যাল সাইটে বামপন্থী বন্ধুদের পোস্টে। পড়ে মনে হচ্ছে, সুমন চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র যোগ্যতা যেন মমতা ব্যানার্জির সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশ যাওয়া। যেন তার আগে তিনি বিদেশ যাননি, নেহাত মমতা ব্যানার্জি দয়া করে নিয়ে গেছেন। রাজীব গান্ধীর সময় থেকে ভারতে যত প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গেই বিদেশ সফরে গেছেন এই সাংবাদিক। রাজীব গান্ধী যখন বিভিন্ন রাজ্য সফরে গাড়ি চালিয়ে ঘুরছেন, তখন তাঁর পাশের আসনটায় বসতেন সুমন চট্টোপাধ্যায়। সুতরাং, মমতার সঙ্গে বিদেশ যাওয়াটা তাঁর বিরাট কোনও কৃতিত্ব নয়। এটা অনেকটা ভারতের হয়ে টেস্ট খেলার পর ত্রিপুরার হয়ে রনজি খেলার মতো।
তাছাড়া, মমতার সফরসঙ্গী বলে সুমনকে কটাক্ষ করা হলে সেই তীরটা নিজেদের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে, এটুকুও অনেকে বুঝতে পারছেন না। কারণ, এই সুমন জ্যোতি বসুর বিভিন্ন বিদেশ সফরে সঙ্গী ছিলেন। এমনকী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিদেশ সফরেও তিনি ছিলেন অনিবার্য সঙ্গী। তাই তিনি ধরা পড়লে তার জন্য যদি মমতাকে দোষী করা হয়, তাহলে একই সমালোচনা জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে।


আহা ন্যাকামি হচ্ছে! সুমন চায়নি হইচই হোক। চুরির দায়ে ধরা পড়ে কে চায় তাকে নিয়ে হইচই হোক। সুদীপ্ত সেন চেয়েছিল? দেবযানি চেয়েছিল? মিডিয়া তাদের নিয়ে হইচই করেনি? গড়বেতার কমঃ সুশান্ত ঘোষকে মনে আছে? মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ঢোকানো হয়েছিল। মিডিয়ার কি ভূমিকা ছিল? 12 বছর পর মাটিতে পোতা হাড়গোড় গলে গেলেও জাঙ্গিয়া কী করে নতুন থাকে এই প্রশ্ন তুলেছিল? সুমন তো পারলে সুশান্তবাবুকে ফাঁসিতে চড়িয়ে দিয়েছিল।
তখন একটু ভেবে দেখার কথা মনে ছিল না?
কুনাল রাজনীতির লোক। আর সুমন? 2001 সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আর তৃণমূলের সমমঝোতার মধ্যস্থতা করেছিল এই সুমন। তৃণমূলের ইস্তেহার লিখেছিল এই সুমন। সাংবাদিকতার থেকে বেশি রাজনীতি করেছে জীবনে।
তবে সফরসঙ্গী প্রসঙ্গে ঠিক কথাই বলেছেন। সফরসঙ্গী সংশ্লিষ্ট পত্রিকা নির্বাচন করে। অবশ্য এখনকার কথা বলতে পারছি না। তবে এখনকার প্রায় সকল সফরসঙ্গীই কেমন যেন সন্দেহজনক। কেউ চামচ চুরি করে ধরা পড়ে। কেউবা ফেরার পথে বিমান বন্দরে ব্যংকের টাকা তছরুপ করে গ্রেপ্তার হয়। তাই এখনকার সফরসঙ্গীদের মানুষ একটু সন্দেহের চোখেই দেখে।
DADA, APNI SUMONER LOBON KHEYE6EN … VALO