যদি সত্যিই রতন টাটার প্রতি শ্রদ্ধা থাকত, তাহলে দাঁত কেলিয়ে তৃণমূলের মঞ্চে যেতেন না। ক্লাবটাকে শাসকদলের লেজুড়বৃত্তির আখড়া বানাতেন না। রতন টাটাকে সম্মানিত করার কোনও নৈতিক অধিকার এই ক্লাবের আছে! রতন টাটাকে সম্মানিত করব, আবার দাঁত কেলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চেও যাব, দু নৌকোয় পা দিয়ে চলা যায় না।
সিঙ্গুর সেদিন বোঝেনি। এখনও হয়ত বোঝেিন। কিন্তু একদিন সিঙ্গুরবাসী ঠিক বুঝবেন, তাঁদের আসল বন্ধু কে ছিল।
ভাবা যায়, দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা সম্মানের সঙ্গে দেশে থাকতে পারছেন না! যে দেশে জ্ঞানী–গুণীদের কদর নেই, সেই দেশে বোধ হয় এমনভাবেই বিপর্যয় নেমে আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তার একটা নমুনা মাত্র। কিন্তু এটা কি শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই সমস্যা? যেভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রমরমা বাড়ছে, আগামী দিনে অন্যান্য দেশেও এমন সমস্যা দেখা দেবে না তো? দেশের হয়ে খেলার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলাতেই বেশি আগ্রহ তৈরি হবে না তো! কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিশাল অঙ্কের টোপ। ক্রিকেটাররা মাথা ঠান্ডা রাখতে পারবেন তো?
নন্দ ঘোষের হাত থেকে কারও রেহাই নেই। প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি, তিনি সবার খুঁত ধরেন। এমনকী রবি ঠাকুর বা নেতাজিরও রেহাই নেই। তাহলে মহানায়কই বা বাকি থাকেন কেন? এত প্রশস্তির মাঝে না হয় একটু ভিন্ন সুর থাকল। পড়ুন নন্দ ঘোষের কড়চা।
হিন্দি ছবির দুনিয়ায় খুব একটা সফল হতে পারেননি। আসমুদ্র হিমাচল হয়ত তাঁকে সেভাবে চিনল না। বাঙালির মহানায়ক হয়েই থেকে গেলেন। কিন্তু যাঁরা চেনার, চিনতেন। অনুসরণ করতেন। তাই তাঁর অভিনীত বাংলা ছবিই কয়েক বছর পর হিন্দিতে হয়েছে। তাতে অভিনয় করেছেন দিকপাল অভিনেতারা। লিখেছেন বৃষ্টি চৌধুরি।
যাঁরা ডিম–ভাত নিয়ে দিনরাত কটাক্ষ করছেন, তাঁরা ভেবে দেখুন, এই বিষয়টা নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে নিজেদের প্রচারকে কত লঘু করে তুলছেন! কয়েক লাখ খরচের জন্য হইচই করতে গিয়ে কয়েকশো কোটিকে পেছনে ফেলে এলেন। কমরেড, ডিম–ভাতের বৃত্ত ছেড়ে এবার একটু বেরোন। ভাবুন, ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন।
পিছিয়ে নেই বেঙ্গল টাইমসও। নানা সময়ে উত্তম কুমারকে নিয়ে নানা আকর্ষণীয় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলি যেমন ফিরে দেখা, পাশাপাশি অনেক নতুন লেখার সম্ভার। সবমিলিয়ে পুরো সপ্তাহ জুড়েই উত্তম–উদযাপন। রোজ দুটি তিনটি করে ফিচার থাকবে। চাইলে, পাঠকেরাও তাঁদের অনুভূতি মেলে ধরতে পারেন। মহানায়কের বিশেষ কোনও দিক তুলে ধরতে পারেন।
উত্তম কুমারের মৃত্যুদিন বহুচর্চিত। কিন্তু জন্মদিন কেন সাদা কালো? উত্তমের নায়িকা বলতে সুচিত্রা বা সুপ্রিয়ার নাম ভেসে ওঠে। সাবিত্রীর মুখ কেন ভেসে ওঠে না? হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যদি পূব আকাশের উত্তমের গায়ক হন, যদি মাঝ আকাশে শ্যামল মিত্র–মান্না দে থাকেন, তাহলে শেষযাত্রার উত্তম কেন কিশোর কুমারে ভরপুর হবে না? তিন প্রশ্ন উস্কে দিলেন কুণাল দাশগুপ্ত।
মহানায়ককে ঘিরে এরকম নানা মিথ। অথচ, আসলটা একটু অন্যরকম। কেন মুম্বইয়ে সেভাবে সফল হতে পারেননি? কোন কোন সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন? কেন বড় পরিচালকদের সঙ্গে সেভাবে কাজ করা হয়ে ওঠেনি? উত্তম কুমার মানেই নাকি রোমান্টিক নায়ক। অথচ, কোথাও তিনি কমেডিয়ান, কোথাও খলনায়ক। কোথাও নায়কের বড়দা, কোথাও বাবা। শেষদিকে ‘নায়ক’ সুলভ ইমেজ ভেঙে বারবার বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। কিন্তু বাঙালি মনে রেখেছে সেই রোমান্টিক উত্তমকেই। মহানায়ককে ঘিরে এমন নানা প্রশ্ন। জুলাইয়ের শেষবেলায় এসে তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা বেঙ্গল টাইমসে। কিছু জানা, কিছু অজানা।
অমিত ভট্টাচার্য চেনা উত্তমকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন একেবারে অচেনা আঙ্গিকে। উত্তম নিজেও বোধ হয় সেটাই চেয়েছিলেন। তাই তাঁর তৈরি চারটি ছবিই একেবারে ভিন্নস্বাদের। বছর পাঁচেক আগেও এমন সময়েও বেঁচেছিলেন পরিচালক...