তিনি কোনও সাহিত্যিক নন। জীবনে একটাও গল্প বা উপন্যাস লেখেননি। কবিতা বা ভ্রমণ কাহিনিও লেখেননি। গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও লেখেননি। কিন্তু তারপরেও গত তের–চোদ্দ বছরে যে সব বইকে নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হয়েছে, সেই তালিকায় নিশ্চিতভাবেই তাঁর বইয়ের নাম থাকবে। সেই বই কত কপি বিক্রি হয়েছে, বলা মুশকিল। কিন্তু যত কপিই বিক্রি হোক, পড়েছেন তার থেকে অনেকগুন বেশি লোক।
এই সিবিআই কে চালায়? তৃণমল চালায় না। সিপিএম চালায় না। কংগ্রেসও চালায় না। দেশের সবথেকে অপদার্থ একটি সংস্থার দায়িত্বে এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনিই সিবিআই–কে এমন হাস্যকর জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি নাকি আয়রন ম্যান। তিনি নাকি চানক্য। তিনি নাকি দারুণ সাহসী। তাহলে সিবিআই মাসের পর মাস ঘুমিয়ে থাকে কেন? সত্যি করে বলুন তো, এমন ব্যর্থ এবং এমন ভীতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দেশ কখনও দেখেছে? এমন সীমাহীন ব্যর্থতার পর তিনি কিনা এই রাজ্যে এসে কর্মীদের চাঙ্গা করেন।
আবার প্রমাণিত হবে, সিবিআই আসলে ছড়িয়ে লাট করেছে। তাঁদের বাঁচানোর লোকেরা যতদিন থাকবেন, সিবিআই সত্যিই কিছু করে উঠতে পারবে না। চার্জশিটে দু চার লাইনের ফুটনোট দেওয়া হবে। বড়জোর টিভি চ্যানেলকে আলোচনার একটু খোরাক দেওয়া হবে। এর বেশি সিবিআইয়ের কিছুই করার নেই। অন্তত গত দশ বছরে তাদের যা ধারাবাহিকতা, তাতে কোনও প্রত্যাশা না রাখাই ভাল।
মনে মনে ক্ষুব্ধ হতেই পারেন। কিন্তু কিছুই করার নেই। অপমানিত হয়েও দলেই থাকতে হবে। হাতে পুলিশ না থাকলে, পাশে পিসি না থাকলে তাঁর কোনও মূল্যই নেই, গত কয়েক মাসে এটুকু অন্তত প্রমাণিত। এতদিন যাঁরা গ্যাস দিতেন, তাঁরা কী বেমালুম কেটে পড়েছেন। স্বপ্নের উড়ান থেকে আপাতত বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে। তিনি নিছক একজন সাংসদ, এই তকমা নিয়েই আপাতত ঘাপটি মেরে থাকতে হবে। পরে ‘সুসময়’ আসতেই পারে। আবার সর্বেসর্বা হয়ে উঠতেই পারেন। কিন্তু আপাতত অচ্ছুৎ হয়েই থাকতে হবে।
আচ্ছা, রাজ্য পুলিশ যখন প্রমাণ লোপাট করে, তখন রাজ্য সরকারের সমালোচনা করি কেন? কারণ, রাজ্য পুলিশ সরকারের নির্দেশেই চলে। ঠিক তেমনই, সিবিআই–কে যা নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা ঠিক সেটাই করে। কোন তদন্ত কতদূর এগোনো যাবে, কোন স্তর পর্যন্ত গিয়ে থেমে যেতে হবে, এটা তাঁরা বিলক্ষণ বোঝেন।
সিবিআই–কে যেন কে চালান?
আচ্ছা, চন্দ্রিমা কি ক্যাবিনেট মন্ত্রী? উত্তর হল, ‘না’। তাহলেই ভেবে দেখুন, যিনি বাজেট পেশ করলেন, যাঁর হাতে রয়েছে অর্থ দপ্তর, তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীই নন। রাজ্যে প্রায় তিরিশজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী আছেন। সেই তালিকায় চন্দ্রিমার নাম নেই। অথচ, তিনি কিনা অর্থমন্ত্রী।
হাওড়া থেকে পুরুলিয়া আসার একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেন হাওড়া–পুরুলিয়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। ট্রেনটি হাওড়ায় ছাড়ার কথা বিকেল ৪টে ৫০ নাগাদ। পুরুলিয়ায় ঢোকার কথা রাত ১০টা ৪০ নাগাদ। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে এই...
সঞ্জয় যদি ফাঁসিতে ঝুলে পড়ে, তাহলে অনেকের অনেক সুবিধা হয়। রাজ্য সরকার ও সিবিআই— দুই চূড়ান্ত অপদার্থ সংস্থাই দু’হাত তুলে উদ্বাহু নৃত্য করতে পারবে। নিজেরাই নিজেদের সাফল্যের ঢাক বাজাবে। আর অন্তত বড় সড় দুর্নীতি বেরিয়ে আসার তেমন সুযোগ থাকবে না। আরও কারা কীভাবে জড়িত, এই ব্যাপারে যে মানুষটা সবথেকে বড় সাক্ষী হয়ে উঠতে পারত, সে যদি ফাঁসি কাঠে ঝোলে, তাহলে আর চিন্তা কী?
অনেককে বলতে শুনি, সিবিআই–এর ওপর আস্থা আছে। সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা আছে। এর চেয়ে ভন্ডামি আর কিছু হয় না। কেন আস্থা আছে, বুঝি না। লোকদেখানো দু একটা চুনোপুঁটি ধরা আর গ্যালারি শো করা ছাড়া আস্থা অর্জনের জন্য সিবিআই কী এমন করেছে? কেন আমরা জোর গলায় বলতে পারি না, সিবিআই–এর প্রতি এতটুকুও আস্থা নেই। সিবিআই আগে আস্থার যোগ্য হয়ে উঠুক।
সবাই সবকিছু বোঝে। কাউকে কিছু বোঝাতে যাবেন না। আপনি যেটা ফেসবুক দেখে জেনেছেন, সেই মানুষটা সেটা জেনেছেন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। রাস্তায় নামা, গণ আন্দোলন গড়ে তোলা। এগুলো তো অনেক বড় ব্যাপার। আগে এই ছোট ছোট কাজগুলো শুরু হোক। শূন্যের গেরো এমনি এমনি কাটবে না। কাজটাও সেই শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।