সুমিত চক্রবর্তী
কতদিন তাঁকে দেখা যায়নি। সিনেমায় তিনি নেই। ছোট পর্দায় তিনি নেই। রিয়েলিটি শো-তে তিনি নেই। মিটিং মিছিলে নেই। রাজ্যসভাতেও তিনি নেই।
এমনকি নিজের ছবির প্রোমোশনেও নেই।
কার্যত স্বেচ্ছা নির্বাসনই নিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সারদা কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে। সারদা থেকে যা নিয়েছিলেন, ইডি-কে সব টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যসভা থেকেও বহুকাল আগেই পদত্যাগ করেছেন। তবু কলঙ্ক এমন একটা জিনিস, একবার গায়ে লেগে গেলে সহজে ছাড়তেই চায় না।
তিন বছর আগে একটা ছবি মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু সে প্রায় সাত বছর আগে শুটিং। নতুন কোনও বাংলা বা হিন্দি ছবি থেকেও নিজেকে অনেক দূরেই রেখেছিলেন। এই ছবির ইতিহাসও কিছুটা সেই রকম। বছর ছয়েক আগেই শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছে। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজও প্রায় হয়েই গিয়েছিল। যে কোনও কারণেই হোক, মুক্তি পেতে চার বছর লেগে গেল।
আবার তাঁকে দেখা যাচ্ছে পর্দায়। কী আশ্চর্য! ছবিতেও তিনি লোকচক্ষুর অনেক আড়ালে। ছবির নাম- জলে জঙ্গলে। মানুষ নয়, তথাকথিত সভ্য জগৎ নয়, জল আর জঙ্গল নিয়েই যেন তাঁর সংসার। পরম বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন একটি কুমিরকে। সেই কুমিরই যেন তাঁর মানসপুত্র। সেই কুমিরকে তিনিই তৈরি করেছেন, তিনিই রক্ষা করছেন।
বলিউডে তাঁর থেকে বেশি আয়, এমন তারকার অভাব নেই। কিন্তু সবথেকে বেশি আয়কর কে দিয়েছেন ? পরপর চার বছর এই কারণেই রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলার এই অভিনেতা। অভিনেতা হিসেবে তিন তিনটে জাতীয় পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে। যা আর কো্নও বাঙালি অভিনেতা কখনও পাননি। না, উত্তম কুমারও নয়। বলিউডেও এই নজির খুব বেশি নেই। সেই মিঠুন অভিনয় থেকে দূরে থাকবেন ? যাঁর নামে কাকদ্বীপ থেকে কাটোয়া যাঁর নামে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসতেন, তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকবেন ?
এই ছবির তেমন পোস্টার পড়েনি। দেওয়ালের দখল নিয়েছে অ্যামাজন অভিযান আর ময়ূরাক্ষী। টিভি-র টক শো বা লাইভ ইন্টারভিউ কোথাও মিঠুন নেই। কাগজে কাগজে প্রিভিউ বা রিভিউও থাকবে না। তবু এই ছবির কোথাও একটা আলাদা তাৎপর্য থেকেই যাবে। এক নতুন পরিচালকের সাহসী ভাবনার জন্য। আরও এক সুপারস্টারের কামব্যাকের জন্য।

