বিরোধীতার নামে অক্সিজেন দেওয়া বন্ধ হোক

বিরোধীরা যেন দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন তাদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে। যে ফাঁদটা বিজেপি পাততে চাইছে, বাকিরা বুঝে হোক, না বুঝে হোক, সেই ফাঁদে পা দিয়ে চলেছেন। এরপরেও এঁদের বিচক্ষণ বলা যায়! লিখেছেন সুকান্ত পোদ্দার।

কবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে?‌ খোদ বিজেপি–‌র লোকেরাই হয়ত ভুলে গেছে। কিন্তু প্রতিবার সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে থাকে বিরোধীরা। তাঁরা সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কর্মসূচির নামে ফের একবার তারিখটা মনে করিয়ে দেয়। লাভ কতটা হয়, জানি না। বরং, সেই দিনটাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলা হয়। এতে বিজেপিই বোধ হয় কিছুটা অক্সেজেন পেয়ে যায়।

জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী পালনের একটা যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়। ঘটা করে মৃত্যু দিবস পালন করা মানে বারবার ক্ষতটাকে মনে করিয়ে দেওয়া। কোনও সন্দেহ নেই, দেশে ধর্মকে ঘিরে উন্মাদনা বাড়ছে। শাসক দল এটাই চায়। তারা নিজেদের যাবতীয় ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিতে মন্দির প্রসঙ্গ টেনে আনতে চায়। হিন্দু–‌মুসলিম এসব প্রশ্ন তুলে গুলিয়ে দিতে চায়। তাঁদের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত। এছাড়া তাঁদের পালাবার উপায়ও নেই।

rath jatra

কিন্তু খারাপ লাগে, যখন আমরা তাঁদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেলি। যেখানে উপেক্ষা করার দরকার, সেখানে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ফেলি। বিজেপির রথযাত্রাকে ঘিরে সেটাই হচ্ছে। বিজেপি সারা বছর ধরে নানা কর্মসূচি নিয়ে চলেছেন। নিজডেদের মতো করে নানা উস্কানি দিয়ে চলেছে। রথযাত্রাও তেমনই এক কর্মসূচি। হয়ত একটু বড় মাপের কর্মসূচি। হয়ত বড় বড় নেতারা আসতেন। হয়ত আরও বড় বড় কিছু কাট আউট টাঙানো হত। হয়ত, আরও কোটি কোটি টাকা খরচা হত।

কিন্তু তাকে এত ভয় পাওয়ার কীই বা আছে?‌ তৃণমূলও যেন পাল্টা ধর্মান্ধতার প্রচারে মেতে উঠল। কেউ খোল করতাল বিলি করতে লাগলেন। কেউ বললেন, রাস্তায় গোবর জল দিয়ে ধুইয়ে দেবেন। কেউ বললেন, পবিত্র যাত্রা করব। বামেরাও পিছিয়ে রইলেন না। তাঁরাও সম্প্রীতি মিছিল করলেন। অর্থাৎ, বিজেপির কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আরও বেশি করে আগ্রহ তৈরি করে দিলেন। যেটা নিছক একটা কর্মসূচি ছিল, সেটাকে অক্সিজেন দিয়ে কর্মযজ্ঞ বানিয়ে দিলেন। যেন ইতিহাসের পাতায় তাঁদের মিছিল নথিবদ্ধ রাখতেই হবে। কাগজে ছবি না থাকলে যদি তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

উপেক্ষাও একটা কৌশল। এই সহজ সত্যিটা তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝছেন না। বাম নেতৃত্বও বুঝছেন না। অহেতুক গুরুত্ব দিয়ে ফেলছেন। ফল যা হওয়ার, তাই হচ্ছে। বিজেপি বিরাট শক্তিশালী, তাদের রুখতে বাম–‌তৃণমূলকে এক হতে হচ্ছে, এরকম একটা বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কার লাভ?‌

আমিও বিজেপির রাজনীতির ভয়ঙ্কর বিরোধী। সেই কারণেই চাই, তাদের শক্তি কমুক। কিন্তু বিরোধীরা যেন দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন তাদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে। যে ফাঁদটা বিজেপি পাততে চাইছে, বাকিরা বুঝে হোক, না বুঝে হোক, সেই ফাঁদে পা দিয়ে চলেছেন। এরপরেও এঁদের বিচক্ষণ বলা যায়!‌

Previous post উত্তরের জঙ্গলে হতাশ করল বাঘশুমারি
Next post এগজিট পোল বুঝিয়ে দিল, হাওয়া কিন্তু ঘুরছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *