যাঁরা সঞ্চয় করছেন, সত্যিই তাঁরা নমস্য ব্যক্তি

আমরা হলাম সেই মধ্যবিত্ত, যারা দিনরাত মন্ত্রীদের গালমন্দ করি। এদিকে, নিজের ছোট্ট সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে উঠি। এদিক সামলাতে গিয়ে ওদিকটা বেসামাল হয়ে যায়। ছেলের আবদার মেটাতে গিয়ে বউয়ের ‌চাওয়াটার মূল্য দিতে পারি না। সারাক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বের রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কত জানা–‌অজানা ঠোক্কর খেয়ে বসি। একটা ছোট্ট ভুলের খেসারত হিসেবে আরও কত ভুলকে ডেকে আনি। যাঁদের ‘‌দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা, তাঁদের কথা বাদ দিন। যাঁরা মাস মাইনের চাকুরে, বাইরে থেকে দেখে যাঁদের আপাতভাবে সচ্ছল বলেই মনে হয়, তাঁদের সংসারে কখনও উকি দিযেছেন ?‌ তাঁর আয় হয়ত মাসে তিরিশ হাজার টাকা। আমরা ভেবে নিই,‌ মাস গেলে তিরিশ হাজার ঢুকছে, মাত্র তিনটি লোক, কী এমন খরচা!‌ নিশ্চয় অনেক টাকা জমেছে। কিন্তু তাঁর যে নাভিঃশ্বাস উঠছে, সে খবর কজন রাখি! রাজ্য সরকারী কর্মী, কেন্দ্রের কর্মী, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, যৌথ পরিবার, স্বামী–‌স্ত্রী দুজনের চাকরি, নিঃসন্তান, ছেলে–‌মেয়ে কলেজ পড়ুয়া। এমন নানা ‌দম্পতির সঙ্গে কথা বলা হল। সংসারের খরচের ছবিটা একটু বোঝার চেষ্টা। আসুন, টুকরো টুকরো খরচের হিসেবগুলোয় একটু চোখ মেলানো যাক। সব জায়গায় খরচগুলো একরকম নয়। শহরের সঙ্গে আধা শহরের ফারাক আছে। ছোট পরিবারের সঙ্গে বড় পরিবারের ফারাক আছে। রুচি ও অভ্যেসগত কারণেও ফারাক অনেকটা বেড়ে যায়। কোনও খরচটা একেবারেই অনিবার্য। আবার কোথাও কোথাও হয়ত একটু লাগাম টানা যায়। বিষয় ধরে ধরে একটু আলোচনা করা যাক।