লোকসভা নির্বাচনে বামেদের অবস্থান কী হওয়া উচিত? কংগ্রেসের সঙ্গে জোট? নাকি নিজেদের শক্তিতে লড়াই। এই নিয়ে সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্ক বেঙ্গল টাইমসে। রোজ একটি বা দুটি করে লেখা প্রকাশিত হবে। আজ লিখলেন শিক্ষক সুমন ভট্টাচার্য।
লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজনৈতিক তর্ক–বিতর্ক বেড়ে যাবে। এর মধ্যেই বেঙ্গল টাইমস একটি বিতর্ক শুরু করে দিয়েছে। এই রাজ্যে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হওয়া বা না হওয়া নিয়ে। ওপেন ফোরামে পাঠকের মতামতও চাওয়া হয়েছে।
প্রথমেই বলে রাখি, আমি জোটের পক্ষে। অর্থাৎ, আমি চাই বাম ও কংগ্রেসের জোট হোক। যদিও বাধা অনেক। প্রশ্ন অনেক। আসুন, সেগুলো আগে দেখে নেওয়া যাক
১) সিপিএমের মধ্যেই দ্বিমত। অনেকেই জোটের বিরুদ্ধে। এটা শুধু রাজ্যের ব্যাপার নয়। পলিটব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটি এসব ব্যাপারও এসে যাবে। কেরলে বাম–কংগ্রেস লড়াই, অথচ এখানে আসন ভাগাভাগি। এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন দলের ভেতরেই উঠবে। অনেক খোঁচাও হজম করতে হবে।
২) সিপিএম যদিও একটা সিদ্ধান্তে আসে, শরিকদের নিয়ে আরও এক সমস্যা। তারা আসন ছাড়তে চাইবে না। নানারকম বিদ্রোহী বিবৃতি আসবে। তাঁদের রাজি করাতে অনেক কালঘাম ছুটবে।

৩) এরপর কংগ্রেসের নানা দাবি তো আছেই। অবাস্তব সব দাবি আসবে। হয়ত ৪২ এর মধ্যে ২২ খানা আসন চেয়ে বসবে। যুক্তি হিসেবে বলবে, বিধানসভায় আমরাই বিরোধী দল। আমাদের বিধায়ক বেশি। যদিও মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ছাড়া তেমন সংগঠন নেই। তবুও সব জেলাতেই আসনের আবদার থাকবে। নিজেরা দাঁড়ালে হয়ত দশ শতাংশ ভোটও আসবে না। তবু এই কথাগুলো মুখের ওপর বলা যাবে না। নানা দাবি হজম করতে হবে।
৪) মালদার দুই সাংসদ তো আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে জোট চেয়ে বসে আছেন। যে কোনও দিন তৃণমূলে চলে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা জানার পরেও তাঁদের আসন ছাড়তে হবে। এবং তাঁদের জেতানোর জন্য প্রাণপাত করতে হবে।
৫) রেজাল্টের পরেও রাহুলের কাছে বামেদের থেকে মমতার গুরুত্বই বেশি হবে। কারণ, মমতার সঙ্গে থাকবে সংখ্যা। আর সংসদীয় রাজনীতিতে নীতির চেয়েও, স্বচ্ছতার চেয়েও সংখ্যার গুরুত্ব সবসময় বেশি। মমতাকে খুশি করতে গিয়ে দিল্লির কংগ্রেসও বামেদের বিশেষ পাত্তা দেবে না।
এতকিছুর পরেও চাই বাম কংগ্রেস জোট হোক। জোট হলেও বামেরা খুব আসন পাবে, এমনটা না ভাবাই ভাল। খুব বেশি হলে দুটো বা তিনটে। তার বেশি পাওয়া সম্ভাবনা নেই। এমনকী, একটাও যদি না আসে, তাও অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং, বামেদের সমর্থন পেয়ে কংগ্রেস হয়ত তিন–চারটে আসন পেয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই জোট হলে তৃণমূলের আসন কিছুটা হলেও কমবে। বিজেপির দ্বিতীয় স্থানে আসা আটকানো যাবে। যার সুফল এখন পাওয়া যাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। সহজ কথা, তৃণমূল বিরোধী মূল শক্তি বিজেপি নয়, এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই কিছু বাড়তি ভোট এসে যাবে। ঠিক এটাই ঘটেছিল ২০১৬ তে। বাম–কং জোট জেতেনি ঠিকই, তবে একটা তীব্র লড়াই ছুঁড়ে দিয়েছিল। লোকসভাতেও তিরিশের বেশি আসনে তৃণমূল জিতবে, এই বাস্তবতাকে ধরে নিয়েই এগোতে হবে। তাছাড়া, জোট হলে রিগিং বা বুথ দখল খুব একটা সহজ হবে না। একটু হলেও টক্কর দেওয়া যাবে।
তাই, সব ছুৎমার্গ ঝেড়ে ফেলে জোটে সায় দেওয়া উচিত। সব খারাপ দিকগুলো মাথায় রেখেও জোটে যাওয়াই একমাত্র পথ।
(সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখন)
(জোটের পক্ষে বা বিপক্ষে আপনিও মতামত দিতে পারেন। সব ধরনের মতামতই স্বাগত। তবে তা যেন যুক্তিপূর্ণ ও শালীন হয়। আপনিও আপনার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরুন বেঙ্গল টাইমসে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: bengaltimes.in@gmail.com)
