সকালে ভানু, বিকেলে উত্তম। একইদিনে বেঙ্গল টাইমসে দুই সাক্ষাৎকার। ভানু বলেছিলেন, ইস্টবেঙ্গলের জার্সি বদলাতে বললে নীতা আম্বানিরে জীবন্ত যমালয়ে পাঠাইয়া দিমু। মহানায়ক আবার মোহন–সমর্থক। তিনি আবার জিও মালকিনকে যমালয়ে আসতে দেবেন না। কেন? সেই কাল্পনিক সাক্ষাৎকার তুলে আনলেন ময়ূখ নস্কর।।
প্রশ্ন: উত্তমবাবু, নীতাজির কাজকর্ম সম্পর্কে আপনার কী মতামত?
উত্তম: নীতা খুব ভাল মেয়ে। সংসারের সব দায়িত্ব ওর কাঁধে। বোনের বিয়ে, দাদার কেরিয়ার, সব দায়িত্ব তার। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে...
প্রশ্ন: আপনার কি আজকাল গাঁজা–টাজা খাওয়ার অভ্যাস হয়েছে? কীসব ভুলভাল বলছেন?
উত্তম: বয়স্কদের সঙ্গে একটু সম্মান দিয়ে কথা বল। মেঘে ঢাকা তারা দেখিসনি। নীতার ভূমিকায় সুপ্রিয়া কী অভিনয়টাই না করেছিল। সেই সংলাপটা— দাদা, আমি বাঁচতে চাই। বেঁচেই তো আছে। হ্যাঁ রে, সুপ্রিয়া এখন কেমন আছে?
প্রশ্ন: আরে, এই নীতা সেই নীতা নয়। ইনি হলেন আম্বানি।
উত্তম: বাহ। সুপ্রিয়া জামদানি শাড়ি পরেছে? জামদানি পরলে ওকে খুব ভাল দেখায়।
প্রশ্ন: দূর বাবা, জামদানি নয়, আম্বানি। রিলায়েন্স শিল্পগোষ্ঠীর মালকিন নীতা আম্বানি।
উত্তম: তাই বল। ভানুর মুখে মেয়েটার কথা শুনছিলাম বটে।
প্রশ্ন: হ্যাঁ, ভানুবাবু সকালেই বেঙ্গল টাইমসকে একটা ইন্টারভিউ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রিলায়েন্সকে জীবন্ত অবস্থায় যমালয়ে পাঠিয়ে দেবেন।
উত্তম: ওরে বাবা। ভানু যেন ভুলেও এমন কাজ না করে। ওদের যা রকম সকম দেখছি, যমরাজের হাতে একটা জিও সিম দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলবে। তারপর স্বর্গে এসে আমাদের লাইফ হেল করে তুলবে। যার তার সঙ্গে সেলফি তুলবে। তারপর ছবি পোস্ট করে যাবে। একটু শান্তিতে থাকতেও দেবে না। আমাকে বানিয়ে দেবে ইস্টবেঙ্গল, ভানুকে বানিয়ে দেবে মোহনবাগান।
প্রশ্ন: উত্তমবাবু, আপনারা তো মরে ভূত হয়ে গেছেন। এখনও মোহনবাগান – ইস্টবেঙ্গল নিয়ে মাথা ঘামান?
উত্তম: ঘামাবো না? দেখ, যে বাঙালি জীবনে কখনও রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়নি, সে বাঙালিই নয়। তেমনি যে মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল নিয়ে মাথা ঘামায় না, সেও বাঙালিই নয়।
প্রশ্ন: এই মোহনবাগান –ইস্টবেঙ্গলকে শর্ত দিয়েছে নীতা আম্বানির কোম্পানি। বলেছে, ওরা দায়িত্ব নিয়ে স্পন্সর এনে দেবে। কিন্তু প্রয়োজন হলে ক্লাবের নাম, জার্সি, লোগো পাল্টাতে হতে পারে।
উত্তম: কে ওকে এত দায়িত্ব নিতে বলেছে? বেশি দায়িত্ব নিলে কী হয় জানিস তো? ওই মেঘে ঢাকা তারা সিনেমাতেই দেখ। সব দায়িত্ব নিতে গিয়ে নীতা মুখে রক্ত উঠে মরে গিয়েছিল। এখানেও না সেই কেস হয়। তখন আবার বলবে, দাদা, আমি বাঁচতে চাই। ওর বরের অনেক টাকা, ও না হয় বেঁচে যাবে। কিন্তু ফুটবলের বারোটা বেজে যাবে।
ওরা শুধু আই এস এলে খেলার সুযোগ দিক। তারপর দেখ, স্পন্সর আসে কি আসে না। আসলে, ওরা জানে, মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলের যা ঐতিহ্য, যা জনসমর্থন, তাতে স্পন্সরই এই দুটো ক্লাবের পেছন পেছন ঘুরবে। অন্যরা শুকিয়ে যাবে। তাই ওরা প্রথমেই এই ঐতিহ্য ও আবেগকে ধ্বংস করতে চাইছে। নাম, জার্সি পাল্টাতে চাইছে। যাতে অন্য ক্লাবগুলোর সাথে কোনও তফাত না থাকে।
প্রশ্ন: কিন্তু ওরা বলছে, শর্ত না মানলে আই এস এলে খেলতে দেবে না।
উত্তম: আমার ধন্যি মেয়ে সিনেমাটা দেখেছিস? সেখানে আমি হাড়ভাঙা ক্লাবের প্রেসিডেন্টকে বলেছিলাম, যতদিন আমার ভাইয়ের দুটো পা আছে, ততদিন অমন পাঁচ পয়সার শিল্ড আমি অনেক পাব। কিন্তু এমন বৌমা আর পাব না। সেইরকমই যতদিন মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল নাম দুটো আছে, ততদিন অমন পাঁচ পয়সার আই এস এল অনেক পাব। কিন্তু সবুজ মেরুন পতাকা, পালতোলা নৌকা, এগুলো গেলে আর পাব না।

প্রশ্ন: তাহলে কি দুই প্রধানের আই এস এলে খেলা হবে না?
উত্তম: হবে কিনা, তা জানি না। তবে এটা বলতে পারি, আই এস এলে না খেললেও মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল থাকবে। টিমটিম করে হলেও থাকবে। কিন্তু মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল না খেললে আই এস এল কয়েক বছরের মধ্যেই উঠে যাবে। সে জন্যই ওরা উঠে পড়ে লেগেছে। দায়টা আমাদের নয়, দায়টা ওদের।
প্রশ্ন: তাহলে আপনি ভানুবাবুর সঙ্গে একমত যে দুই প্রধানের উচিত ওই শর্ত ছুঁড়ে ফেলা?
উত্তম: আমি, ভানু, মান্নাদা, শচীন কর্তা সবাই একমত। এমনকী সুচিত্রাও সেদিন আমার পেছনে বাইকে ঘুরতে ঘুরতে বলল, আই এস এলে খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের নাম, জার্সি, লোগোতে টাচ করবে না।
প্রশ্ন: উত্তমবাবু, শেষ প্রশ্ন। মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলকে আই এস এল খেলতে না দিলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যাবে?
উত্তম: এত লাভ–ক্ষতি বুঝি না। অত আই এস এল–টাই এস এল্ও বুঝি না। আমরা ফুটবল বলতে মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলই বুঝি। রাতে স্বপ্ন দেখলে সেটাও মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলের স্বপ্নই দেখি। সেই স্বপ্নে যে বাধা দেবে, তার বিপদ আছে। ধন্যি মেয়েতে সাবিত্রী কেন খাট থেকে পড়ে গিয়েছিল, মনে আছে ?

