রাহুল বিশ্বাস
বামেরা বাংলা বনধ ডাকায় দিদিমণির খুব রাগ হয়েছে। দিদিমণির থেকে বেশি রাগ হয়েছে, ভাইদের। বনধ মানেই কর্মদিবস নষ্ট। সাধারন মানুষের দুর্ভোগ। কোনও ভাই বলছে, সারা ভারত নোট বাতিল হল, বনধ শুধু বাংলায় কেন? দিদির নিজের ভাইদের পাশাপাশি বিজেপি-তুতো ভাইরাও একই সুরে কথা বলছে। তারা মনে মনে চাইছে বনধ যেন ব্যর্থ হয়। তা হলে তারা জোর গলায় বলতে পারবে, মানুষ মোদির পাশেই আছে।
সব দেখে শুনে মনে কিছু প্রশ্ন জাগছে। ওই দিনেই, মানে বনধের দিনেই, দিদি কলকাতায় মহামিছিল করবেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রায় এক লাখ মানুষ দিদির সঙ্গে হাঁটবেন।
প্রশ্ন ১. এই যে এক লাখ মানুষ সব কিছু ফেলে মিছিল করবেন, এতে কর্ম দিবস নষ্ট হবে না?
প্রশ্ন ২. কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরে, উইক ডেজে, মুখ্যমন্ত্রী রাস্তা জুড়ে মহামিছিল করলে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ হবে না?
প্রশ্ন ৩. এর আগে বামেদের বনধ ব্যর্থ করার জন্য খুশি হয়ে দিদিমণি পঞ্চমীর দিন ছুটি দিয়েছিলেন। এবার বনধ ব্যর্থ হলে কী করবেন? বড়দিনের ছুটি একদিন বাড়িয়ে দেবেন? সেই ছুটিতে কর্মদিবস নষ্ট হবে না?
প্রশ্ন ৪. গতবারের বাড়তি ছুটিটা ছিল পঞ্চমীতে, মানে হিন্দুদের উৎসবে। বিজেপি ভাইরা সেক্ষেত্রে কোন প্রতিবাদ করেনি। এবার খ্রিস্টানদের উৎসবে বা মুসলমানদের উৎসবে বাড়তি ছুটি দিলে বিজেপি কী করবে?
প্রশ্ন ৫. বিজেপি ভাইদের আরও একটা প্রশ্ন, এই যে দেশের মানুষ দিনের পর দিন কাজকর্ম ফেলে ব্যাঙ্কের বাইরে লাইন দিয়ে পড়ে আছে, এতে কর্মদিবস নষ্ট হয় না? মানুষের দুর্ভোগ হয় না?
ফেসবুকে বামদের চিমটি কাটার আগে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভেবে বসবেন.

