পোস্ত বিক্রি আইনি, অথচ চাষ বেআইনি, এ কেমন আজব নিয়ম!

সজল মুখার্জি

বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় একটি খাদ্য পোস্ত। দক্ষিণবঙ্গে এটি চিকেন–‌মাটনের থেকেও বেশি প্রিয়। বাড়িতে কোনও অতিথি এলে মেনুতে পোস্ত থাকবেই। পোস্তো বড়া, পোস্ত বাটা, আলু পোস্ত, পেঁয়াজ পোস্ত, রুই পোস্ত, এমন কত লোভনীয় আয়োজন। কিন্তু এক কেজি পোস্ত কিনতে হয় হাজার টাকার বেশি দাম দিয়ে। এত দাম কেন হবে?‌

শোনা যায়, পোস্ত চাষ নাকি বেআইনি। কাগজে মাঝে মাঝেই খবর দেখি, পুলিশ দিয়ে পোস্ত গাছ নষ্ট করে দিয়ে আসছে। যখনই এই জাতীয় খবর কাগজে দেখি, মনের মধ্যে কতগুলো প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। বেঙ্গল টাইমসের মাধ্যমে সেই প্রশ্ন ও প্রস্তাব বিনীতভাবে তুলে ধরতে চাই।

posto

১)‌ পোস্ত তো আকাশ থেকে পড়ে না। কোনও কারখানাতেও হয় না। তার মানে, কোথাও না কোথাও চাষ হয়। তাহলে, সেখানে চাষ হওয়া আইনি, অথচ আমাদের রাজ্যে বেআইনি। এটা মাথায় ঢোকে না।
২)‌ প্রায় অধিকাংশ হাটমশলার দোকানেই পোস্ত পাওয়া যায়। শপিং মলেও পাওয়া যায়। অনলাইনেও পাওয়া যায়। লুকিয়ে চুরিয়ে নয়, একেবারে প্রকাশ্যেই। পোস্ত বিক্রি চলতে পারে। অথচ, পোস্তর চাষ চলবে না। এ কেমন নিয়ম?‌
৩)‌ পোস্তর এত দাম কেন?‌ সরষে, জিরে এসবের তো এত দাম হয় না। তার মানে, পোস্তর চাহিদা বেশি, জোগান কম। চাহিদা যখন বেশি, তখন জোগান বাড়াতে অসুবিধা কোথায়?‌ জোগান বাড়লেই দাম কমবে, এটাই তো অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম।
৪)‌ অনেকে বলবেন, এখান থেকে আফিম তৈরি হয়। এ তো ভাল কথা। এত দামী আফিম যদি পাওয়া যায়, সে তো উপরি পাওনা। ওষুধ তৈরি থেকে নানা কাজে সেই আফিম লাগতে পারে। বিদেশে পাঠানো হলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রাও আসতে পারে।
৫)‌ সেই আফিম ব্যবহার করে অনেকে নেশা করতে পারে। কীভাবে সরকার সেই আফিম বাজেয়াপ্ত করবে, সেটা সরকার ঠিক করে নিক। আফিম নিয়ে শুধু পোস্ত চাষিকে দিলেই হয়।

posto2
৬)‌ বেসরকারি জায়গায় হলে হয়ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তাই আপাতত সরকারি খামারেই না হয় পোস্ত চাষ শুরু হোক। সেখান থেকে কত আফিম হতে পারে, তার তো একটা ধারনা থাকবে। সেই আফিম সংগ্রহ করে নিলেই হল।
৭)‌ সমবায় পদ্ধতিতে চাষ হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজনের গ্রুপকে দায়িত্ব দেওয়া হল। আফিম সংগ্রহের জন্য আলাদা সরকারি টিম থাকল। বিঘা পিছু নির্দিষ্ট আফিম সংগ্রহ করে পোস্ত চাষির হাতে তুলে দেওয়াই যায়। এতে জোগান বাড়বে, দাম কমবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হবে।
৮)‌ ইদানীং বিভিন্ন জায়গায় আফিম ছাড়াও পোস্ত চাষ হচ্ছে। সেই পোস্ত এখানের মাটিতে পরীক্ষা করে দেখা যেতেই পারে।

যা যা আইনি জট আছে, তা আমলারা ছাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। অন্তত সরকারি খামারে পরীক্ষামূলকভাবে পোস্ত চাষ শুরু হোক।

Previous post স্মৃতিটুকু থাক
Next post বৃষ্টির মাঝে, সেই আগন্তুক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *